মে ১০, ২০২১ ১৭:২৬ Asia/Dhaka

পবিত্র রমজান মাসের আর অল্প ক'টি দিন বাকি রয়েছে।

এই মাস এমন এক মাস যার গুরুত্ব সম্পর্কে মহানবী (সা) বলেছেন, রমযান মাসে যে সব বরকত ও কল্যাণ আছে তা যদি বান্দারা জানত তাহলে তারা কামনা করত যে পুরো বছরটাই রমযান মাস হোক। মহানবী (সা:) আরও বলেছেন: মাহে রমযানকে রমযান নামকরণ করা হয়েছে এ কারণে যে  এ মাসে পাপ পুড়িয়ে  নিশ্চিহ্ন করে দেয়া হয় অর্থাৎ পাপসমুহ  এ মাসে হয় বিমোচিত।

মহানবী ( সা: ) আরো বলেছেন: রমযানের মাসের প্রথম ভাগ তথা প্রথম দশ দিন  হচ্ছে রহমত তথা দয়া ও কৃপা , মধ্যভাগ বা  দ্বিতীয়  দশ দিন হচ্ছে মাগফিরাত তথা ক্ষমা  এবং তৃতীয় বা শেষ ভাগ অর্থাৎ শেষের দশ দিন  হচ্ছে দোযখের আগুণ থেকে মুক্তির দিন।                                                                          

মহানবী ( সা: ) বলেছেন: মহান আল্লাহ বলেছেন: রোযা আমার জন্য এবং স্বয়ং আমি এর প্রতিদান ( সওয়াব ) প্রদান করব।

আমীরুল মুমিনীন হযরত আলী ( আঃ ) বলেছেন:  পার্থিব আমোদ-প্রমোদ ও ভোগ – বিলাস থেকে বিরত থাকা হচ্ছে আত্মার রোযা অর্থাৎ সবচেয়ে উপকারী রোযা।

আমীরুল মুমিনীন আলী ( আঃ ) আরো বলেছেন: মানুষ যেমন পানাহার থেকে নিজেকে বিরত রাখে ঠিক তেমনি প্রকৃত রোযা হচ্ছে হারামসমুহ থেকে বিরত থাকা ।

আলী ( আঃ )আরো বলেছেন: অন্তঃকরণের রোযা হচ্ছে  জিহ্বার রোযা অপেক্ষা উত্তম এবং জিহ্বার রোযা হচ্ছে পেটের রোযার চেয়ে উত্তম।

হযরত ফাতিমা ( আঃ ) থেকে বর্ণিত: যে রোজাদার  তার জিহ্বা,কান,চোখ এবং হাত-পাকে  পাপ থেকে রক্ষা করে না রোযা রেখে তার হবে  কী ? অর্থাৎ রোযায় তার ফায়দা হবে না  যদি না রোজাদার তার জিহ্বা,কান,চোখ এবং হাত-পাকে  পাপ থেকে রক্ষা না করে।

মহানবী (সা: ) বলেছেন: হে লোকসকল , যখন রমযানের নতুন চাঁদ উঠে তখন বিদ্রোহী শয়তানদেরকে শিকলে বাঁধা হয়,  আসমানের ফটক , বেহেশতের দ্বার ও রহমতের দরজাসমুহ খুলে দেয়া হয় এবং  দোযখের দরজাসমুহ বন্ধ করে দেয়া হয়।

হযরত ফাতিমা ( আঃ ) বলেছেন: একনিষ্ঠতা ও একাগ্রতা সহকারে মহান আল্লাহর ইবাদত - বন্দেগী পালন অর্থাৎ ইখলাস সুদৃঢ় করার জন্যই মহান আল্লাহ রোযা ফরয করেছেন।

ইমাম বাকির ( আঃ ) বলেছেন: যে ব্যক্তি মহান আল্লাহর মনোনীত ইমাম ( আঃ ) কে অমান্য করে তার রোযা হবে না, মনিবের কাছে ফিরে না আসা পর্যন্ত পলাতক দাসের রোযা হবে না , তওবা না করা পর্যন্ত স্বামীর অবাধ্য স্ত্রীর রোযা হবে না, পিতা-মাতার প্রতি বাধ্য না হওয়া পর্যন্ত অবাধ্য সন্তানের রোযা হবে না।

ইমাম সাদিক ( আঃ) বলেছেন: মহান আল্লাহ পয়লা রমযানের রাতে নিজ বান্দাদের মধ্য থেকে  যা কে ইচ্ছা তাকে ক্ষমা করেন। রমযানের দ্বিতীয় রজনীতে প্রথম রাতে  যাদের ক্ষমা করেছেন তাদের দ্বিগুণ সংখ্যককে তিনি ক্ষমা করেন। আর রমযানের তৃতীয় রাতে পূর্বে যাদেরকে তিনি ক্ষমা করেছেন তাদের দ্বিগুণ সংখ্যককে তিনি ক্ষমা করেন আর ঠিক এভাবে ক্ষমার হার রমযান মাসের শেষ রাত পর্যন্ত চলে। অর্থাৎ রমজানের প্রতি রাতে তিনি যত বান্দাকে দোযখের আগুণ থেকে মুক্ত করেছেন রমজান শেষ না হওয়া পর্যন্ত পরের রাতে তার দ্বিগুণ সংখ্যক বান্দাকে  ক্ষমা করেন এবং দোযখের আগুণ থেকে  মুক্ত করেন ।  ইমাম সাদিক ( আঃ ) আরো বলেছেন: তিনটি জিনিসের উৎপত্তি মহান আল্লাহর রহমত (দয়া ও করুণা ) থেকে: ১. রাত্রি জাগরণ ও তাহাজ্জুদের বা  রাতের  নামায আদায় করা, ২. দ্বীনী ভাইদের সাথে দেখা – সাক্ষাৎ এবং ৩. রোযা ( সওম )।

মহানবী (সা) বলেছেন, যে ব্যক্তি মাহে রমযানে রোযা রাখে অতঃপর নিজ লজ্জাস্থান ও জিহ্বাকে হেফাজত করে ও সংযত রাখে মহান আল্লাহ তার সকল পূর্ববর্তী ও পরবর্তী গুনাহ মাফ করে দেবেন, তাকে দোযখ থেকে মুক্ত করে চিরস্থায়ী আবাসস্থল অর্থাৎ বেহেশতে স্থান দেবেন এবং তৌহীদে বিশ্বাসীদের পাহাড় – পর্বতের সমান ( অগণিত ) গুনাহ ও পাপ ক্ষমা করে দেয়ার জন্য তার শাফায়াতও কবুল করবেন।

রমজানের প্রধান আকর্ষণ হচ্ছে শবে ক্বদর। পাপ মোচনের জন্য এমন রাত মহান আল্লাহর অন্যতম সেরা নেয়ামত। পবিত্র কুরআন নাজিল হওয়ার কারণেই এই রাত এত বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

হযরত ইমাম সাদিক ( আঃ ) বলেছেন: সমগ্র কুরআন রমযান মাসে একদফায় বাইতুল মামুরে অবতীর্ণ হয় এবং এরপর  ২০ বছর ধব়ে ধাপে ধাপে অর্থাৎ ধীরে ধীরে ও পর্যায় ক্রমে  তা অবতীর্ণ হতে থাকে। ইমাম সাদিক ( আঃ ) আরও বলেছেন: ৬ ই রমযান তৌরাত , ১২ ই রমযান ইঞ্জিল , ১৮ ই রমযান যাবূর এবং লাইলাতুল ক্বদর অর্থাৎ মহিমান্বিত রজনীতে কোরান অবতীর্ণ হয়েছে।

মানুষ খোদাপ্রেমের মাধ্যমে কখনও কখনও এমন যোগ্যতা অর্জন করতে পারে যে তারা অতি অল্প সময়ে একশ বছরের পথ অতিক্রম করতে সক্ষম হয়। আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের এমনই এক রাত হলো শবে ক্বদর। স্থানের গুরুত্বও কখনও কখনও এমন হয় যে সেই স্থানে এক রাকাত নামাজ আদায় করা অন্যত্র হাজার রাকাত নামাজ আদায়ের সমতুল্য। পবিত্র কাবা ঘর ও মহানবীর রওজা পাক এমনই স্থান। মহান আল্লাহ আমাদেরকে এইসব পবিত্র স্থানে নামাজ আদায়ের তৌফিক দিন।

পার্সটুডে/এমএএইচ/মো.আবুসাঈদ/২৭

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।

ট্যাগ