এপ্রিল ০৮, ২০২১ ১৬:৩০ Asia/Dhaka

মহান আল্লাহর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ নাম ওয়াহ্‌হাব যা তাঁর অশেষ দান আর দয়া- দাক্ষিণ্যের বিষয়টি তুলে ধরে।

পবিত্র কুরআনে তিন বার এ শব্দটি এসেছে। এ নামের অর্থ অত্যন্ত দানশীল তথা এমনই দানশীল যে তিনি কোনো প্রতিদান বা বিনিময়ের ও এমনকি সামান্য মৌখিক কৃতজ্ঞতার আশা না করেই দান করে থাকেন।

বিশ্ব-জগতের প্রতিপালক মহান আল্লাহর দানের মহা-অনুগ্রহ গোটা সৃষ্টি জগতকে করুণায় সিক্ত রেখেছে। মহান আল্লাহর দানের অনুগ্রহ থেকে কাফের বা অবিশ্বাসীরাও বঞ্চিত নয়। সর্বশক্তিমান আল্লাহ অশেষ সম্পদের মালিক ও বিশ্বের সব কিছু তাঁরই মালিকানাধীন বলে তিনি দানের ক্ষেত্রে কোনো প্রতিদান ও এমনকি একটি শুকনো মৌখিক কৃতজ্ঞতারও প্রত্যাশা না করেই উদার হস্তে ও অবারিত মাত্রায় দান করে থাকেন।

সুরা আলে ইমরানের অষ্টম আয়াতে দেখা যায় মহান নবী হযরত যাকারিয়া (আ) সর্বশক্তিমান ও পরম করুণাময় আল্লাহকে ওয়াহ্‌হাব বলে সম্বোধন করছেন। হযরত যাকারিয়া ছিলেন নিঃসন্তান। তিনি ও তাঁর স্ত্রী উভয়ই বৃদ্ধ হওয়ায় সন্তান লাভের দীর্ঘ দিনের আশা ছেড়ে দিয়েছিলেন। তিনি ছিলেন হযরত ঈসা নবীর মা বিবি মারিয়ামের অভিভাবক ও খালু। তিনি একদিন একদিন অনুমতি সাপেক্ষে মারিয়ামের কক্ষে ঢুকে দেখেন যে শীতকাল হওয়া সত্ত্বেও মারিয়ামের সামনে রয়েছে নানা ধরনের খাদ্য এবং শীত ও গ্রীষ্মকালের নানা ফল! বিস্মিত যাকারিয়া নবী প্রশ্ন করলেন: মারিয়াম! এসব খাবার কোথা থেকে এসেছে তোমার কাছে? উত্তরে মারিয়াম বললেন, আল্লাহর কাছ থেকে! নিশ্চয়ই আল্লাহ যাকে ইচ্ছা তাকে বিনা হিসেবে প্রচুর রিযিক দান করে থাকেন।

সেদিন মারিয়ামের কথা শুনে হযরত যাকারিয়া (আ) অন্তরে বড় ধরনের ধাক্কা খান। তিনি তখনই অসীম দাতা মহান আল্লাহর দরবারে হাত তুলে বললেন, হে, আমার পালনকর্তা! তোমার কাছ থেকে আমাকে পুত-পবিত্র সন্তান দান কর-নিশ্চয়ই তুমি প্রার্থনা শ্রবণকারী। সে সময়ই মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে ফেরেশতারা যাকারিয়া নবীর জন্য সৎকর্মশীল ও খোদাভীরু পুত্র সন্তান ইয়াহিয়ার সুসংবাদ বয়ে আনেন। আর যাকারিয়া নবী তখনই এই সুসংবাদ শুনে অশেষ দানশীল বা ওয়াহ্‌হাব আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে সিজদা আদায় করেন। মহানবী (সা) বলেছেন, মহান আল্লাহর রয়েছে ৯৯ নাম। এইসব নামের অর্থ যারা বুঝবে বা উপলব্ধি করবে তারা বেহেশতে যাবে।

আমরা যদি মহান আল্লাহর ওয়াহ্‌হাব নামের রঙে রঙ্গিন হতে চাই তাহলে আল্লাহর দেয়া নেয়ামত হতে আমাদেরও উচিত কোনো প্রতিদানের প্রত্যাশা না করেই অভাবগ্রস্ত ব্যক্তিদের দান করা। অবশ্য প্রকৃত ওয়াহ্‌হাব একমাত্র আল্লাহই। কারণ মহান আল্লাহ সব কিছুর মালিক ও তিনি কোনো কিছুর আশা না করেই দান করে থাকেন। আমরা কোনো কিছুর আশা না করেও যদি কিছু দান করি তবুও আল্লাহর মত ওয়াহ্‌হাব হতে পারব না, কারণ আমরা তো কোনো কিছুর প্রকৃত মালিক নই মহান আল্লাহর মত!

মহান আল্লাহর এক বড় অনুগ্রহ ও মহাদান হল নবুওত এবং ইমামত। মহান আল্লাহ যাকে যোগ্য মনে করেন কেবল তাঁকেই নবী করেন ও ইমাম করেন। মহান আল্লাহর ওয়াহ্‌হাবগত গুণের বা নীতির আলোকেই তিনি নবুওত ও রিসালাত দান করেন। যিনি নবী মনোনীত হন তাঁর মধ্যে থাকে অসাধারণ মাত্রায় খোদাপ্রেম, খোদাভীতি, জ্ঞান, অসাধারণ উন্নত নৈতিক চরিত্র ও বীরত্ব বা সাহস এবং দানশীলতা ও দয়ার মত নানা গুণ।   

মুমিন ও সৎকর্মশীল মানুষ আল্লাহর দেয়া অনেক কিছু দান করতে পারলেও প্রজ্ঞা, জ্ঞান, সুস্থতা ও রাজত্বের মত অনেক কিছু দান করতে পারেন না। সুরা সোয়াদের ৩৫ নম্বর আয়াতে দেখা যায় মহান নবী হযরত সুলাইমান মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করে বলছেন, হে আমার পালনকর্তা, আমাকে মাফ করুন এবং আমাকে এমন সাম্রাজ্য দান করুন যা আমার পরে আর কেউ পেতে পারবে না। নিশ্চয়ই আপনি মহাদাতা বা ওয়াহ্‌হাব।

সুরা শোয়ারার ৮৩ নম্বর আয়াতে দেখা যায় হযরত ইব্রাহিম (আ) দোয়া করে বলছেন,

হে আমার পালনকর্তা, আমাকে প্রজ্ঞা দান করুন এবং আমাকে সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত করুন।-

যারা চিন্তাশীলতায় ও জ্ঞান-বিজ্ঞানে সুদৃঢ় অবস্থানে রয়েছেন তারাও দোয়ার হাত তুলে বলেন, হে আমাদের পালনকর্তা! সরল পথ প্রদর্শনের পর তুমি আমাদের অন্তরকে সত্যলংঘনে প্রবৃত্ত করোনা এবং তোমার নিকট থেকে আমাদিগকে অনুগ্রহ দান কর। তুমিই সব কিছুর দাতা বা অশেষ দাতা তথা ওয়াহ্‌হাব।

যারা ওয়াহ্‌হাব শব্দের অর্থ বোঝেন তারা একমাত্র আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো কাছে কিছু চান না। তাই আমাদেরও উচিত সৎকর্মশীল সন্তান, সুস্থতা ও সম্পদসহ সব ধরনের খোদায়ি নেয়ামত বা কল্যাণ কেবল প্রকৃত ওয়াহ্‌হাব তথা মহান আল্লাহর কাছেই চাওয়া। 

মুশরিকদের সঙ্গে ও তাদের মনগড়া সব খোদার সঙ্গে সম্পর্কহীনতার কথা ঘোষণা করে হযরত ইব্রাহিম (আ) সুরা শোয়ারায় (৭৮ -৮৮) বলছেন:

৭৮) যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তিনিই আমাকে পথ প্রদর্শন করেন, (৭৯) ক্ষুধার্ত হলে তিনিই আমাকে আহার্য দান করেন এবং তৃষ্ণার্ত হলে তিনিই পানীয় পান করান, (৮০) এবং আমি রোগগ্রস্ত হলে তিনিই আমাকে আরোগ্য দান করেন, (৮১) এবং তিনিই আমার মৃত্যু ঘটাবেন, অতঃপর পুনর্জীবিত করবেন, (৮২) এবং আমি তাঁরই কাছে এ আশা করি যে, তিনি বিচার-দিবসে আমার অপরাধ মার্জনা করবেন। (৮৩) হে আমার প্রতিপালক! আমাকে বিধান (নবুওয়াত ও প্রজ্ঞা) দান কর এবং আমাকে সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত কর। (৮৪) এবং ভাবী প্রজন্মের মধ্যে আমাকে সত্য-ভাষী (হিসেবে খ্যাতির অধিকারী) কর, (৮৫) এবং আমাকে নিয়ামতপূর্ণ উদ্যানের অন্যতম উত্তরাধিকারী কর, (৮৬) এবং আমার (পালক) পিতাকে ক্ষমা কর, সে তো পথভ্রষ্টদের অন্তর্ভুক্ত (৮৭) এবং যেদিন তারা (মানুষ) পুনরুত্থিত হবে সেদিন আমাকে লাঞ্ছিত কর না, (৮৮) যেদিন ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি কোন উপকার সাধন করবে না।- মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে মহান আল্লাহর ওয়াহ্‌হাব নামের রঙে রঙিন হওয়ার তৌফিক দান করুন। আমিন। #

পার্সটুডে/মু.আমির হুসাইন/ মো: আবু সাঈদ/ ৮

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।

ট্যাগ