মে ১০, ২০২১ ২০:০২ Asia/Dhaka

এই পরিসংখ্যান অনুযায়ী বিশ্বের তেল মজুতের যেই পরিমাণ তথ্যপঞ্জিতে প্রমাণিত তার প্রায় দশ শতাংশই রয়েছে ইরানে। সুতরাং তেল মজুতের ক্ষেত্রে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম দেশ এখন ইরান।

বলেছিলাম যে প্রাচীনকাল থেকেই ইরানে তেলের ব্যবহার নিয়ে। এ প্রসঙ্গে উল্লেখ্য যে, গ্রিক ইতিহাসবিদ হেরোডোটাস ইরানীদের তেল এবং বিটুমিন উত্তোলন সম্পর্কে তাঁর বইতে লিখে গেছেন। বিশ্বে প্রথম তেল অনুসন্ধানের ঘটনা ঘটেছিল ফ্রান্সে। সতেরো শ পঁয়তাল্লিশ সালের ঘটনা এটি। আর আঠারো শ উনষাট খ্রিস্টাব্দে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভেনিয়ায় তেলকূপ খনন করে তা থেকে সর্বপ্রথম তেল উত্তোলন করা হয়েছিল। মধ্যপ্রাচ্যে তেল কূপগুলোর অনুসন্ধান কাজের সূচনা এবং তেলকূপ থেকে তেল উত্তোলনের কাজ শুরু হয়েছিল বিংশ শতাব্দীর গোড়ার দিকে। ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর মাসজেদ সোলায়মানেই প্রথম তেল আবিষ্কার হয়েছিল।

এই মাসজেদ সোলায়মান শহরেরই এক নম্বর তেল কূপ থেকে ইরানের তেল উত্তোলনের সূচনা হয়েছিল। উনিশ শ এগারো সালে এখান থেকে দৈনিক পাঁচ শ ব্যারেল তৈল উৎপাদনের মধ্য দিয়ে ইরানের তেল শিল্পের শুভ সূচনা হয়। মাসজেদ সোলায়মান শহরে তেলের উৎপাদনের সূচনা হবার পর ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে আরও তেলক্ষেত্র আবিষ্কারের লক্ষ্যে অনুসন্ধান ও খনন অভিযান শুরু হয়ে যায়। ওই অনুসন্ধানের মাধ্যমে দক্ষিণ ইরানের অন্যান্য তেলক্ষেত্র আবিষ্কার হতে শুরু করে। যেসব তেল ক্ষেত্র আবিষ্কার হয় সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটির নাম আপনাদের জানানো প্রয়োজনীয় মনে করছি।

অনুসন্ধানের মাধ্যমে আবিষ্কৃত তেলক্ষেত্রগুলোর মধ্যে কয়েকটি হলো: হাফতকোল, এটি আবিষ্কৃত হয় উনিশ শ সাতাশ খ্রিষ্টাব্দে। অগা'জরী-এটি আবিষ্কৃত হয় উনিশ শ ছত্রিশ খ্রিষ্টাব্দে। 'আহওয়াজ' আবিষ্কৃত হয় উনিশ শ সাতান্ন খ্রিষ্টাব্দে। বিনক তেল ক্ষেত্রের সন্ধান মেলে উনিশ শ উনপঞ্চাশ খ্রিষ্টাব্দে। বিবি হাকিমেহ তেল ক্ষেত্রটি আবিষ্কৃত হয় উনিশ শ একষট্টি খ্রিষ্টাব্দে।  মরুন এবং কোরাঞ্জ তেলক্ষেত্র দুটির সন্ধান মেলে উনিশ শ তেষট্টি খ্রিষ্টাব্দে। পারসি এবং রাগ-ই-সেফিড তেলক্ষেত্র দুটি আবিষ্কৃত হয় উনিশ শ চৌষট্টি খ্রিষ্টাব্দে।

অসংখ্য তেলক্ষেত্রের নামও আপনাদের জানিয়েছি ইতোমধ্যে। সময়ের পরিক্রমায় এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে তেলের ক্রমবর্ধমান ভূমিকার কারণে উনিশ শ ষাট খ্রিষ্টাব্দে ইরাকের রাজধানী বাগদাদে তেল-রফতানিকারক দেশগুলোর অংশগ্রহণে একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তেল রফতানিকারক দেশসমূহের সংস্থা ওপেক এই সংস্থার সদস্য দেশগুলো অর্থাৎ তেল উত্পাদনকারী দেশগুলোর মধ্যকার নীতি নির্ধারণ করার লক্ষ্যে এবং পেট্রোলিয়াম সামগ্রির রপ্তানি মূল্য নির্ধাারণ করাসহ বাজারকে স্থিতিশীল রাখার পাশাপাশি নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নেয়। ওপেকভুক্ত সদস্য দেশ বলতে বোঝায় ইরান, সৌদি আরব, ইরাক, কুয়েত, ভেনিজুয়েলা এবঙ পরবর্তী সময়ে যোগ দেওয়া কাতার, লিবিয়া, ইন্দোনেশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, আলজেরিয়া, নাইজেরিয়া, ইকুয়েডর এবং অ্যাঙ্গোলাকে।  

পর্যালোচনায় দেখা যাচ্ছে যে ওপেকের সদস্য দেশগুলো বিশ্বের অপরিশোধিত তেলের প্রায় চল্লিশ শতাংশ উত্পাদন করে। সমগ্র বিশ্বে তেলের যে মজুদ রয়েছে তার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই ধারণ করে ওপেকভুক্ত দেশগুলো। দুই হাজার সতেরো সালের এপ্রিল মাসের এক পরিসংখ্যানে উল্লেখ করা হয়েছে ওপেক দৈনিক তিন কোটি দশ লাখ ব্যারেল তেল উত্পাদন করে। ওপেক সদস্যদের মধ্যে ইরান তেরো শতাংশ তেল মজুদ নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে। ইরানে ইসলামি বিপ্লব বিজয়ের আগে এ দেশের তেল শিল্প মোটামুটি বলা যায় বিদেশি বিশেষজ্ঞরাই নিয়ন্ত্রণ করতো। প্রায় আঠারো হাজার বিদেশি উপদেষ্টা ইরানের তেল শিল্পের বিভিন্ন খাতে কাজ করতেন।

বলছিলাম ইসলামি বিপ্লব পূর্বকালে ইরানের তেল শিল্পগুলো ছিল বিদেশিদের নিয়ন্ত্রণে। বিপ্লব পরবর্তীকালে তেলশিল্প ইরানিদের নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। ইসলামী বিপ্লবের বিজয়ের মধ্য দিয়ে এবং বিদেশি ঠিকাদারদের বরখাস্ত করার সাথে সাথে ইরানি কর্মচারী এবং পরিচালনকারীগণ দেশের তেল ক্ষেত্রগুলো এবং ভাণ্ডারগুলোর দায়িত্ব নেওয়ার পাশাপাশি অনুসন্ধান, আবিষ্কার ও খননকাজ সংক্রান্ত সকল কার্যক্রম চালিয়ে এসেছেন। উনিশ শ উনআশি সালে ইসলামী বিপ্লব বিজয়ের এক বছর পর তেল মন্ত্রণালয় তেল, গ্যাস, পেট্রোকেমিক্যাল, তেল পরিশোধন ও পেট্রোলিয়াম পণ্য বিতরণের ক্ষেত্রে সহায়ক চারটি কোম্পানির সঙ্গে নিজেদের কার্যক্রম শুরু করে। তেল মন্ত্রণালয়ের বৃহত্তম সহায়ক কোম্পানি হিসেবে যে কোম্পানিটির নাম সবার আগে উল্লেখ্য সেটি হলো ‘শেরকাতে মিল্লিয়ে নাফতে ইরান’ মানে ইরানের জাতীয় তেল কোম্পানি।

তেল সংক্রান্ত বিশ্বের বৃহৎ কোম্পানিগুলোর মধ্যে একটি এই কোম্পানি। ইরানের তেল ও গ্যাস সম্পদের উত্পাদন, উত্তোলন, নিষ্কাশন, পরিশোধন, বিতরণ ও রফতানির সার্বিক পরিকল্পনা ও পরিচালনার দায়িত্ব এই কোম্পানির ওপর ন্যস্ত। #

পার্সটুডে/নাসির মাহমুদ/ মো:আবু সাঈদ/ ১০

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।

ট্যাগ