এপ্রিল ১০, ২০২১ ১৮:৪৯ Asia/Dhaka

রংধনু আসরের কাছের ও দূরের শিশু-কিশোর বন্ধুরা, কেমন আছো তোমরা? আশাকরি পরিবারের সবাইকে নিয়ে ভালো ও সুস্থ আছো। আজকের আসরে তোমাদের স্বাগত জানাচ্ছি আমি নাসির মাহমুদ এবং আমি আকতার জাহান।

আকতার জাহান: বন্ধুরা, তোমরা নিশ্চয়ই আমিরুল মুমিনীন হযরত আলী (আ.)-এর নাম শুনেছো। তিনি ছিলেন ইসলামের ইতিহাসের অতুলনীয় ও শ্রেষ্ঠ বীরযোদ্ধা। আসাদুল্লাহ বা ‘আল্লাহর সিংহ’ ছিল তাঁর উপাধি। বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মাদ (সা:)’র জীবদ্দশায় প্রায় প্রতিটি যুদ্ধে বিজয়ের তিনিই ছিলেন প্রধান স্থপতি।

নাসির মাহমুদ: শুধু তাই নয়, হযরত আলী (আ.) ছিলেন মজলুমের বন্ধু, মহানবী (সা.)’র জ্ঞান-নগরীর তোরণ, এতিম ও অনাথের সেবক, শ্রেষ্ঠ আবেদ এবং ন্যায়বিচার ও সুশাসনের প্রতীক। সূক্ষ্ম বুদ্ধি ও কৌশলপূর্ণ নিখুঁত বিচারের জন্য হযরত আলীকে রাসূল (সা.)’র পর ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ বিচারক বলা যেতে পারে। তাঁর বিচারবুদ্ধি, মেধা, তাঁর জ্ঞানের কথা প্রবাদতুল্য।

আকতার জাহান: হযরত আলী (আ.)কে আরবী ব্যাকরণের জনকও বলা হয়। কবিতা ও ভাষণসহ তাঁর চিঠিগুলো আরবী সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ এবং কালোত্তীর্ণ সম্পদ। হযরত আলী ছিলেন রাজস্ব প্রথার উদ্ভাবক। তিনিই সর্বপ্রথম ভূমিরাজস্ব প্রথা প্রবর্তন করে ভূমির ওপর চাষীদের অধিকার নিশ্চিত করেন।

নাসির মাহমুদ: বন্ধুরা, হযরত আলী (আ.)-এর যখন মুসলিম জাহানের খলিফা বা শাসক ছিলেন সে সময়কার তিনটি সত্য ঘটনা শোনাব আজকের আসরে। আর সবশেষে থাকবে এক নতুন বন্ধুর সাক্ষাৎকার। আমাদের আজকের অনুষ্ঠানটিও তৈরি করেছেন আশরাফুর রহমান।

 (অচেনা পুরুষ)

আকতার জাহান: এক অসহায় রমণী কাঁধে পানির মশক ঝুলিয়ে হাঁপাতে হাঁপাতে নিজের বাড়ির দিকে যাচ্ছিলেন। পথে একজন অচেনা পুরুষ সে অসহায় মহিলার কাছ থেকে মশকটি নিয়ে নিজের কাঁধে ঝুলিয়ে মহিলার সাথে সাথে চলতে লাগলেন। মহিলার ছোট ছোট ছেলে-মেয়েরা বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে তাদের মায়ের আগমনের অপেক্ষা করছিল। এ মাছুম ছেলে-মেয়েরা দেখতে পেল যে, একজন অচেনা-অজানা লোক তাদের মায়ের সাথে তাদের বাড়ির দিকে আসছেন। আর পানির মশকটি তার কাঁধে।

নাসির মাহমুদ: বাড়িতে এসে অপরিচিত লোকটি পানির মশক মাটিতে রেখে মহিলাকে উদ্দেশ্য করে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘আপনার অবস্থা দেখে খুব ভালোভাবে বুঝতে পারা যায় যে, আপনার ঘরে কোনো পুরুষ লোক নেই। কিন্তু বলুন তো, আপনি এভাবে অসহায় হলেন কিভাবে?’

আকতার জাহান: জবাবে মহিলা বললেন, ‘আমার স্বামী ছিলেন একজন বীর যোদ্ধা। আলী ইবনে আবী তালিব তাকে ইসলামী বাহিনীর সাথে যুদ্ধে পাঠিয়েছিলেন। যুদ্ধে আমার স্বামীর মৃত্যু হয়েছে। এখন এ ছোট ছোট ছেলেমেয়ে ছাড়া জগতে আর আমার কেউ নেই।’

নাসির মাহমুদ: অচেনা লোকটি আর কোনো কথা বললেন না, বরং মাথা ঝুকিয়ে ঘরের বাইরে চলে গেলেন। কিন্তু তিনি এরপর শুধু এ অসহায় স্ত্রী লোকটি ও তার কচি কচি শিশু সন্তানের কথাই ভাবতে থাকলেন। রাতে তার নিদ্রা হলো না। সকালে তিনি একটি থলিতে কিছু খাদ্যদ্রব্য নিয়ে অসহায় রমণীর বাড়িতে গেলেন। দরজায় দাঁড়িয়ে আওয়াজ দিলেন। মহিলা ভেতর থেকে জিজ্ঞাসা করলেন, কে আপনি?

আগন্তুক জবাব দিলেন, ‘আমি খোদার সে বান্দা, যে কাল আপনার পানির মশক এনে দিয়েছিলাম। আজ আমি আপনার ছেলে-মেয়েদের জন্য কিছু খাদ্য-খাবার নিয়ে এসেছি।’

আকতার জাহান: মহিলা ভেতর থেকে বললেন, ‘হে আল্লাহর বান্দা! আল্লাহ তোমার মঙ্গল করুন। আমার ও আলী ইবনে আবী তালিবের মধ্যে আল্লাহই ফয়সালা করবেন।’

নাসির মাহমুদ: অতঃপর দরজা খুলে দিলেন। অচেনা লোকটি ঘরের মধ্যে প্রবেশ করলেন। খাদ্য সামগ্রীগুলো মহিলাকে দিয়ে বললেন, ‘আমার মন চাচ্ছে যে, কিছু সওয়াবের কাজ করব। আপনি যদি অনুমতি দেন তাহলে আমি নিজে আটা খামির করে রুটি বানিয়ে দেবো অথবা আমি ছেলে-মেয়েদের দেখাশোনা করি আর আপনি আটা খামির করে রুটি বানিয়ে নিন।’

আকতার জাহান: মহিলা বললেন, ‘আচ্ছা ঠিক আছে আমিই আটা খামির করে রুটি তৈরি করছি আর আপনি ছেলেমেয়েদের দেখাশোনা করুন।’

নাসির মাহমুদ: এরপর ভদ্র মহিলা আটা খামির করে রুটি তৈরিতে ব্যস্ত হলেন। আর অপরিচিত লোকটি থলে থেকে খুরমা বের করে নিজের হাতে এ ছেলেমেয়েদেরকে খুরমা খাওয়াতে লাগলেন। নিজের হাতে বাচ্চাদেরকে খুরমা খাওয়ানোর সময় তিনি তাদেরকে বার বার এ কথাটাই বলতে থাকলেন,’ হে আমার প্রিয় সন্তানরা! আলী ইবনে আবী তালিবকে মাফ করে দাও। যদিও তিনি তোমাদের ব্যাপারে কার্পণ্য করেছেন।’

আকতার জাহান: এতোক্ষণে আটা খামির হয়ে গেছে। এবার মহিলা বললেন, ‘হে আল্লাহর বান্দা! আটা খামির করা হয়ে গেছে। এবার তন্দুর জ্বালিয়ে দিন।’

নাসির মাহমুদ: অচেনা লোকটি সাথে সাথে উঠে গিয়ে তন্দুরে আগুন ধরালেন। আগুনের ভাপ তন্দুর থেকে বের হতে লাগল। লোকটি নিজের চেহারাকে আগুনের কাছে নিয়ে নিজে নিজে এভাবে বলতে লাগলেন, 'আগুনের তাপের স্বাদ আস্বাদন করো। একজন বিধবা রমণী ও ইয়াতিম বাচ্চাদের খোঁজ খবর নেবার ব্যাপারে কার্পণ্য করার এটাই শাস্তি।'

আকতার জাহান: তিনি যখন এ কাজে ব্যস্ততখনি প্রতিবেশী এক মহিলা এ বাড়িতে এলো এবং ঘরে ঢুকেই এ অপরিচিত লোকটিকে চিনতে পারল। তারপরে সে বিধবা মহিলাকে বলল, ‘ধিক তোমার প্রতি! তুমি কি এ লোকটিকে চেনো না? তাকে দিয়ে এভাবে কাজ করিয়ে নিচ্ছো? তিনি হলেন আমীরুল মু মিনীন হযরত আলী ইবনে আবী তালিব।’

নাসির মাহমুদ: অসহায় বিধবা মহিলাটি হযরত আলী (আ.) এর সামনে এসে বলতে লাগলেন, ‘আমি আমার এ কাজের জন্য আপনার নিকট খুবই লজ্জিত। আমি আপনার নিকট ক্ষমা চাইছি।‘

আকতার জাহান: একথা শুনে হযরত আলী (আ) বললেন, ‘না! আমিই বরং আপনার নিকট ক্ষমা চাচ্ছি। কেননা আমি আপনার ব্যাপারে খোঁজ-খবর নিতে কার্পণ্য করেছি।’

 (এক খ্রিস্টান ও হযরত আলীর বর্ম)

নাসির মাহমুদ: হযরত আলী (আ.)-এর খেলাফতকালে একবার কুফায় তাঁর একটি বর্ম বা যুদ্ধে ব্যবহৃত লৌহ পোশাক হারিয়ে গেল। কিছু দিন পরে বর্মটি দেখা গেল এক খ্রিস্টান ব্যক্তির কাছে। হযরত আলী (আ.) খ্রিস্টান লোকটিকে বর্মটি ফেরত দিতে বললে সে তা দিতে অস্বীকার করল। এরপর খলিফা তাকে সাথে নিয়ে কাজী বা বিচারপতির দরবারে গেলেন এবং তার বিরুদ্ধে মামলা করলেন।

আকতার জাহান: সবশুনে কাজী খ্রিস্টান লোকটির উদ্দেশ্যে বললেন, ‘খলিফা দাবি করছেন বর্মটির তাঁর। এ ব্যাপারে তোমার বক্তব্য কি? ’লোকটি বলল, 'এটা আমার বর্ম। আমি খলিফাকেও মিথ্যাবাদী বলছি না। হতে পারে তিনি এটা চিনতে ভুল করছেন।'

নাসির মাহমুদ: এবার বিচারক হযরত আলীকে লক্ষ্য করে বললেন, ‘এ লোকটি আপনার দাবি মেনে নিতে অস্বীকার করছে। এখন আপনার কর্তব্য হচ্ছে- আপনার দাবির পক্ষে সাক্ষ্য-প্রমাণ হাজির করা।'

আকতার জাহান: এসময় হযরত আলী (আ.) বললেন, ‘কাজী সাহেব! আপনি ঠিকই বলেছেন যে, এখন আমার উচিত সাক্ষ্য-প্রমাণ পেশ করা। কিন্তু এ ব্যাপারে আমার ছেলে ও মুক্ত কৃতদাস ছাড়া আর কোনো সাক্ষী নেই।’

নাসির মাহমুদ: বিচারক বললেন, 'ইসলামের শরীয়া মোতাবেক নিজের সন্তান, কৃতদাস সাক্ষী হতে পারে না কারণ তারাতো আপনার পক্ষেই সাক্ষ্য  দেবে সুতরাং আমি আপনার সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণ করতে পারব না'

আকতার জাহান: সাক্ষ্য-প্রমাণ হাজির করতে না পারার কারণে কাজী সাহেব বিচারের রায় খ্রিস্টান লোকটির পক্ষে দিয়ে দিলেন। কাজীর রায় শুনেই সে খ্রিস্টান লোকটি বর্মটি তুলে নিয়ে নিজের বাড়ির দিকে চলল।

আকতার জাহান: খ্রিস্টান লোকটি খুব ভালোভাবেই জানতো যে, এ বর্মটি তার নয়। সুতরাং কয়েক কদম যাওয়ার পর তার মধ্যে অনুশোচনার সৃষ্টি হলো। তৎক্ষণাৎ সে ফিরে এসে খলিফাকে উদ্দেশ করে বললেন, 'আসলে এই বর্মটি আপনার। আপনি যখন সিফফিনের যুদ্ধে যাচ্ছিলেন তখন আপনার ঘোড়ার পিঠ হতে এটা পড়ে গিয়েছিল। আমি এটা কুড়িয়ে নিয়েছিলাম। আপনি এটা ফেরত নিন।’

নাসির মাহমুদ: এরপর লোকটি বলতে লাগল, ‘আপনাদের এ শাসন ব্যবস্থা এবং লোকদের সাথে আপনাদের এমন সুন্দর ব্যবহারের ধরণ বলে দিচ্ছে যে, এটা কোনো সাধারণ মানুষের আচার-ব্যবহার নয়। নিঃসন্দেহে এটা নবী-রাসূলদের আচার-আচরণের মতো।’

আকতার জাহান: এ ঘটনার কিছুদিন পর খ্রিস্টান লোকটি ইসলাম গ্রহণ করে মুসলমান হয়ে গেল এবং হযরত আলী (অ.)-এর পতাকাতলে থেকে নাহরাওয়ান যুদ্ধেও অংশগ্রহণ করে।

(এক মুসলমান ও এক আহলে কিতাব)

নাসির মাহমুদ: বন্ধুরা, তোমরা নিশ্চয়ই জানো যে, একসময় ইরাকের কুফা নগরী ছিল ইসলামী শাসনের প্রাণকেন্দ্র। সেখান থেকে শাসনকার্য পরিচালনা করতে আমিরুল মু'মিনিন হযরত আলী আ.)।

আকতার জাহান: একবার ওই শহর থেকে অনেক দূরে দুই ব্যক্তির সাথে রাস্তায় দেখা হলো। একজন মুসলমান আর অপরজন আহলে কিতাব অর্থাৎ ইয়াহুদী বা খ্রিস্টান। দুই জনেই একে অপরের গন্তব্য সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করল। জানা গেল যে, মুসলমান লোকটি কুফা শহরে যাবে। আর আহলে কিতাব লোকটি কুফার নিকটেই অন্য এক স্থানে যাবে। দুইজনে মিলে স্থির করল যে, তারা এক সাথে সফর করবে। কেননা, অনেক দূর পর্যন্ত দুইজনের রাস্তা একই। এক সাথে কথাবার্তা বলতে বলতে পথ চলা যাবে।

নাসির মাহমুদ: দুজনের আন্তরিক আলাপ-আলোচনা ও বিভিন্ন কথাবার্তার মধ্য দিয়ে পথ শেষ হয়ে এলো। অবশেষে তারা একটি দুই রাস্তার মোড়ে এসে উপস্থিত হলো যেখান থেকে দু’জনের রাস্তা দু’দিকে চলে গেছে।

আকতার জাহান: আহলে কিতাব লোকটি তার নিজের পথ ধরে চলতে লাগল। কিছু দূর পথ চলার পর পিছনে ফিরে তাকিয়ে সে অবাক হয়ে গেল। সে দেখতে পেল- তার মুসলমান বন্ধুটি কুফার দিকে না গিয়ে তারই পিছে পিছে চলে আসছে। এ অবস্থা দেখে সে দাঁড়িয়ে গেল এবং তার মুসলমান বন্ধুটিকে জিজ্ঞেস করল: ‘কী ভাই! তুমি না বলেছিলে যে, তুমি কুফা যাবে?’

নাসির মাহমুদ: জবাবে মুসলমান বন্ধুটি বলল, ‘আমি তো এখনো বলছি যে, আমি কুফা যাবো’।

আকতার জাহান: আহলে কিতাব লোকটি বলল, ‘তাহলে তুমি এদিকে আসছো কেন? এটা তো কুফার রাস্তা নয়। কুফা যাবার রাস্তা তো ঐটা।

নাসির মাহমুদ: মুসলমান বন্ধুটি বলল, ‘আমি জানি। কিন্তু আমার মন চাইল যে, কিছু দূর পর্যন্ত আমি তোমার সঙ্গ দেবো। কেননা আমাদের নবী বলেছেন ‘যখন দু’ব্যক্তি এক সাথে আলাপ-আলোচনার মধ্য দিয়ে পথ চলে তখন একে অপরের প্রতি অধিকার লাভ করে। আমি সে অধিকার আদায় করার উদ্দেশ্য কিছু দূর পর্যন্ত তোমার সাথে চলতে চাই।'

আকতার জাহান: আহলে কিতাব বলল, ‘ওহ্! তোমাদের নবী যে মানুষের উপর এতোই প্রভাব বিস্তার করেছিলেন এতো দ্রুত বিশ্বে প্রসার লাভ করেছি, এটা নিশ্চয় তাঁর এই উত্তম চরিত্রেরই গুণে ছিল।’

নাসির মাহমুদ: আহলে কিতাব লোকটি আরো বেশী অবাক হলো তখন যখন সে জানতে পারল যে, তার সফর সঙ্গী মুসলমান বন্ধুটি আর কেউ নন, বরং মুসলিম জাহানের বর্তমান খলিফা হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (আ.)। তৎক্ষণাৎ সে ইসলাম গ্রহণ করে মুসলমান হয়ে গেল এবং হযরত আলীর বিশ্বস্ত ও অনুগত সঙ্গীদের অন্তর্ভুক্ত হলো।

আকতার জাহান: বন্ধুরা, অনুষ্ঠানের এ পর্যায়ে তোমাদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেবো বাংলাদেশের যশোরের এক নতুন বন্ধুকে। ওর নাম সামিয়া ইসলাম।

নাসির মাহমুদ:  শিশু-কিশোর বন্ধুরা তোমরা ভালো ও সুস্থ থেকো আবারো এ কামনা করে গুটিয়ে নিচ্ছি রংধনুর আজকের আসর। কথা হবে আবারো আগামী আসরে।#

পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/১০

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।

 

 

 

ট্যাগ