ডিসেম্বর ১৯, ২০২০ ১৭:০৭ Asia/Dhaka

শ্রোতা/পাঠক!১৯ ডিসেম্বর শনিবারের কথাবার্তার আসরে স্বাগত জানাচ্ছি আমি গাজী আবদুর রশীদ। আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। আসরের শুরুতে ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম তুলে ধরছি। এরপর গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খবরের বিশ্লেষণে যাবো। বিশ্লেষণ করবেন সহকর্মী সিরাজুল ইসলাম।

বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ খবরের শিরোনাম:

'ভাস্কর্য অবমাননার মূল পরিকল্পনাকারী ও কুশীলব বিএনপি'-কাদের -ইত্তেফাক

বাঘা যতীনের ভাস্কর্য ভাঙচুর: মূলপরিকল্পনাকারী যুবলীগ নেতাসহ গ্রেফতার ৩ –যুগান্তর

দেশ ক্রান্তিকাল অত্রিকম করছে-ড.কামাল-মানবজমিন

মিয়ানমারে ধর্ষণ,তিন সেনার ২০ বছরের কারাদণ্ড-বাংলাদেশ প্রতিদিন

'এই সরকার ক্ষমতায় থাকলে স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব থাকবে না'-রিজভী -কালের কণ্ঠ

জয়পুরহাটে ট্রেন-বাস সংঘর্ষে নিহত ১২-সমকাল

এবার ভারতের কয়েকটি খবরের শিরোনাম:

অমিতের হুঙ্কার,‘তৃণমূলে একা থাকবেন দিদি,২০০শর বেশি আসন পাবে বিজেপি-আনন্দবাজার পত্রিকা

বিজেপিতে যোগ শুভেন্দু অধিকারী সহ একঝাঁক সাংসদ, বিধায়কের-আজকাল

ভারতের প্রতি বিশ্ববাসীর অনীহা বদলে গিয়েছে আগ্রহে, দাবি প্রধানমন্ত্রীর-সংবাদ প্রতিদিন

শিরোনামের পর এবার দুটি বিষয়ের বিশ্লেষণে যাব।

কথাবার্তার বিশ্লেষণের বিষয়:

১. বিপ্লবী বাঘা যতীনের ভাস্কর্য ভাঙচুর; কুষ্টিয়ায় যুবলীগ নেতাসহ গ্রেপ্তার ৩। আজকের অনেক মিডিয়ায় এ খবর এসেছে। কী বলবেন আপনি?

২. সৌদি আরবকে পাকিস্তান ঋণের ১০০ কোটি ডলার ফেরত দিয়েছে। সৌদি আরব পাকিস্তানের ওপর অর্থ ফেরত দেয়ার বিষয়ে নজিরবিহীনভাবে চাপ সৃষ্টি করলে ইসলামাবাদ এ পদক্ষেপ নেয়। প্রশ্ন হচ্ছে- এতে দু দেশের সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হবে কিনা?

বিশ্লেষণের বাইরে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খবর

'ভাস্কর্য অবমাননার মূল পরিকল্পনাকারী ও কুশীলব বিএনপি'-কাদের- ইত্তেফাক

নির্বাচনে জয়ী হওয়ার জন্য নয়,বিএনপি নির্বাচনে অংশ নেয় নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ওবায়দুল কাদের। শনিবার সকালে নওগাঁ জেলার মান্দা উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন।

সরকার নাকি দেশকে বিরোধী দলহীন করার চেষ্টা করছে, বিএনপির অভিযোগ প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, প্রকৃতপক্ষে গণতন্ত্রের অব্যাহত এগিয়ে যাওয়ার পথ আরও মজবুত করতে সরকার শক্তিশালী এবং দায়িত্বশীল বিরোধী দল চায়।

শেখ হাসিনা সরকার সমালোচনায় ভয় পায় না জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, তিনি গঠনমূলক সমালোচনাকে স্বাগত জানায়। তিনি বলেন অপরাজনীতির জন্যই জনগণ বিএনপিকে প্রত্যাখ্যান করেছে। নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার মাধ্যমে বিএনপি প্রকারান্তরে নিজেরাই নিজেদের পায়ে কুড়াল মারছে বলেও মন্তব্য করেন ওবায়দুল কাদের।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, বিএনপি মহাসচিবের উদ্দেশ্যে বলেন, দেশে এখন দুর্দিন নেই,ভয়াবহ দুর্দিন চলছে আপনাদের (বিএনপির) রাজনীতিতে। আর খাদ্যমন্ত্রী বলেছেন, দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণ করা হবে।

'এই সরকার ক্ষমতায় থাকলে স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব থাকবে না'-রিজভী-কালের কণ্ঠ

রাজনৈতিক মহামারি চলছে মন্তব্য করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, 'এই সরকার ক্ষমতায় থাকলে স্বাধীনতা থাকবে না সার্বভৌমত্ব থাকবে না আমরা মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারবো না।'

শনিবার (১৯ ডিসেম্বর) দুপুরে রাজধানীর গার্ডেন রোড এলাকায় ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে স্বেচ্ছাসেবক দল ঢাকা মহানগর উত্তরের নেতা আজিজুর রহমান মুসাব্বিরের উদ্যোগে দুস্থ ও অসহায়দের শীতবস্ত্র বিতরণকালে তিনি এসব কথা বলেন।

কথা বলা যায় না অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা যায় না দাবি করে রিজভী বলেন, আমরা অত্যন্ত দুঃসময় পার করছি। কঠিন দুঃসময়। কথা বলা যায় না। কোনো সমাবেশ করা যায় না কোনো মিটিং করা যায় না। কথা বললেই মিথ্যা মামলা দিয়ে দেবে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এমন পরিস্থিতিতে দেশ চলতে পারে না।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে রিজভী বলেন, জনগণের পাশে থেকে আমাদেরকে আরো প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। প্রতিরোধ গড়ে তুলতে না পারলে কারো কোনো জীবনের নিরাপত্তা নেই। কারো সন্তানের কোনো নিরাপত্তা নেই। যেকোনো সময় যে কেউ গুম হতে পারে, বিচারবহির্ভূত হত্যা হতে পারে। একটা ছেলে মিছিল করলে তাকে পুলিশ গুলি করে হত্যা করবে কেউ কিছুই বলবে না।

সীমান্ত হত্যাকাণ্ড নিয়ে সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, 'আমাদের লোক মারা যায় অথচ আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন আমাদের দেশের দুষ্ট ছেলেরা অস্ত্র নিয়ে যায় বলে বিএসএফ গুলি করে মারে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের মানুষকেই ধিক্কার দিচ্ছে অথচ যারা গুলি করে মারে তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে পারে না।' 

বিএনপির এই শীর্ষনেতা বলেন, করোনা ভাইরাসে গোটা জাতি থর থর করে কাঁপছে। হাসপাতালে সিট নেই, অক্সিজেন নেই। আইসিইউতে বেড নেই। মফস্বলে আরো ভয়ঙ্কর অবস্থা। কারো যদি করোনা সন্দেহ হয় সেটি টেস্ট করে রেজাল্ট বের করতে সময় লাগে ৪৮ ঘণ্টা। এর মধ্যে রোগীর অবস্থা খারাপ হয়ে যায়। রোগীর জন্য যে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দরকার ওষুধ দরকার সেটার কোনো ব্যবস্থা নেই। আজকে ঢাকা শহরের কোনো হাসপাতালে আইসিইউ বেড নেই।

বাঘা যতীনের ভাস্কর্য ভাঙচুর: মূলপরিকল্পনাকারী যুবলীগ নেতাসহ গ্রেফতার ৩-যুগান্তর

কুষ্টিয়ায় বহুল আলোচিত ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের পুরোধা বিপ্লবী বাঘা যতীনের ভাস্কর্য ভাঙার মূলপরিকল্পনাকারী যুবলীগ নেতা আনিসুর রহমান আনিস। এ ঘটনায় তাকেসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার রাতে কুমারখালী উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। ওই যুবলীগ নেতার সঙ্গে কয়া মহাবিদ্যালয় কলেজের পরিচালনা পর্ষদ ও অধ্যক্ষের ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের জের ধরে ভাস্কর্য ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ।

গ্রেফতারকৃতরা হলো- কয়া ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি আনিসুর রহমান আনিস (৩৫), সবুজ হোসেন (২০) ও  হৃদয় আহমেদ (২০)।

এর আগে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার কয়া গ্রাম অবস্থিত কয়া মহাবিদ্যালয়ে ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের পুরোধা বিপ্লবী বাঘা যতীনের ভাস্কর্য ভাঙচুর করে কয়েকজন দুর্বৃত্ত।

কুমারখালী থানার ওসি মজিবুর রহমান জানান, বাঘা যতীন ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ হারুনর রশিদ বাদী হয়ে শুক্রবার ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেছেন।

পুলিশ শুক্রবার সকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঘটনার মূলপরিকল্পনাকারী কয়া ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি আনিসুর রহমান আনিসকে গ্রেফতার করে। পরে তার দেয়া তথ্যমতে ঘটনায় জড়িত অপর দুজন হৃদয় আহমেদ ও সবুজ হোসেনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় বাচ্চু নামে আরও একজন জড়িত আছে বলে নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ। তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার এস এম তানভির আরাফাত।

‘এখন নির্বাচন খেলা হয়’দৈনিক মানবজমিন

কেএম নুরুল হুদার নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে গুরুতর অসদাচরণের অভিযোগ ওঠায় তাদের স্বেচ্ছায় পদত্যাগের পরামর্শ দিয়েছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।  হুদা কমিশনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ৪২ বিশিষ্ট নাগরিকের প্রেসিডেন্ট বরাবর আবেদন পাঠানোর বিষয়ে এক অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে এই পরামর্শ দেন তিনি। এ সময় বিশিষ্ট নাগরিকরা ভার্চ্যুয়াল সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেন।

টিআইবি এর নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বিশিষ্ট নাগরিকদের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতির কাছে যে আবেদন করা হয়েছে তাতে সহমত পোষণ করছি। কারণ বর্তমান নির্বাচন কমিশন সরাসরি আর্থিক অনিয়ম, দুর্নীতি ও অসদাচরণে জড়িয়ে পড়েছে, যা আগে কখনো কোনো কমিশন করেনি। এমনকি আগে এরকম দৃষ্টান্ত দেখা যায়নি। আগের সমস্ত রেকর্ড ভঙ্গ করেছে বলে আমি মনে করি। তার মতে, নিবার্চন কমিশন একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। এটির যে গুরুত্ব তার অবমাননা করা হয়েছে এবং কলঙ্কিত করা হয়েছে।

তিনি বলেন, আমরা রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদন করেছি।

পাশাপাশি সরকার প্রধান প্রধানমন্ত্রীর কাছেও আবেদন করবো। রাষ্টপতি আলোচনা সাপেক্ষে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন। আশা করছি সরকার প্রধান বিষয়টি বিবেচনা করবেন। তিনি বলেন, কমিশনে যারা আছেন এই কমিশনারগণ এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার স্বেচ্ছায় দায়িত্ব থেকে অবসরে যেতে পারেন। অথবা কেউ কেউ নৈতিক অবস্থান থেকে পদত্যাগ করতে পারেন।

সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, বিজয়ের মাসে নির্বাচন কমিশন মুক্তিযোদ্ধাদের রক্তের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। পাশাপাশি বঙ্গবন্ধুর সঙ্গেও বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেন, আগের অনুষ্ঠিত হওয়া নির্বাচনগুলোর বৈধতার বিষয় অনেক বড় বিষয়। কারণ, যে দিনের নির্বাচন সে দিনেই হওয়ার কথা। কিন্তু আমরা দেখেছি ভোট আগের রাতে হয়েছে। বিবিসিসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে এসব তথ্য দেখেছি। তাই গত নির্বাচনগুলোর বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।

ড. শাহদীন মালিক বলেন, বর্তমানে গণতন্ত্র ভেঙ্গে পড়েছে। নির্বাচন এখন হয় না। এখন নির্বাচন খেলা হয়। তাই রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদন করে আমরা নাগরিক হিসেবে দায়িত্ব পালন করলাম।

৪২ নাগরিক হচ্ছেন- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এমিরেটাস অধ্যাপক ড. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এম হাফিজউদ্দিন খান, ড. আকবর আলি খান, এডভোকেট সুলতানা কামাল, রাশেদা কে চৌধুরী, মানবাধিকারকর্মী ড. হামিদা হোসেন, সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার, অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মইনুল ইসলাম, মানবাধিকারকর্মী খুশী কবির, সেন্ট্রাল ইউমেন্স ইউনিভার্সিটির ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক পারভীন হাসান, সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন সম্পাদক  ড. বদিউল আলম মজুমদার, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এর নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক আহমেদ কামাল, স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক তোফায়েল আহমেদ, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জেড. আই খান পান্না, ড. শাহদীন মালিক, আলোকচিত্রশিল্পী ড. শহিদুল আলম, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, অর্থনীতিবিদ ড. আহসান মনসুর, সাবেক সচিব আবদুল লতিফ মণ্ডল, স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন, এসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড রিফর্ম অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট-এর নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা, শিক্ষাবিদ অধ্যাপক সি আর আবরার, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সারা হোসেন, সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আসিফ নজরুল, লেখক অধ্যাপক রেহনুমা আহমেদ, সাধনার আর্টিস্টিক ডিরেক্টর লুবনা মরিয়ম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক আকমল হোসেন, সোয়াস ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন-এর অধ্যাপক, গবেষক স্বপন আদনান, ব্রতী’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন মুরশিদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক গীতি আরা নাসরিন, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ফিরদৌস আজিম, সাবেক ব্যাংকার  সৈয়দ আবু নাসের বখতিয়ার আহমেদ, সিনিয়র সাংবাদিক আবু সাঈদ খান, গোলাম মোর্তুজা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস, অধ্যাপক ড. শাহনাজ হুদা, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ুয়া, ক্লিনিকাল নিউরোসাইন্স সেন্টার, বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী ফাউন্ডেশন-এর পরিচালক অধ্যাপক নায়লা জামান খান, নাগরিক উদ্যোগ-এর প্রধান নির্বাহী জাকির হোসেন, মানবাধিকারকর্মী নূর খান লিটন।

ভারতের কয়েকটি খবরের বিস্তারিত:

শুভেন্দু অধিকার করেই অমিতের হুঙ্কার, ‘তৃণমূলে একা থাকবেন দিদি’-আনন্দবাজার পত্রিকা

শুভেন্দুকে দলে টেনে মেদিনীপুরের সভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন অমিত শাহ। তৃণমূল দলকে তোলাবাজির দল আখ্যা দিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘‘এক সময় তৃণমূলের কর্মীরা মা মাটি মানুষ স্লোগান দিয়ে তৃণমূলে এসেছিলেন। কিন্তু দিদি, আপনি সেই স্লোগানকে তোলাবাজির স্লোগান, ভাইপোবাদের স্লোগান, স্বজনপোষণের স্লোগানে পরিণত করেছেন।’’ 

তৃণমূল নেত্রীকে নিশানা করে অমিত বলেন, ‘‘আজ রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী, প্রাক্তন সাংসদ-সহ এক ঝাঁক বিধায়ক ও নেতা বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। দিদি, ভোট আসতে আসতে তৃণমূলে আপনি শুধু একা থাকবেন।’’ 

তৃণমূলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন অমিত। তিনি বলেন, ‘‘আমপানের ত্রাণের টাকা দিয়েছে কেন্দ্র। কিন্তু সেই টাকা গরিব মানুষ পাননি। দিদি, আপনার দলের লোকেরা খেয়ে নিয়েছেন। শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্ট তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। আপনার কাছে এর চেয়ে লজ্জার আর কিছু হতে পারে?

অন্য দিকে অমিতের আগে সভায় শুভেন্দু বলেন, তিনি বিজেপি-র কর্মী হিসেবে তিনি কাজ করবেন। দল যে নির্দেশ দেবেন, সেটাই তিনি করবেন। পতাকা লাগাতে বললে লাগাবেন, দেওয়াল লিখতে বললে লিখবেন। এই সভা থেকেই শুভেন্দু স্লোগান তোলেন, ‘‘তোলাবাজ ভাইপো হঠাও।’’

‘তোলাবাজ ভাইপো হঠাও’, দল বদলেই স্লোগান তুললেন শুভেন্দু-দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা

মেদিনীপুর কলেজ ময়দানে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র অমিত শাহের জনসভায় আনুষ্ঠানিক ভাবে বিজেপিতে যোগ দিলেন শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার তাঁকে সঙ্গে নিয়েই মঞ্চে ওঠেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। মঞ্চে শুভেন্দুর হাতে পতাকা তুলে দেন অমিত। সঙ্গে ছিলেন দিলীপ ঘোষও। শুভেন্দু ছাড়াও রাজ্যের শাসক দল এবং বিরোধী শিবিরের একাধিক নেতা এ দিন বিজেপিতে যোগ দেন।

দৈনিকগুলো লিখেছে,শুক্রবার গভীর রাতে কলকাতায় পা রাখলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। পশ্চিমবঙ্গে দু’দিনের ঠাসা কর্মসূচি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর। মেদিনীপুরের বড় সভা ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজ্য জুড়ে আলোড়ন তৈরি হয়েছে। কারণ ওই সভায় শুভেন্দু অধিকারীর বিজেপিতে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা। মেদিনীপুরে জনসভা ছাড়াও বিভিন্ন কর্মূসচি রয়েছে অমিতের। যাবেন শহিদ ক্ষুদিরাম বসুর মাসির বাড়ি। হবিবপুরে সিদ্ধেশ্বরী মন্দিরে পুজো দেবেন। এক কৃষক পরিবারে সারবেন মধ্যাহ্নভোজ। সেখান থেকে কলকাতার হোটেলে ফিরে দলীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করার কথা তাঁর। রবিবার শান্তিনিকেতন যাবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সেখানে করবেন রোড শো। সব মিলিয়ে অমিতের এদফার পশ্চিমবঙ্গ সফরের মূল লক্ষ্য আগামী বছর রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন।

ফের সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের ছক কষছে ভারত :‌ পাক বিদেশমন্ত্রী-দৈনিক আজকাল

নিজেদের দেশের ভিতরে যে রাজনৈতিক ডামাডোল চলছে, তা থেকে সবার নজর ঘোরাতে ফের তাঁদের দেশে সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের ছক কষছে ভারত। শুক্রবার আবু ধাবিতে সাংবাদিক সম্মেলনে এই অভিযোগ করলেন পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কুরেশি। এব্যাপারে তাঁদের কাছে তথ্যও আছে বলে দাবি করেছেন কুরেশি।

দুদিনের সংযুক্ত আরব আমিরশাহি সফরের শেষ দিনে সাংবাদিক সম্মেলনকরে কুরেশি দাবি করেন, তার পার্টনারদের কাছ থেকে অনুমোদন পেলেই পাকিস্তানে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক করবে ভারত। সংযুক্ত আরব আমিরশাহি সরকারের সঙ্গেও তাঁর উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন কুরেশি। পাক বিদেশমন্ত্রী কটাক্ষ করে বলেন, নিজেদের ব্যর্থ রাজনীতির কারণে ভারত এখন কৃষক আন্দোলন, মহামারী, কাশ্মীর সমস্যার মতো বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ গোলমালে ব্যতিব্যস্ত। সেকারণেই সারা বিশ্বের নজর সেদিক থেকে ঘোরাতে এই পরিকল্পনা নিয়েছে ভারত। তবে পাকিস্তানও যেকোনও লড়াইয়ের জবাব দিতে প্রস্তুত বলে দাবি করেছেন কুরেশি।

আইপিএস ইস্যু: মমতাকে সমর্থন করে কেন্দ্রকে তোপ বাঘেলের-দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা

আইপিএস বদলি ইস্যুতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে দাঁড়ালেন ছত্তীসগঢ়ের মুখ্যমন্ত্রী ভূপেশ বাঘেল। বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর টুইট ট্যাগ করে মমতার সুরেই কেন্দ্রের বিরুদ্ধে বাঘেলের তোপ, ‘যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা সঙ্কটের মুখে। আইপিএস অফিসারদের বদলি অত্যন্ত আপত্তিজনক’। বৃহস্পতিবারই মমতার সমর্থনে টুইট করেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরীবাল।

গত ১০ ডিসেম্বর কলকাতা থেকে ডায়মন্ড হারবারে একটি দলীয় কর্মসূচিতে যোগ দিতে যাওয়ার পথে জেপি নড্ডার কনভয়ে হামলা হয়েছিল। গাড়ি লক্ষ করে ইট-পাটকেল ছোড়ার অভিযোগ ওঠে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। সেই ঘটনা ঘিরে কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে চরম সংঘাত তৈরি হয়। নড্ডার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ৩ আইপিএস অফিসার রাজীব মিশ্র, প্রবীণ ত্রিপাঠি এবং ভোলানাথ পাণ্ডেকে ডেপুটেশনে চেয়ে পাঠায় কেন্দ্র। কিন্তু রাজ্য তাতে আপত্তি জানানোয় শেষ পর্যন্ত ১৭ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার ৩ অফিসারের বদলি করে দেয় কেন্দ্র।

ওই দিন,অর্থাৎ বৃহস্পতিবার কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তোপ দেগে একাধিক টুইট করেন মমতা। তাতে তিনি কেন্দ্রের বিরুদ্ধে একগুচ্ছ অভিযোগ এনে লেখেন, ‘রাজ্যের আপত্তি উড়িয়ে ৩ আইপিএস অফিসারের বদলির সিদ্ধান্ত ১৯৫৪ সালের আইপিএস ক্যাডার আইনের বিরুদ্ধ’। তাতে সমর্থন জানিয়ে শুক্রবার বাঘেলের টুইট, ‘ফের সঙ্কটের মুখে যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা। অফিসারদের বদলি করে প্রশাসনিক ব্যবস্থায় রাজ্যের অধিকার কুক্ষিগত করেছে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার। এবং সেটাও ভোটের আগে’।

আইপিএস অফিসারদের বদলির তীব্র আপত্তি জানিয়ে মমতা আরও লিখেছিলেন, ‘রাজ্যের প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে কেন্দ্র নিয়ন্ত্রণ করবে, এই ঘটনা আমরা কিছুতেই বরদাস্ত করব না। অগণতান্ত্রিক ও বিস্তারবাদী শক্তির কাছে কিছুতেই মাথা নোয়াবে না পশ্চিমবঙ্গ’। প্রায় একই সুরে বাঘেলও তীব্র ক্ষোভের সঙ্গে একই লিখেছেন, ‘কেন্দ্রের হস্তক্ষেপ তীব্র আপত্তিকর, ও নিন্দনীয়’।

বিরোধীদের মধ্যে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি সরব মমতা। এমনকি, লোকসভা ভোটের আগে জাতীয় স্তরে বিরোধী জোটকে কার্যত নেতৃত্বও দিয়েছেন তিনি। প্রথমে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী কেজরীবাল তার পর প্রতিবেশী রাজ্যের কংগ্রেস মুখ্যমন্ত্রী পাশে দাঁড়ানোয় মমতার অবস্থান আরও শক্তিশালী হল বলেই মনে করা হচ্ছে। পাশাপাশি কেন্দ্রের বিরুদ্ধে বিরোধীদের ঐক্যবদ্ধ চেহারাও ফুটে উঠেছে বলে মনে করছেন অনেকে। 

ভোটের পরও দল ভাঙাতে পারে বিজেপি, আগেভাগে মমতাকে সতর্ক করলেন যশবন্ত সিনহা-সংবাদ প্রতিদিন

একুশের আগে রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেস তথা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কোণঠাসা করার লক্ষ্যে উঠেপড়ে লেগেছে বিজেপি। প্রশাসনিক এবং রাজনৈতিক, দুই দিক থেকেই এরাজ্যের শাসক শিবিরকে খাদের কিনারে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করছে কেন্দ্রের শাসক শিবির। ভোটের আগে দল ভাঙানো হোক, রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসনের হুমকি দেওয়া হোক কিংবা রাজ্যের আইপিএসদের ডেপুটেশনে ডাকা, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চাপে রাখার সবরকম কৌশলই অবলম্বন করছে গেরুয়া শিবির। এই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রীর ‘অসময়ের বন্ধু’রা একে একে তাঁর পাশে দাঁড়ানো শুরু করলেন।

আইপিএস ইস্যুতে গতকাল সকালেই মমতাকে সমর্থন করেছিলেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল (Arvind Kejriwal)। রাতের দিকে সার্বিকভাবে মমতার পাশে থাকার বার্তা দিলেন বাজপেয়ী জমানার মন্ত্রী তথা মোদি-শাহদের বিরাগভাজন প্রাক্তন বিজেপি নেতা যশবন্ত সিনহা (Yashwant Sinha)। তিনি বলছেন, বাংলা দখলের জন্য সার্জিক্যাল স্ট্রাইক শুরু করেছে বিজেপি। আর এই সার্জিক্যাল স্ট্রাইক যে শুধু ভোটের আগে হবে তাই নয়, ভোটের পরেও হতে পারে। গতকাল রাতে এক টুইটে প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী বলেছেন,”নির্বাচনের আগে পশ্চিমবঙ্গে সার্জিক্যাল স্ট্রাইকে নেমেছে বিজেপি। নির্বাচনের পরে আরও এক দফার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। সে কারণে, তৃণমূলকে ভোটে বিপুল সংখ্যক আসন নিয়ে জিতে আসতে হবে। অন্য কোনও বিকল্প নেই। এটাই এখন সময়ের দাবি।” ‌

পার্সটুডে/গাজী আবদুর রশীদ/১৯ 

  • বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।
     

ট্যাগ