মে ০৩, ২০২১ ২০:২৮ Asia/Dhaka

মহানবীর হাদিসের আলোকে রমজানের শ্রেষ্ঠ আমল হল পাপ-বর্জন।

আমাদের সমাজে অনেক পাপী  মানুষও নীতিগতভাবে পাপকে অপছন্দ করেন এবং পাপ বর্জনের উপায় খোঁজার চেষ্টা করেন। কিন্তু  পাপ বর্জনের সঠিক উপায় বা কৌশল সম্পর্কে জ্ঞান না থাকায় এক্ষেত্রে তেমন একটা সফল হন না। তাই প্রথমেই আমাদেরকে জানতে হবে কোন্ কোন্‌ কাজগুলো পাপ হিসেবে বিবেচিত হয়। যেমন, আমরা অনেকেই জানি না যে সগিরা গোনাহ বা ছোটখাট পাপকেও ছোট মনে করাটা কবিরা গোনাহ বা বড় পাপ হিসেবে বিবেচিত হয়। অনেক ব্যবসায়ী বা ভোক্তা জানেন না যে কোন ধরনের লেনদেন হারাম ও কোন্‌ ধরনের লেনদেন সুদি-কারবার হিসেবে পরিত্যাজ্য। তাই এসব বিষয়ে সবারই উচিত জ্ঞান অর্জন করা। অজ্ঞতা হচ্ছে পাপের অন্যতম উৎস। সুযোগ থাকা সত্ত্বেও পাপ-পূণ্য এবং হালাল-হারাম সম্পর্কিত জ্ঞান অর্জনের চেষ্টা না করাটাও হচ্ছে পাপ। 

অনেক মানুষ তাদের উপার্জনকে হালাল না করেই পাপ বর্জনের চেষ্টা করেন। তাই তারা নানা ধরনের পাপ বর্জনে খুব একটা সফল হন না। যেমন, শিক্ষক যদি ক্লাস ফাঁকি দিয়ে পাপ বর্জনের চেষ্টা করেন তাহলে তার রিজিক তো হলাল হবে না। অফিস-আদালতে যে যতটুকু কাজ করতে চুক্তিবদ্ধ বা অঙ্গীকারবদ্ধ তার চেয়ে কম কাজ করলে তার রিজিক পুরোপুরি হালাল হবে না। তবে কারো অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে জোর করে বেশি কাজ চাপিয়ে দেয়াও ঠিক নয়।  আর ঘুষ খাওয়া অব্যাহত রেখেই পাপ বর্জনের চেষ্টা মানে নিজেকেই নিজে উপহাস করা।

 কারবালার রণাঙ্গনে হযরত ইমাম হুসাইন (আ) এবং তাঁর সঙ্গীরা জালিম  ইয়াজিদি বাহিনীর প্রতি  অনেক যৌক্তিক সতর্কবাণী ও হৃদয়-গলানো উপদেশ দেয়া সত্ত্বেও অল্প কয়েকজন সৎ ব্যক্তি ছাড়া অন্যদের ওপর তা কোনো প্রভাব ফেলেনি । এর কারণ হিসেবে ইমাম হুসাইন (আ) বলেছিলেন, ওরা হারাম উপার্জন বা হারাম খাওয়ার কারণেই সত্যকে বা আমাদের উপদেশকে গ্রহণ করছে না।

মহানবীর প্রতি ভালবাসা পাপ-বর্জনের অন্যতম উপায়। এই ভালোবাসা মানুষকে কিভাবে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনে ও পাপ বর্জনের পথ খুলে দেয় তার দৃষ্টান্ত দেখা গেছে কারবালার ময়দানে। যেমন, হোর ইবনে ইয়াজিদ ইয়াজিদি বাহিনীর বড় জেনারেল হয়েও ইয়াজিদি সেনাদল ত্যাগ করে ইমাম হুসাইনের ক্ষুদ্র বাহিনীতে যোগ দেন মহানবীর প্রতি ভালবাসার কারণেই। যখন তিনি বুঝতে পারলেন যে ইবনে সাদ ও সীমারের মত মুনাফিক চক্র মহানবীর নাতি ইমাম হুসাইনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ তখন হোরের রাসুল-প্রীতি ও রাসুলের আহলে বাইতের প্রতি মহব্বত তাঁকে চূড়ান্ত আত্মত্যাগের জন্য প্রস্তুত করল এবং তিনি ইমাম হুসাইনকে কুফায় যেতে বাধা দেয়ার কারণে অনুশোচনার আগুনে জ্বলে পুড়তে থাকেন। হোর ভেবেছিলেন যে ইয়াজিদ বাহিনী ইমাম হুসাইনকে কেবল আটকে রাখবে বা গ্রেফতার করবে। তারা যে তাঁকে শহীদ করতে চায় তা হোর ধারণাও করতে পারেননি মহানবী ও নবী পরিবারের প্রতি ভালবাসা থাকার কারণেই।

জুহাইর নামে এক ব্যক্তি মহানবীর আহলে বাইতের বিরোধী বা তাঁদের বিদ্বেষী গ্রুপগুলোর মিথ্যাচারে বিভ্রান্ত হয়ে মনে করতেন যে হযরত আলী ছিলেন উসমানের হত্যাকারী! তাই কারবালার ময়দানে তাঁকে ইমাম হুসাইনের পক্ষের ক্ষুদ্র বাহিনীতে শরিক হতে দেখে ওমর সাদের ইয়াজিদ বাহিনীর অশ্বারোহী বাহিনীর প্রধান উরওয়াত বিন ক্বিইস বিস্মিত হয়। আলী বিরোধী হয়েও  কিভাবে এখন তিনি হুসাইনের দলে যোগ দিয়েছেন এ প্রশ্ন করলে জুহাইর জবাব দেন: আল্লাহর কসম! আমি তোমার মত নই যে ইমাম হুসাইনের কাছে সমর্থনসূচক চিঠি লিখেছিলাম ও দূতও  পাঠিয়েছিলাম, কিন্তু পথ আমাদের দুজনকে অর্থাৎ আমাকে ও ইমাম হুসাইনকে এক করেছে! আমি যখন তাঁকে অর্থাৎ হুসাইনকে দেখলাম তখন আমার রাসুলের স্মৃতি মনে পড়ে গেলো।....... অর্থাৎ মহানবীর প্রতি ভালবাসাই জুহাইরকে সঠিক পথে ফিরিয়ে এনে তাঁকে কারবালায় ইমাম হুসাইনের সহযোগী হওয়ার সৌভাগ্য দান করেছে!

তওবার সুযোগ গ্রহণ করা পাপ বর্জনের অন্যতম বড় উপায়। সব পাপীর জন্যই তওবার পথ খুলে রেখেছেন মহান আল্লাহ এ কারণেই। ফজল বিন আয়ায যদি তওবা না করতেন তাহলে বহু মুসাফির তার রাহাজানি ও লুটপাটের শিকার হত এবং বহু মানুষ শরণার্থী হয়ে পড়ত। একদিন ফজল এক মুসাফিরখানায় দুইজন যাত্রীর কথোপকথন থেকে বুঝতে পারে যে মুসাফিররা তাকে ভয়ানক সন্ত্রাসী হিসেবে ভয় করে আতঙ্কের মধ্যে থাকে এবং এ কারণে রাতের বেলায় তারা ভ্রমণের সাহস পায় না। এ অবস্থায় অনুতপ্ত ফজল সবার সামনে উচ্চস্বরে ঘোষণা করে যে আমি আর রাহাজানি করব না, কারো যাত্রায় বাধা দেব না! আমি তওবা করলাম আল্লাহর দরবারে!

মহান আল্লাহ তওবাকারীদের খুবই ভালোবাসেন বলে পবিত্র কুরআনে উল্লেখ করেছেন। সুরা বাকারার ২২২ নম্বর আয়াতে তিনি বলেছেন: নিশ্চয়ই আল্লাহ তওবাকারী এবং অপবিত্রতা থেকে যারা বেঁচে থাকে তাদেরকে পছন্দ করেন।

পাপের চিন্তা না করাটাও পাপ বর্জনের অন্যতম উপায়। পাপের চিন্তা অনিচ্ছাকৃতভাবে মনে এসে গেলেও খুব দ্রুত মনকে অন্য দিকে ফিরিয়ে নিতে হবে এবং শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে বাঁচার জন্য আল্লাহর আশ্রয় চাইতে হবে।  হযরত ঈসা (আ) বলেছেন, ব্যভিচারের চিন্তাও মনে আনবে না। কারণ এমন চিন্তা মনে আনার অর্থ হল এক সুন্দর রঙিন ঘরের রঙ-কে আগুনের কালো ধোঁয়ায় কলুষিত ও নোংরা করা, যদিও তাতে ঘর পুড়ে যায় না! মহান আল্লাহ আমাদেরকে সব ধরনের পাপ বর্জনের তৌফিক দিন#

এবারে শোনা যাক অর্থসহ ২১ তম রোজার দোয়া

 

পার্সটুডে/এমএএইচ/মো.আবুসাঈদ/২১

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।

 

ট্যাগ