এপ্রিল ০৭, ২০২১ ১৭:১৮ Asia/Dhaka
  • একনজরে ঢাকা ও কোলকাতার পত্রপত্রিকার সব গুরুত্বপূর্ণ খবর

শ্রোতা/পাঠক! ৭ এপ্রিল বুধবারের কথাবার্তার আসরে স্বাগত জানাচ্ছি আমি বাবুল আখতার। আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। আসরের শুরুতে ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম তুলে ধরছি। এরপর গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খবরের বিশ্লেষণে যাবো। বিশ্লেষণ করবেন সহকর্মী সিরাজুল ইসলাম।

বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ খবরের শিরোনাম:

  • ঘরে-বাইরে চাপের মুখে মামুনুল হক-কালের কণ্ঠ
  • গুলিস্তানে পুলিশের সঙ্গে দোকানিদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া-যুগান্তর
  • আগুন নিয়ে খেলবেন না, হাত পুড়ে যাবে: ওবায়দুল কাদের-ইত্তেফাক
  • একে একে পাঁচজনকে কোপালেন যুবক, প্রাণ গেল দুজনের–প্রথম আলো
  • করোনা মোকাবিলায় সরকারের প্রস্তুতি হ-য-ব-র-ল: বিএনপি– মানবজমিন
  • করোনাভাইরাস : যে পাঁচটি কারণে ভেঙে পড়েছে লকডাউন-দৈনিক নয়াদিগন্ত
  • লকডাউনে চালু থাকবে শিল্প-কারখানা-বাংলাদেশ প্রতিদিন

এবার ভারতের কয়েকটি খবরের শিরোনাম:

  • মমতা সিঙ্গুরের জন্য কিছুই করেননি, অভিযোগ অমিতের, জবাবে ‘কেন্দ্রীয় বঞ্চনা’ সুব্রতর -আনন্দবাজার পত্রিকা
  • অশান্তি পাকাতে এলে CRPF-কেও ঘেরাও করুন’, কোচবিহারে বললেন মমতা -সংবাদ প্রতিদিন
  • রাজ্যপাল হতে পারেন শিশির অধিকারী, রাজ্য বাছাই করছে মোদি সরকার-আজকাল
  • শ্রোতাবন্ধুরা! শিরোনামের পর এবার দু’টি বিষয়ের বিশ্লেষণে যাব। 

কথাবার্তার বিশ্লেষণের বিষয়:

কথাবার্তার প্রশ্ন
১. মার্কেট খুলে দেয়ার দাবিতে ঢাকার গুলিস্তানে পুলিশের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়েছে। একইভাবে সাভারে মহাসড়ক অবরোধ করেছেন ব্যবসায়ীরা। গত কয়েকদিনে দেশের আরো নানা জায়গায় এমন ঘটনা ঘটেছে। তাহলে ব্যবসায়ীরা কী লকডাউন মানতে চান না?
২. পরমাণু সমঝোতা ইস্যুতে ইরান একইকথা বলছে যে, একবারেই তার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে হবে। ইরানের এই শক্ত অবস্থানের পেছনে মূল শক্তিটা কী?

বিশ্লেষণের বাইরে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খবর

একে একে পাঁচজনকে কোপালেন যুবক, প্রাণ গেল দুজনের–প্রথম আলো

নরসিংদী সদর উপজেলার চরাঞ্চল নজরপুরে এক যুবক একে একে পাঁচজনকে কুপিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে দুজন মারা গেছেন। ছুরিকাহত অপর তিনজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আজ বুধবার সকালে উপজেলার নজরপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ছগরিয়াপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

ছুরিকাঘাতে নিহত দুজন হলেন ছগরিয়াপাড়া গ্রামের আবুল ফজলের ছেলে মো. ফরহাদ মিয়া (৫০) ও দেওয়ান আলীর ছেলে আলী আকবর (৫৬)। এ ঘটনায় অভিযুক্ত যুবকের নাম মো. ইউনুস আলী (৩০)। তিনি একই গ্রামের সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রবাসী মো. মান্নান মিয়ার ছেলে।

নিহত দুজনের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আজ সকাল নয়টার দিকে ইউনুস আলী তাঁর মায়ের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি করে বড় একটি ছুরি হাতে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন। পরে মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তির মতো পথে যাঁকে সামনে পেয়েছেন, তাঁকেই ছুরিকাঘাত করেছেন। প্রথমে ছুরিকাঘাত করেন মামাতো ভাই আল আমিনকে। বাধা দিতে এলে সম্পর্কে এক নানাকে ছুরি হাতে নিয়ে দৌড়ানি দেন। নিজের জমি থেকে ফেরার পথে পেছন দিক থেকে ফরহাদ মিয়ার পিঠে ছুরিকাঘাত করেন ইউনুস আলী। এরপর ছুরিকাঘাত করেন আলী আকবরকে। এ ছাড়া ইউনুস আলীর ছুরিকাঘাতে আহত হয়েছেন সেন্টু মিয়া ও অপর এক অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি। তাঁদের মধ্যে ফরহাদ মিয়া ও আলী আকবর মারা গেছেন। ছুরিকাহত অপর তিনজনকে নরসিংদী সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

নরসিংদী সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ফাহিমা শারমিন বলেন, ফরহাদ মিয়া নামের একজনকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। তাঁর পিঠের এক জায়গায় ও হাতের দুই জায়গায় ছুরি–জাতীয় ধারালো কিছু দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

স্থানীয় লোকজন জানান, হঠাৎ আজ সকালে এ ঘটনা ঘটান ইউনুস আলী। তিনি খুবই চুপচাপ ধরনের ব্যক্তি। কারও সঙ্গে খুব একটা কথা বলতেন না তিনি। কিছুদিন ধরে বিদেশ যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। তবে মেডিকেল প্রতিবেদনে মস্তিষ্কে সমস্যা দেখা দেওয়ায় তিনি বিদেশ যেতে পারেননি। এ নিয়ে কিছুটা হতাশার মধ্যে ছিলেন।

নজরপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ইউনুস আলী একাই পাঁচজনকে কুপিয়েছেন। নিহত হয়েছেন দুজন আর আহত হয়েছেন অপর তিনজন। পরে স্থানীয় লোকজন ইউনুসকে আটক করে পিটুনি দেন এবং দড়ি দিয়ে বেঁধে ফেলেন। এরপর তাঁকে নরসিংদী মডেল থানার পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।

নরসিংদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিপ্লব কুমার দত্ত চৌধুরী বলেন, এ ঘটনায় অভিযুক্ত ইউনুস আলীকে আটক করে পুলিশি পাহারায় নরসিংদী সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আর নিহত দুজনের লাশ উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

ঘরে-বাইরে চাপের মুখে মামুনুল হক-কালের কণ্ঠ

সংগঠনের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হকের কথিত দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে চলমান বিতর্কে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছে হেফাজতে ইসলামের ভেতরে। একের পর এক ফোনালাপ ফাঁস, দ্বিতীয় স্ত্রীর বড় ছেলের অনলাইন বক্তব্যসহ নানা তথ্য বিশ্লেষণ করে সংগঠনটির ভেতরে বেশ জটিল পরিস্থিতির আভাস পাওয়া গেছে। অনেকের মতে, সার্বিক ঘটনায় ঘরে-বাইরে বেশ চাপের মুখে পড়েছেন মামুনুল হক।

এদিকে মামুনুল হককে এখনই বহিষ্কার করার মতো পরিস্থিতি তৈরি না হলেও তাঁর পদের ব্যাপারে ভবিষ্যতে কী করা উচিত, তা নিয়ে সংগঠনটির ভেতরে আলোচনা শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে সংগঠনটির দুজন নেতা কালের কণ্ঠকে জানিয়েছেন, মামুনুল হকের বিরুদ্ধে ক্ষোভ যে হারে বাড়ছে, তা অব্যাহত থাকলে শেষ পর্যন্ত তাঁর পদ খোয়াও যেতে পারে।   

জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জের রিসোর্টে সংঘটিত ঘটনার সময় হেফাজতকর্মীরা তাঁর পক্ষে অবস্থান নিলেও একের পর এক ভিডিও এবং তথ্য ফাঁসের ঘটনায় কর্মীদের পাশাপাশি দলটির নেতারাও বিস্মিত ও চিন্তিত হয়ে পড়েছেন। কারণ তাঁরা জানতেন না যে মামুনুল হক রিসোর্টে নাম লেখানোর সময় তথ্য গোপন করেছেন। তা ছাড়া সরকারের সঙ্গে চরম বৈরী পরিস্থিতির মুখে এবং সারা দেশে অবনতিশীল কভিড পরিস্থিতির মধ্যে তিনি কিভাবে রিসোর্টে যেতে পারলেন, তা নিয়ে হেফাজতের বাইরে সমমনা ইসলামী দলগুলোর পাশাপাশি শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যেও প্রশ্ন উঠেছে। বলা হচ্ছে, মামুনুল হক শুধু হেফাজত নয়, ইসলামপন্থীদেরও সুনাম নষ্ট করেছেন। সর্বশেষ হেফাজতের ডাকা হরতালে নৈতিক সমর্থনদানকারী জামায়াত এবং বিএনপিও এ ঘটনায় হতবাক হয়েছে বলে জানা গেছে।

গুলিস্তানে পুলিশের সঙ্গে দোকানিদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া-যুগান্তর

রাজধানীর গুলিস্তানে পুলিশের সঙ্গে দোকানিদের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তবে এতে কেউ হতাহত হয়নি। বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিআরটিসি কাউন্টারের সামনের সড়কে এ ঘটনা ঘটে। 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, লকডাউন তুল নিয়ে দোকান খুলে দেওয়ার দাবিতে ঢাকা রেডিমেড গার্মেন্টস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির ব্যানারে দোকানিরা ফুলবাড়িয়া সুপার মার্কেট–২–এর সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন।

এ সময় তারা বিআরটিসি কাউন্টারের সামনের সড়ক অবরোধ করলে ওই এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। পরে ‌পুলিশ বিক্ষোভকারীদের সড়ক থেকে সরে যেতে বললে তারা পুলিশের ওপর চড়াও হন। 

এ সময় পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন বিক্ষোভকারীরা। পরে পুলিশও তাদের পাল্টা ধাওয়া দিয়ে রাস্তা থেকে সরিয়ে দেয়। সিটি প্লাজার এক দোকানি বলেন, লকডাউনের কথা বলা হলেও গণপরিবহন চলছে। বইমেলা চলছে। মানুষ  অফিস করছেন। আর আমাদের  দোকান বন্ধ রাখা হয়েছে। এটা আমরা মানি না। ঢাকা রেডিমেড গার্মেন্টস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভাপতি মো. আবদুল মান্নান  বলেন, দু–এক দিনের মধ্যে দোকান খুলতে না দিলে বৃহত্তর আন্দোলন ঘোষণা করা হবে।  তিনি বলেন, প্রয়োজনে আমরা নিজেরাই দোকান খুলব। ধুঁকে ধুঁকে মরার চেয়ে একবারে মরাই অনেক ভালো।  এ সময় স্বাস্থ্যবিধি মেনে দোকান চালু রাখতে সরকারের কাছে অনুরোধ জানান এ ব্যবসায়ী নেতা।

আগুন নিয়ে খেলবেন না, হাত পুড়ে যাবে: ওবায়দুল কাদের-ইত্তেফাক

বাংলাদেশের মানুষ ধর্মপ্রাণ, তারা কোনো ধর্মান্ধতাকে সমর্থন দেয় না জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের স্পষ্ট ভাষায় বলেন, আগুন নিয়ে খেলবেন না। আগুন নিয়ে খেলতে গেলে সে আগুনে আপনাদের হাত পুড়ে যাবে। বুধবার (৭ এপ্রিল) সকালে নিজ সরকারি বাসভবনে নিয়মিত ব্রিফিংকালে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, হেফাজতে ইসলাম নামে একটি উগ্র সাম্প্রদায়িক অপশক্তি দেশের বিদ্যমান স্বস্তি এবং শান্তি বিনষ্টে দেশের বিভিন্ন স্থানে যে অব্যাহত তাণ্ডব চালিয়ে যাচ্ছে তা সহনশীলতার সকল মাত্রা অতিক্রম করেছে। জনগণের জানমালের সুরক্ষা দিতে শেখ হাসিনা সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি আওয়ামী লীগসহ সকল সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের নির্দেশ দিয়ে বলেন, সন্ত্রাস,নৈরাজ্য সৃষ্টিকারী ও সাম্প্রদায়িক অপশক্তির উস্কানিদাতাদের তালিকা প্রস্তুত করে এদের রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে হবে।

যারা দেশব্যাপী তাণ্ডব চালিয়েছে বা এখনো চালিয়ে যাচ্ছে তাদের সতর্ক করে দিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন দেশের জনগণের ধৈর্য ও সহনশীলতার একটা সীমা আছে! সীমা অতিক্রম করলে তার পরিণতি হবে ভয়াবহ।

পঁচাত্তরে জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যার পর বাংলাদেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হারানো গণতন্ত্রকে পুনরুদ্ধার করেছেন উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করছেন, করেছেন বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের মাধ্যমে জাতিকে কলংকমুক্ত এবং বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে দাঁড় করিয়েছেন ও দেশের অর্থনীতিকে দাঁড় করিয়েছেন শক্ত ভীতের উপর।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, সরকার পরিচালনার দায়িত্বে আছে বলেই প্রতিক্রিয়াশীল চক্রের ধ্বংসাত্মক রাজনীতির বিপরীতে আওয়ামী লীগ এখনও দায়িত্বশীল আচরণ করছে, দেখাচ্ছে সহনশীলতা। দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরকারি ও বেসরকারি স্থাপনায় হামলা, অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে, ভূমি অফিসে আগুন দিয়ে জমি জমার গুরুত্বপূর্ণ দলিল, খতিয়ান, নামজারি রেকর্ড ছাই হয়ে গিয়েছে,ভূমির প্রয়োজনীয় দলিল নথিপত্রের অভাবে বংশপরম্পরায় মামলা-মোকদ্দমায় লড়তে হবে। সুতরাং যারা এসবের সঙ্গে জড়িত, তাদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ার করে দেন ওবায়দুল কাদের।

বিএনপি-জামায়াত নৈরাজ্য সৃষ্টি করে ধ্বংসাত্মক আগুন সন্ত্রাসের মাধ্যমে ২০১৩-১৪ সালে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করার ঘৃণ্য খেলায় মত্ত হয়েছে, তাদের সাবধান করে দিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা আঘাত আসলে প্রতিঘাত করতে জানে এবং আক্রমণ করলে পাল্টা আক্রমণও করতে জানে।

এ সময় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কঠোর হুঁশিয়ার করে দিয়ে বলেন, ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে দিবেন না,মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং বঙ্গবন্ধুর অবমাননা জাতি আর সহ্য করবে না। তিনি সারা বাংলাদেশে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের সকল দেশপ্রেমিক জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আগুন সন্ত্রাস ও অশুভ শক্তিকে প্রতিহত ও পরাজিত করতে হবে।

গতকাল ঢাকাসহ দেশের সবকটি সিটি করপোরেশনে জনস্বার্থে গণপরিবহন চালুর যে সিদ্ধান্ত সরকার নিয়েছে, সে ব্যাপারে কেউ কেউ বিরূপ মন্তব্য করছে যা অত্যন্ত দুঃখজনক উল্লেখ করে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, পরিবহন মালিক শ্রমিকদের কাছে নতি স্বীকার করে সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে কেউ কেউ যে অভিযোগ করছে তা সঠিক নয়। দুই একদিনের মধ্যে দূরপাল্লার বাস সার্ভিস চালুর ব্যাপারে কেউ কেউ অপপ্রচার চালাচ্ছে এবং বিভ্রান্তিকর মন্তব্য করেছেন যা মোটেও সত্য নয় বলেও স্পষ্ট ভাবে জানিয়ে দেন তিনি।

আজও করোনা সংক্রমণের সর্বোচ্চ রেকর্ড-বাংলাদেশ প্রতিদিন

দেশে মহামারি করোনাভাইরাসে আবারও রেকর্ড সংখ্যক মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। ২৪ ঘণ্টায় দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৭ হাজার ৬২৬ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এ নিয়ে দেশে এখন পর্যন্ত মোট করোনা রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৫৯ হাজার ২৭৮ জনে।

এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছেন দেশের ইতিহাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ ৬৩ জন। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৯ হাজার ৪৪৭ জনে। এর আগে গতকাল মঙ্গলবার সর্বোচ্চ ৬৬ জনের মৃত্যু হয়।করোনাভাইরাস নিয়ে বুধবার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, এদিন সুস্থ হয়েছেন আরও ৩ হাজার ২৫৬ জন। এ পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন ৫ লাখ ৬১ হাজার ৬৩৯ জন।

করোনা মোকাবিলায় সরকারের প্রস্তুতি হ-য-ব-র-ল: বিএনপি– মানবজমিন

করোনা মোকাবিলায় গত বছরের মতোই সরকারের পদক্ষেপ সমন্বয়হীন, অপরিকল্পিত, অদূরদর্শী ও কান্ডজ্ঞানহীন। এবার সরকার অনেক সময় হাতে পেলেও পূর্ব প্রস্তুতি না থাকায় গতবারের মতোই হ-য-ব-র-ল অবস্থা বলে মন্তব্য করেছেন সাংগঠনিক সম্পাদক ও চলতি দফতরের দায়িত্বপ্রাপ্ত সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স। বুধবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।প্রিন্স বলেন, কোভিড-১৯ করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে সরকার গত ৫ এপ্রিল থেকে ৭ দিনের জন্য দেশব্যাপী লকডাউন ঘোষণা দিয়েছে। লকডাউনের দুদিন অতিবাহিত হয়েছে। কোভিড-১৯ এর ২য় ঢেউ বাংলাদেশে আরও বেশি শক্তি নিয়ে আক্রমণ করেছে। মূলতঃ গত মাসের ১ম সপ্তাহ থেকে বাংলাদেশে করোনা সংক্রমণ বাড়লেও সরকারের উদাসীনতা ও ব্যর্থতায় তা মোকাবেলায় কোন কার্যকর ও বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ গ্রহণ করে নাই।তিনি বলেন, মার্চের শুরু থেকে সংক্রমণ বাড়ার সময় হতেই বিশেষজ্ঞ মহল সরকারকে সতর্ক করে দিয়ে কার্যকর ও কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করলেও সরকার মূলতঃ উৎসব আয়োজন নিয়ে ব্যস্ত থেকেছে। সরকারের মন্ত্রীরা লকডাউন বললেও উচ্চ পদস্থ সরকারী কর্মকর্তারা বলছেন-এটি লকডাউন নয়, কিছু বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে।লকডাউন নিয়ে সরকারের মধ্যে দুই রকম বক্তব্যে চরম সমন্বয়হীনতারই প্রমাণ মেলে।বিএনপির এই সাংগঠনিক সম্পাদক বলেন, বাস্তবতা হচ্ছে-সরকারি অব্যবস্থাপনায় লকডাউন বা নিষেধাজ্ঞা কোনটাই মাঠ পর্যায়ে কার্যকর হচ্ছে না, বরং সরকারের পরস্পরবিরোধী পদক্ষেপে মানুষ করোনা ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে। সর্বত্রই লেজেগোবরে অবস্থা। নানা দুর্ভোগে জনগণ।আলাপ-আলোচনার পরিবর্তে গুলি করে লাশ ফেলে জনবিক্ষোভকে সরকার দমন করতে চায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকারের একজন পদস্থ কর্মকর্তার উপস্থিতিতে তার কর্মচারী কর্তৃক এক দোকান কর্মচারীকে অমানবিক নির্যাতনের পেক্ষিতে ফরিদপুরের সালথায় গণবিক্ষোভ হলেও সেখানে গুলি করে মানুষ হত্যা ও চার হাজার মানুষকে আসামি করে মামলা দায়েরের ঘটনায় এটি পরিষ্কার যে, সরকারের পায়ের নিচে শেষ মাটিটুকুও আর অবশিষ্ট নেই।তিনি বলেন, আমি বিএনপির পক্ষ থেকে সালথার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি, তীব্র নিন্দা ও ধিক্কার জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে ঘটনার জন্য দোষী কর্মকর্তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি। পাশাপাশি গুলিতে নিহতের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা ও শোকাহত পরিবার-পরিজনদের প্রতি গভীর সহমর্মিতা জ্ঞাপন করছি। নিহতের পরিবারকে যথাযথ ক্ষতিপূরণের দাবি জানাচ্ছি। একইসাথে জনগণকে এই করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলা ও নিজের জীবন রক্ষায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহবান জানান তিনি।

করোনাভাইরাস : যে পাঁচটি কারণে ভেঙে পড়েছে লকডাউন-দৈনিক নয়াদিগন্ত

বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকানোর জন্য সরকার যে বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল সেটি মাত্র দুই দিন পরেই ভেঙে পড়েছে।

সরকারের বেশ কয়েকজন মন্ত্রী এই বিধিনিষেধকে 'লকডাউন' হিসেবে বর্ণনা করেছিল। কিন্তু দৃশ্যত প্রথম দিন থেকেই কোথাও লকডাউনের লেশমাত্র ছিল না।

অনেক জায়গায় মার্কেট ও দোকানপাট খোলা রাখার দাবিতে বিক্ষোভ হয়েছে। কোথাও কোথাও এই বিক্ষোভ সহিংসতায় রূপ নিয়েছে।

এমন অবস্থায় সরকার যেসব 'বিধিনিষেধ' আরোপ করেছিল তার কোন কোনটি থেকে তারা নিজেরাই পিছু হঠেছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালিক অবশ্য সাংবাদিকদের বলেছেন, লকডাউন কার্যকর করার জন্য সরকার আইন প্রয়োগের মাধ্যমে কঠোর হতে চায়নি। জণগণ যাতে সচেতন হয় সে বিষয়টি বোঝানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

প্রশ্ন হচ্ছে, সরকার কেন এই বিধি-নিষেধগুলো কার্যকর করতে পারলো না? সাধারণ মানুষ এবং বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিধিনিষেধ কার্যকর করতে না পারার পেছনে বেশ কয়েকটি কারণ রয়েছে:

১. বাস বন্ধ, প্রাইভেট কার চালুসরকারের গৃহীত পদক্ষেপ অনুযায়ী বিধি-নিষেধ কার্যকরের প্রথম দিন থেকে গণ-পরিবহন বন্ধ করে দেয়া হয়। কিন্তু একই সাথে দেখা গেছে শহর জুড়ে প্রাইভেট কার চলছে। এ ব্যবস্থাকে একটি বৈষম্যমূলক পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন পরিবহন খাতের সাথে সংশ্লিষ্টরা।

এছাড়া পরিবহন শ্রমিক এবং মালিকদের মধ্যে একটা আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল যে 'লকডাউন' দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। ২০২০ সালের মার্চ মাসের শেষের দিক থেকে যে 'লকডাউন' দেয়া হয়েছিল সেটি প্রায় দুই মাস চলেছে নানা বিধি-নিষেধের আওতায়।

এজন্য এবার সে ধরণের পরিস্থিতি মেনে নিতে একবারেই রাজী ছিলেন না পরিবহন শ্রমিকরা। ফলে দুই দিনের মাথায় সরকারও বাধ্য হয়েছে শর্তসাপেক্ষে বাস চলাচলে অনুমতি দিতে।

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের অবশ্য যুক্তি দিয়েছেন যে মানুষের যাতে অফিসে যেতে সুবিধা হয় সেজন্য শর্তসাপেক্ষে বাস চলাচলের অনুমতি দেয়া হয়েছে।

২. কারখানা খোলা, মার্কেট বন্ধগার্মেন্টস কারখানাগুলো বরাবরই অন্যসব সরকারি বিধি-নিষেধের আওতার বাইরে ছিল।

২০২০ সালের লকডাউনেও যখন সবকিছু বন্ধ ছিল, তখন গার্মেন্টস কারখানাগুলো খোলা রাখা হয়। এবারও শুরু থেকেই গার্মেন্টসসহ শিল্প-কারখানাগুলো বিধি-নিষেধের বাইরে ছিল।

দেশের বিভিন্ন জায়গায় দোকানের কর্মচারীরা যে বিক্ষোভ করেছে সেখানে তাদের অন্যতম যুক্তি ছিল, যেখানে সব শিল্প-কারখানা খোলা আছে সেখানে শুধু মার্কেট-শপিংমল বন্ধ করে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ কিভাবে থামানো যাবে?

তাছাড়া গত বছর লকডাউনের কারণে ঈদ এবং পহেলা বৈশাখের কেনাকাটা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। এবারো সে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এজন্য দোকানীরা উদ্বিগ্ন হয়ে রাস্তায় নেমে আসেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইন্সটিটিউটের অধ্যাপক আব্দুল হামিদ বলেন, এ ধরণের সিদ্ধান্ত সাংঘর্ষিক।

তিনি বলেন, ‘কিছু খোলা রেখে কিছু বন্ধ রেখে তো হয় না। এটা তো পুরোপুরি বৈপরীত্য। সবকিছু বন্ধ থাকলে মানুষ তখন উদাহরণ দেখাতো না, অজুহাত খুঁজতো না।’

৩. অফিস খোলা, পরিবহন বন্ধসরকারি বিধি-নিষেধের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সকল সরকারি-বেসরকারি অফিস শুধু জরুরি কাজ সম্পাদনের জন্য সীমিত পরিসরে প্রয়োজনীয় জনবলকে নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থাপনায় অফিসে আনা-নেয়া করতে পারবে। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, দেশে বেশিরভাগ অফিসের নিজস্ব কোনো পরিবহন ব্যবস্থা নেই। একদিকে অফিস খোলা এবং অন্যদিকে রাস্তায় গণ-পরিবহন নেই। এ নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছে সাধারণ মানুষ। প্রতিদিন অফিসে যাতায়াত করতে বহু টাকা খরচ হচ্ছে। এনিয়ে মানুষের মধ্যে এক ধরনের ক্ষোভও তৈরি হয়।

ঢাকার মিরপুরের বাসিন্দা শারমিন আহমেদ বলেন, ‘অফিস খোলা রাখলো কেন? পরিবহন যখন বন্ধ করেছিল তখন তো অফিসও বন্ধ রাখা উচিত ছিল।’

৪. বইমেলা খোলা, ক্ষুদ্র ব্যবসা বন্ধএবারের লকডাউনে যে বিষয়টি অনেককে বিস্মিত করেছে, সেটি হচ্ছে ঢাকায় বইমেলা চালু রাখা। একদিকে বইমেলা চালু রাখা হয়েছে, অন্যদিকে বিভিন্ন দোকান বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। এদের মধ্যে বিভিন্ন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীও রয়েছেন যারা দৈনন্দিন রোজগারের উপর নির্ভর করেন। ব্যবসায়ীদের যুক্তি হচ্ছে, বইমেলা চালু রাখলে যদি সংক্রমণ না বাড়ে তাহলে কি তাদের ব্যবসা চলমান থাকলে সংক্রমণ বাড়বে?

পাবলিক হেলথ ফাউন্ডেশনের চেয়ারপার্সন ড. শারমীন ইয়াসমিন বলেন, এ ধরনের সিদ্ধান্ত খুবই সাংঘর্ষিক হয়েছে। ‘কথার সাথে কাজের কোনো মিল নেই। এগুলো নিয়ে প্রচুর সমালোচনা হচ্ছে,’ বলছিলেন ড. শারমীন ইয়াসমিন।

৫. সরকারি অফিস সীমিত, বেসরকারি অফিস পুরোদমেসরকারি প্রজ্ঞাপনে যদিও বলা হয়েছে যে সরকারি-বেসরকারি অফিস কেবল জরুরি কাজ সম্পাদনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক লোকবল দিয়ে কাজ করাবে।

প্রকৃতপক্ষে বেসরকারি অফিসগুলোর জন্য এই নির্দেশনা সরকার বাস্তবায়ন করতে পারেনি। ফলে বেসরকারি চাকরিজীবীদের মনে বিষয়টি নিয়ে এক ধরণের ক্ষোভ তৈরি হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতির অধ্যাপক আব্দুল হামিদ বলেন, লকডাউন নিয়ে সরকারের কোনো প্রস্তুতি এবং পরিকল্পনা ছিল না বলে তার মনে হয়েছে।

‘বিষয়টি নিয়ে সরকারের মধ্যে হয়তো দ্বিধা-দ্বন্দ্ব ছিল,’ বলছিলেন অধ্যাপক হামিদ।

মমতা সিঙ্গুরের জন্য কিছুই করেননি, অভিযোগ অমিতের, জবাবে ‘কেন্দ্রীয় বঞ্চনা’ সুব্রতর -আনন্দবাজার পত্রিকা

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সিঙ্গুরে কৃষিজমি রক্ষা আন্দোলন করেছিলেন। কিন্তু তিনি ক্ষমতায় আসার পর ১০ বছরে সেখানে কোনও উন্নয়ন করেননি বলে অভিযোগ করলেন অমিত শাহ। রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় এলে টাটাদের ন্যানো গাড়ির কারখানা গুজরাতের সানন্দ থেকে সিঙ্গুরে ফিরবে কি না জানতে চাওয়া হলে অমিতের জবাব, ‘‘এটা কিছুটা সঙ্কীর্ণ ভাবনা। পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অনেক কিছুই আসবে।’’ সেই সঙ্গেই তাঁর ‘আক্ষেপ’, ‘‘এখানে শুধু ন্যানোরই প্রচার হয়।’’

সিঙ্গুরে জমি আন্দোলনে মমতার ‘সেনাপতি’ তথা বিদায়ী তৃণমূল বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য এ বার সেখানে দল বদলে বিজেপি-র প্রার্থী। তাঁর হয়ে ‘রোড শো’ করতে এসে অমিত জানান, পশ্চিমবঙ্গে শিল্পায়ন এবং বেকারদের কর্মসংস্থানের বিষয়ে বিজেপি-র সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি বলেন, ‘‘আমরা নির্বাচনী ইস্তাহারে পশ্চিমবঙ্গের ভারী, মাঝারি, ক্ষুদ্র এবং কুটির শিল্পের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট রূপরেখা তৈরির কথা জানিয়েছি। তারই ভিত্তিতে কর্মসংস্থান সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান হবে।’’

সিঙ্গুর-সহ গোটা রাজ্যে শিল্পায়ন না হওয়া নিয়ে অমিতের অভিযোগ প্রসঙ্গে তৃণমূল নেতা সুব্রত মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘‘ভারী শিল্প গড়ার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের সাহায্যের প্রয়োজন। শিল্পায়নের জন্য কেন্দ্রের তরফে পশ্চিমবঙ্গ কোনও সাহায্য পায়নি।’’

রাজ্যপাল হতে পারেন শিশির অধিকারী, রাজ্য বাছাই করছে মোদি সরকার-আজকাল

তৃণমূল ছেড়ে বিজেপি–তে যোগ দিয়েছেন সম্প্রতি। তার পরেই তাঁর সাংসদ পদ প্রশ্নের মুখে। এই পরিস্থিতিতে প্রবীণ রাজনীতিক শিশির অধিকারীর ‘‌পুনর্বাসন’‌ নিয়ে ভাবনা–চিন্তা শুরু করেছে বিজেপি–র কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। খবর, সব ঠিকঠাক চললে পূর্বাঞ্চলের কোনও রাজ্যের রাজ্যপাল করা হতে পারে তাঁকে। অধিকারী পরিবারে প্রথম শুভেন্দুই তৃণমূল ছেড়ে বিজেপি–তে যোগ দেন। সেই থেকে গুঞ্জনটা চলছিল। এর পর সৌম্যেন্দু এবং সবশেষে মোদির সভায় বিজেপি–তে যোগ দেন শিশির অধিকারী। তিনি কাঁথির তৃণমূল সাংসদ ছিলেন। বিজেপি–তে যোগদানের পরই শিশিরবাবুর সাংসদ পদ খারিজ করার জন্য উদ্যোগী তৃণমূল কংগ্রেস। দলের তরফে জানানো হয়েছে, ভোট মিটলে লোকসভার স্পিকারের কাছে শিশিরকে সরানোর জন্য আবেদন পাঠানো হবে। সাংসদ পদ হারানোর পর প্রবীণ এই রাজনীতিককে সম্মানীয় কোনও পদে বসাতে চায় বিজেপি। পূর্বাঞ্চলের এক রাজ্যে আগস্টেই রাজ্যপালের মেয়াদ শেষ হবে। কেন্দ্র সরকারের ইচ্ছে, সেখানেই বসানো হোক শিশিরকে। শিশিরবাবু নিজে অবশ্য এই নিয়ে মুখ খোলেননি।

অশান্তি পাকাতে এলে CRPF-কেও ঘেরাও করুন’, কোচবিহারে বললেন মমতা -সংবাদ প্রতিদিন

রাজ্যে তিন দফা নির্বাচন শেষ। বুথে এজেন্ট বসতে না দেওয়ার অভিযোগ উঠছে।এমনকী, এজেন্টদের মারধরের অভিযোগও সামনে আসছে। অভিযোগ উঠেছে কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধেও। চতুর্থ দফা থেকে সেই অশান্তি এড়ানোর উপায় বাতলে দিলেন খোদ তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। কেন্দ্রীয় বাহিনী অশান্তি করার চেষ্টা করলে, তাদের ঘেরাও করার পরামর্শ দিলেন তিনি। 

বুধবার কোচবিহার উত্তরে নির্বাচনী সভা করলেন তৃণমূলনেত্রী। মমতার অভিযোগ, রাজ্যের বিভিন্ন  এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা অশান্তি করছেন। বহু গ্রামে ঢুকে মহিলাদের ভোট দিতে বাধা দিচ্ছেন। এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে কী করবেন সাধারণ মানুষ, এদিনের সভা থেকে তাও বাতলে দিলেন মমতা। বললেন, “কেন্দ্রীয় জওয়ানরা অশান্তি করতে এলে একদল ওদের ঘিরে ফেলুন। আরেক দল ভোট দিতে যান। কারা এই কাজ করছে, তাদের নাম লিখে রাখুন।” শুধু কেন্দ্রীয় বাহিনী নয়, রাজ্য পুলিশের একাংশও বিজেপির সঙ্গে ‘আন্ডারস্ট্যান্ডিং’ করেছে বলে অভিযোগ তৃণমূল নেত্রী।#

পার্সটুডে/বাবুল আখতার/৭

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।

 

ট্যাগ