মে ০৮, ২০২১ ২০:৫৭ Asia/Dhaka

শ্রোতা/পাঠকবন্ধুরা! স্বাস্থ্যকথার আসরের শুরুতেই সবাইকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছি আমি গাজী আবদুর রশীদ। আশাকরি সবাই ভালো ও সুস্থ আছেন। আপনারা পবিত্র রমজান মাসে স্বাস্থ্যকথার এ আসর শুনছেন। আর আলোচনা করবেন বাংলাদেশের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সিলেটের ওসমানী মেডিকেল কলেজের ইন্টারন্যাল মেডিসিন বিভাগের সাবেক প্রধান অধ্যাপক ইসমাঈল পাটোয়ারি।

রেডিও তেহরান: অধ্যাপক ইসমাঈল পাটোয়ারি, এর আগের আসরে আপনি বলেছিলেন, রোজা নানাভাবে উপকারি হতে পারে। রোজা কিভাবে উপকারি হতে পারে তার একটি ব্যাখ্যা ও খুব অল্প পরিসরে দিয়েছিলেন। আজকের আসরের শুরুতেই এ প্রসঙ্গে বিস্তৃত ব্যাখ্যা  করার অনুরোধ করছি।

Image Caption

অধ্যাপক ইসমাঈল পাটোয়ারি: রোজা মুসলমানদের জন্য আল্লাহ ফরজ করে দিয়েছেন। রোজা মুসলমানদেরকে রাখতে হবে। আর অসুখ বিসুখ থাকবে। তবে অনেক অসুখ বিসুখ রোজার সময় নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। পরিমিতি খাদ্য গ্রহণের জন্য রোজা হচ্ছে একটি উৎকৃষ্ট সময়। আজকের একটি বড় সমস্যা হচ্ছে স্থূলতা। যাদের ওজন বেড়ে যায় তাদের এই ওজন বেড়ে যাওয়ার সাথে সাথেই নানাধরনের সমস্যা তৈরি হতে পারে। রোজার সময় যদি তারা পরিমিত খাবার গ্রহণ করে তাহলে ওজন অনেকটা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবে অন্যান্য রোগও নিয়ন্ত্রণ হবে। ফলে ওবেসিটি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য রোজা অবশ্যই খুবই উপকারী। এছাড়া আজকাল কোলেস্টেরলের যে সমস্যা প্রায় বেশিরভাগ মানুষের দেখা যায় সেটাও রোজার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। আমরা যদি নিয়মিত ওষুধ সেবন করি তাহলে হাইপারটেনশনও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। এছাড়া যাদের পেটের সমস্যা হয় তাও রোজার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

রোজা নানা রোগ নিয়ন্ত্রণ করে

আমরা যারা নানাধরনের টেনশনে ভুগি তারাও যদি আল্লাহর উপর ভরসা করে ঠিকমত রোজ রাখি তাহলে ঠাণ্ডা মাথায় অনেক কিছুই সমাধান করা সম্ভব। অনেকগুলো সাইকো সমেটিক ডিজিস আছে সেগুলোকেও রোজার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

রেডিও তেহরান: আচ্ছা অধ্যাপক পাটোয়ারি,  আপনি সাইকো সোমাটিক ডিজিজ নামটি বলেছেন, এ শব্দ দিয়ে কি মনো দৈহিক রোগ বোঝানো হয়েছে ? 

অধ্যাপক ইসমাঈল পাটোয়ারি: জ্বি। এ শব্দ দিয়ে মনো-দৈহিক রোগকে বোঝানো হয়েছে। ঘুমের সমস্যা, অস্থিরতা, হতাশা মনো দৈহিক রোগের মধ্যে পড়ে। প্রকৃত উদ্দেশ্য বুঝে যদি রোজা রাখা যায় তাহলে এসব মনো-দৈহিক রোগ থেকেও মুক্ত থাকা সম্ভব। মূলত খাদ্যভ্যাসগুলো যদি পরিমিত এবং নিয়ন্ত্রিত করা যায় তাহলে মনো দৈহিক এসব রোগগুলোকেও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

রেডিও তেহরান: অধ্যাপক পাটোয়ারি, রোজা কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে এমন একটি কথা আপনি বলেছেন। আপনি কি একটু ব্যাখ্যা করবেন বিষয়টি?

অধ্যাপক ইসমাঈল পাটোয়ারি: হ্যাঁ, রোজা কোলেস্টরল কমাতে সাহায্য করে। কোলেস্টেরল বাড়ার কারণ খাদ্যভ্যাস। চর্বিযুক্ত খাবারের কারণে কোলেস্টরল বাড়ে। যদি চর্বিযুক্ত খাবারগুলোকে এড়িয়ে চলা যায় তাহলে কোলেস্টরল থেকে মুক্ত থাকা যায়। গরু, খাশি কিংবা এ ধরনের চর্বিযুক্ত গোশত খেলে এগুলো রক্তনালীতে জমে যায়। এই খাবারগুলো এড়িয়ে চলা উচিত। এছাড়া ডিমের কুসুমে কোলেস্টরল বেশি থাকে। দুধের সরে কোলেস্টরল বেশি থাকে। এসব খাবার যদি এড়িয়ে চলা যায় তাহলে কোলেস্টরল নিয়ন্ত্রণে আসবে। এরসাথে সাথে বেশি পরিমাণে ফল ও শাকসব্জী খেতে হবে এবং ব্যয়াম করতে হবে। একটা বিষয় খেয়াল করতে হবে রোজাতে বিশেষ করে রাতের দিকে যাদের ব্যয়ামের অভ্যাস আছে তারা যেন বিকেলের দিকে ব্যয়াম না করেন।

রেডিও তেহরান: অধ্যাপক পাটোয়ারি- আলোচনার শেষ পর্যায়ে এসে আপনি রেডিও তেহরানের শ্রোতাভাইবোনদের উদ্দেশ্যে আর কিছু বলবেন কি ?

Image Caption

অধ্যাপক ইসমাঈল পাটোয়ারি: আমি আপনার মাধ্যমে রেডিও তেহরানের দর্শক শ্রোতাদেরকে এই ম্যাসেজটুকু দিতে চাই রোজা মুসলমানদের জন্য ফরজ। এটি আল্লাহর বিধান। এটি আমাদেরকে মানতেই হবে। আমরা যদি আল্লাহর বিধান মেনে চলি, সঠিক খাদ্যভ্যাস গড়ে তুলি এবং মাথা ঠাণ্ডা রাখতে পারি তাহলে রোজাতে আমাদের উপকার ছাড়া অপকার হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। তাছাড়া রোজার মধ্যে ক্রনিক এবং ননক্রনিক অনেক অসুখ ভালো হতে পারে ঠিকমত নিয়ম মেনে চললে। সেজন্য রোজার সময় আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। যেমন অনেক ভাবতে পারেন- রোজায় আমার ডায়াবেটিস, প্রেসার, কোলস্টরেল নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে। অ্যাসিডিটি বেড়ে যাবে- এধরনের অহেতুক চিন্তা আমাদের মাথায় নেয়ার কোনো দরকার নেই। সবকিছুতে যদি আমরা ঠিকঠাক মত চলি তাহলে রোজায় অপকার তো হবেই না বরং উপকার হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি।

এতক্ষণ রোজার উপকার সম্পর্কে আলোচনা করছিলেন বাংলাদেশের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অধ্যাপক ইসমাইল পাটোয়ারি।

আর এ সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করেছেন সৈয়দ মূসা রেজা এবং উপস্থাপনা ও তৈরি করেছেন গাজী আবদুর রশীদ।

আজকের আলোচনা থেকে বুঝতে পারছি মারাত্মক অসুখ বিসুখ না থাকলে সবার পক্ষেই  রোজা রাখা সম্ভব।

তো শ্রোতা/পাঠকবন্ধুরা! এবার বিদায় নেব স্বাস্থ্যকথার আজকের আসর থেকে। রোজার সংযমের শিক্ষা আত্মিক ক্ষমতাই কেবল বাড়ায়  না বরং সুস্থ থাকতেও সহায়তা করে। রোযার শিক্ষাকে গ্রহণ করে সবাই সংযমী হবো। সবাই ভালো ও সুস্থ থাকুন-স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন।#

পার্সটুডে/গাজী আবদুর রশীদ/৮

  • বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।

 

ট্যাগ