অক্টোবর ২০, ২০২০ ১৬:১০ Asia/Dhaka

শ্রোতা ভাই ও বোনেরা, আপনাদের সবাইকে অনেক অনেক প্রীতি ও শুভেচ্ছা জানিয়ে শুরু করছি চিঠিপত্রের আসর প্রিয়জন। আশা করছি বাংলাদেশ ও ভারতসহ পৃথিবীর যে প্রান্তে বসেই আমাদের অনুষ্ঠান শুনছেন না কেন- সবাই ভালো ও সুস্থ আছেন। আজও প্রিয়জন উপস্থাপনায় রয়েছি আমি নাসির মাহমুদ, আমি আকতার জাহান এবং আমি আশরাফুর রহমান।

আশরাফুর রহমান: আসরের শুরুতেই থাকছে যথারীতি একটি হাদিস। বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, "সব কিছুরই একটা চেহারা রয়েছে। ইসলামের চেহারা হল নামাজ। এই চেহারার পূর্ণতা ও সৌন্দর্য ধরে রাখার চেষ্টা কর।"

আকতার জাহান: খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি হাদিস শুনলাম। আমরা সবাই প্রকৃত নামাযী হওয়ার চেষ্টা করব- এ প্রত্যাশা রেখে নজর দিচ্ছি চিঠিপত্রের দিকে। আসরের প্রথম চিঠিটি এসেছে বাংলাদেশের রাজবাড়ি জেলার খোশবাড়ি গ্রাম থেকে। আর পাঠিয়েছেন শ্রোতাভাই শাওন হোসাইন। তিনি লিখেছেন, "আমি বিশ্বের বেশ কয়েকটি বেতার কেন্দ্রের একজন নিয়মিত শ্রোতা। কিন্তু একজন মুসলিম হিসেবে রেডিও তেহরানের অনুষ্ঠান শুনে আমি যে তৃপ্তি অনুভব করি তা অন্য কোনো গণমাধ্যমে খুঁজে পাই না। রেডিও তেহরানের অনুষ্ঠান শুরু হয় পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে যা আমার মনকে প্রশান্তি দেয়।" চিঠির একাংশে তিনি 'আধুনিক বিজ্ঞানে ইরানের অবদান' শীর্ষক একটি অনুষ্ঠান চালুর প্রস্তাব দিয়েছেন।

নাসির মাহমুদ: ভাই শাওন হোসাইন, আপনার প্রস্তাবটি আমাদের বিবেচনায় থাকল। মতামতসমৃদ্ধ চমৎকার এই চিঠির জন্য আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।

বাংলাদেশের কিশোরগঞ্জের খড়ম পট্টি থেকে শরিফা আক্তার পান্না লিখেছেন পরের চিঠিটি। ৯ সেপ্টেম্বর প্রচারিত সবগুলো অনুষ্ঠান ভালো লেগেছে জানিয়ে তিনি লিখেছেন,  স্বাস্থ্যকথা অনুষ্ঠানে জাতীয় ক্যান্সার ইন্সটিটিউটের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ড. খাদিজা রহমান সোনিয়ার আলোচনা থেকে জানতে পারলাম যে, আর্সেনিক কখনই বিনষ্ট হয় না, এর কোনো ক্ষয় নাই। আর্সেনিকযুক্ত পানি ব্যবহার করলে তা শরীরে জমা হতে থাকে। তাই দীর্ঘদিন আর্সেনিকযুক্ত পানি ব্যবহার করলে চামড়া ক্ষতিগ্রস্ত হয়, বিপাকক্রিয়া নষ্ট হয়, আরো নানাবিদ সমস্যা দেখা যায়। তাই আমাদের সবারই উচিত আর্সেনিকমুক্ত পানি ব্যবহার করা। জনসচেতনতামূলক অনুষ্ঠানটির জন্যে রেডিও তেহরান বাংলা বিভাগকে ধন্যবাদ জানাই।

আশরাফুর রহমান: বোন শরিফা আক্তার পান্না, স্বাস্থ্যকথা অনুষ্ঠান থেকে উপকৃত হয়েছেন জেনে ভালো লাগল। আশা করি নিয়মিত চিঠি লিখবেন।

ভারতের ছত্তিশগড়ের দুর্গ জেলা থেকে আনন্দ মোহন বাইন লিখেছেন পরের মেইলটি। রংধনু আসরের প্রশংসা করে তিনি লিখেছেন, বাদশা ও তার ছেলে জামশিদের গল্প থেকে অনেক কিছু শেখার আছে। গাজী আব্দুর রাশিদ ও বোন আক্তার জাহান  রূপকথাটি যেভাবে পরিবেশন করলেন তার তুলনা হবে না। রেডিও তেহরান ছোটদের জন্য এই অনুষ্ঠান প্রচার করে কিন্তু শুনতে শুনতে আমরাও ছোট হয়ে যাই। অনুষ্ঠানে প্রচারিত গানটিও খুব ভালো লাগল। সত্যি কথা বলতে কী, আমার মনে হয় রংধনু প্রিয়জন থেকে বেশি জনপ্রিয়।

আকতার জাহান: শ্রোতাবন্ধু আনন্দ মোহন বাইন, রংধনু আসর আপনার ভালো লাগছে জেনে আমাদেরও ভালো লাগছে। অনুষ্ঠানটি সম্পর্কে আপনার পরিবারের ছোট্টবন্ধুদের মতামতও আমাদেরকে লিখে জানাবেন- কেমন!

বাংলাদেশের গাজীপুরের টঙ্গীর সফিউদ্দিন সরকার একাডেমী এন্ড কলেজের প্রভাষক ফিরোজ আলম লিখেছেন এবারের চিঠিটি। তিনি লিখেছেন, রেডিও তেহরান যেন সকল শ্রোতার প্রিয়জন। যেমনটি অতীতেও ছিল, এখনও আছে আর ভবিষ্যতেও থাকবে। শ্রোতাদের এত আপন করে নিতে পারে এমন বেতারকেন্দ্রের কথা বললেই এক নম্বরে উঠে আসে রেডিও তেহরান। আর হবেইবা না কেন? শ্রোতাদের চিঠিপত্রের আসরের নাম যে 'প্রিয়জন'। শ্রোতাদের সাথে যোগাযোগের এক অসাধারণ অনুষ্ঠান এটি।

নাসির মাহমুদ: চিঠির শেষাংশে ফিরোজ আলম ভাই লিখেছেন, শ্রোতাদের মাঝে ইরান সম্পর্কে জানার আগ্রহ অনেক বেশি। আর রেডিও তেহরান বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তা জানার সুযোগও দেয়। এর বাইরেও 'শ্রোতাদের জিজ্ঞাসা' নিয়ে মাসে অন্ততঃ একটি প্রিয়জন করার অনুরোধ রইল।

আশরাফুর রহমান: রেডিও তেহরান সম্পর্কে এমন মূল্যায়ন নিঃসন্দেহে আমাদের প্রেরণা যোগায়। 'শ্রোতাদের জিজ্ঞাসা' নামে আলাদা প্রিয়জন প্রচারের প্রস্তাবটি আমরা ভেবে দেখব। চিঠি ও মতামতের জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানার আলী সাহারদির শিক্ষার্থী শ্রোতা পরিষদের প্রেসিডেন্ট সাঈফ আহমেদ উৎস পাঠিয়েছেন এবারের চিঠিটি। প্রীতি ও শুভেচ্ছা জানানোর পর তিনি লিখেছেন- রেডিও তেহরানে বাংলা অনুষ্ঠান- বর্তমান সময়ে একটি অনন্য সাধারণ গণমাধ্যম। মুসলিম বিশ্বের ঐক্যের প্রতীক। জীবন শৈলীর ৪০তম পর্বে মানব জীবনে ইন্টারনেট তথা ভার্চুয়াল জগতের প্রভাব বিষয়ে জেনে ভীষণ উপকৃত হলাম। সবশেষে এ শ্রোতাবন্ধু জানতে চেয়েছেন- ইরানিরা সকাল, দুপুর ও রাতে সাধারণত কি ধরনের খাবার খেয়ে থাকে?

আকতার জাহান: এ প্রশ্নটির উত্তরের দেওয়ার জন্য স্টুডিওতে আমন্ত্রণ জানিয়েছি আমাদের প্রযোজিকা খনমে হুসেইনিকে। তাহলে তার কাছ থেকেই উত্তরটি জানা যাক।

 

আশরাফুর রহমান: ভাই সাঈফ আহমেদ উৎস, আপনার প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হলো। আশা করি আপনার কৌতুহল মিটেছে।  

আসরের পরের মেইলটি পাঠিয়েছেন কিশোরগঞ্জের গুরুদয়াল কলেজের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোঃ শাহাদত হোসেন। প্রীতি ও শুভেচ্ছা জানাবার পর তিনি লিখেছেন, ৮ সেপ্টেম্বর রেডিও তেহরানের সান্ধ্য অধিবেশনের  শেষ প্রান্তিকে প্রচারিত 'ইরানের পণ্য সামগ্রী' অনুষ্ঠানটি খুব ভালো লেগেছে। এতে সিমেন্টের গুরুত্ব এবং ইরানের সিমেন্ট শিল্প নিয়ে আলোচনা করা হয়। অনুষ্ঠানটি ছিল খুবই শিক্ষণীয় ও উপভোগ্য। এ অনুষ্ঠান থেকে সিমেন্ট কী, সিমেন্টের উৎপাদন প্রক্রিয়া এবং ইরানের সিমেন্ট শিল্প সম্পর্কে জানতে পেরে খুব ভালো লেগেছে।

আকতার জাহান: ইরানের সিমেন্ট শিল্প নিয়ে আলোচনাটি আপনার ভালো লাগায় আমাদেরও ভালো লেগেছে। নিয়মিত মতামত জানানোয় আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।

আমাদের অনুষ্ঠান সম্পর্কে শ্রোতাবন্ধুদের মতামতসমৃদ্ধ বেশকিছু চিঠি পড়া হলো। এবার আমরা সরাসরি মতামত জানব বাংলাদেশি শ্রোতাবন্ধু মোজাম্মেল হকের।

 

আকতার জাহান: ফরিদপুর জেলার আলফাডাঙ্গা থানার আনসার ও ভিডিপি শ্রোতা  ক্লাবের সভাপতি মো: লাল মিয়া পাঠিয়েছেন পরের মেইলটি। তিনি লিখেছেন, আমি রেডিও তেহরান বাংলা বিভাগের নিয়মিত শ্রোতা। আমি মনে করি যে, 'বেতার আমার প্রাথমিক বিদ্যালয়'। কিন্তু এখন দেখি রেডিও তেহরান আমার ইহকাল ও পরকালের পথনির্দেশক।

রেডিও তেহরানের ‘ইরান ভ্রমণ’ অনুষ্ঠানটি আমার অত্যন্ত প্রিয়। এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ইরানের নানা অলি-আউলিয়ার জীবন সম্পর্কে যেমন জানতে পারি ঠিক তেমনই ইরানের নানা প্রদেশকে জানতে পারি। ইরান এমন একটি ইসলামি দেশ যার রয়েছে ইসলামি  ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য  যা একজন মুসলিম হিসেবে জানা প্রয়োজন।  

নাসির মাহমুদ: ভাই লাল মিয়া, ইরান ও রেডিও তেহরান সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন জেনে ভালো লাগল। আশা করি চিঠি লেখা অব্যাহত রাখবেন।

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার ভালবাসি রেডিও শ্রোতা ক্লাব থেকে এম. জামাল আহমেদ সুবর্ণ পাঠিয়েছেন এই মেইলটি। তিনি লিখেছেন, "রেডিও তেহরান বর্তমান সময়ে এসে শ্রোতাদের কাছে বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং শ্রোতাদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা ছড়িয়ে দিয়েছে। রেডিও তেহরানের বিশেষ আয়োজন শ্রোতাদের মতামতগুলোকে ওয়েবসাইটে প্রকাশ করায় শ্রোতাদেরকে রেডিও তেহরানের প্রতি বিশেষভাবে আকর্ষণ করছে। তাছাড়াও রেডিও তেহরানের প্রিয়জন আসরে বিভিন্ন অঞ্চলের শ্রোতাদের সাক্ষাৎকারমূলক অনুষ্ঠান করার জন্য আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। শ্রোতাদের মধ্যে রেডিও তেহরান এভাবেই এগিয়ে যাক শীর্ষস্থানের লড়াইয়ে এবং প্রতিটি শ্রোতার হৃদয়ে জায়গা দখল করুক এই শুভকামনা জানাই।" সবশেষে এ শ্রোতাভাই বাংলাদেশে একটি শ্রোতা সম্মেলন করার প্রস্তাবনা দিয়েছেন।  

আশরাফুর রহমান: ভাই জামাল আহমেদ সুবর্ণ, রেডিও তেহরান সম্পর্কে আপনার মতামত আমাদের অনুপ্রাণিত করেছে। আর শ্রোতা সম্মেলনের বিষয়টি আমাদের বিবেচনায় রয়েছে। চিঠি লেখার জন্য আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।

পঞ্চগড় জেলার দশমাইলের মুক্তাঞ্চল বেতার শ্রোতা ক্লাব থেকে মোঃ জুয়েল লিখেছেন পরের চিঠিটি। আমি তার চিঠির কিছু অংশ হুবহু পড়ে শোনাচ্ছি। তিনি লিখেছেন, "আমি রেডিও তেহরানের একজন ক্ষুদে শ্রোতা। চলতি বছরের জুন মাস থেকে আমি রেডিও তেহরানের অনুষ্ঠান শোনা শুরু করি এবং নিয়মিত শুনে আসছি। আমার কাছে রেডিও তেহরানের বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ বেশ ভালো লাগে, ভালো লাগে উপস্থাপকদের মধুর কণ্ঠের উপস্থাপনা, ভালো লাগে বিজ্ঞ শ্রোতাদ‍ের পাঠানো মতামত। আর এসব ভালো লাগে বলেই শত ব্যস্ততার মাঝেও নিয়মিত শুনি রেডিও তেহরানের অনুষ্ঠান। আমি আশা করছি রেডিও তেহরানের এই ধারা অব্যাহত থাকবে।"

আকতার জাহান: রেডিও তেহরানের সংবাদ ও অনুষ্ঠানমালা আপনার ভালো লাগছে জেনে আমাদেরও ভালো লাগছে। আশা করি নিয়মিত মতামত জানাবেন।

আসরের শেষ চিঠিটি এসেছে বগুড়ার চাঁদনী বাজার থেকে। আর পাঠিয়েছেন সাইফুল ইসলাম। ৩ সেপ্টেম্বর শিশু কিশোরদের অনুষ্ঠান রংধনু আসর শোনার পর তিনি লিখেছেন, এ আসরটি শুধু শিশু কিশোরদের নয়, আমি মনে করি আমার মতো অন্যান্য শ্রোতা বন্ধুদের ও ভীষণ পছন্দের একটি আসর।

যা হোক, গত ৩রা সেপ্টেম্বরের এ আসরে শুনলাম হাতিকে নিয়ে চমৎকার দুটি গল্প। গল্প দুটি ভীষণ ভালো লেগেছে আমাকে। এমনকি অনুষ্ঠানের ফাঁকে যে ছড়াগানটি এদিন বাজানো হয় তাও ছিল হাতিকে নিয়ে। ভীষণ ভীষণ ভালো লেগেছে এই দিনের আসরটি। অজস্র ধন্যবাদ এজন্য উপস্থাপকদ্বয়কে এবং রেডিও তেহরানকে।  

নাসির মাহমুদ: রংধুন অনুষ্ঠান সম্পর্কে আপনার ভালোলাগার অনুভূতি জেনে আমাদেরও ভালো লাগছে। চিঠি লেখার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

আসরের এ পর্যায়ে কয়েকজন শ্রোতার চিঠির প্রাপ্তিস্বীকার করব যারা বিভিন্ন বিষয়ে মতামত জানিয়েছেন। তবে সময়ের স্বল্পতার কারণে তাদের চিঠি পড়ে শোনানো সম্ভব হচ্ছে না।

  • গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী থেকে সাজিদুল ইসলাম
  • ঢাকার গেন্ডারিয়া থেকে মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান   
  • মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ার গন্তব্য শ্রোতা সংঘ থেকে ফারিয়া খানম মুমু
  • এবং জয়ন্ত চক্রবর্তী লিখেছে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি থেকে।

আশরাফুর রহমান: আজকের আসর শেষ করব একটি গান দিয়ে। করোনাভাইরাস নিয়ে এ গানটি লিখেছেন শিল্পী হায়দার হোসেন।  

আকতার জাহান: তো শ্রোতাবন্ধুরা, আপনারা গানটি শুনতে থাকুন আর আমরা বিদায় নিই প্রিয়জনের আজকের আসর থেকে।#  

পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/২০

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।

ট্যাগ

মন্তব্য