মে ২৮, ২০২১ ০০:১৭ Asia/Dhaka

শ্রোতা/পাঠকবন্ধুরা! রেডিও তেহরানের স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা বিষয়ক অনুষ্ঠান স্বাস্থ্যকথার আসরে স্বাগত জানাচ্ছি আমি গাজী আবদুর রশীদ। আশা করছি আপনারা সবাই ভালো আছেন। মহামারি করোনায় গোটা বিশ্ব একরকম নাস্তানাবুদ। মানুষ জিম্মি হয়ে পড়েছে প্যানডেমিক করোনার কাছে।

 লাখে লাখে মানুষ মরছে। আক্রান্ত হচ্ছেন কোটি কোটি মানুষ। মানুষ বড় অসহায় হয়ে পড়েছে। যদিও করোনার টিকা বের হয়েছে, তবে তা এখনও সবার কাছে গিয়ে পৌঁছায়নি। মানুষ আশার আলো দেখছে। আজকের আসরে আমরা করোনা এবং করণীয় সম্পর্কে আলোচনা করব। আর আলোচনা করবেন কানাডা প্রবাসী বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা.শাহনাজ কাজী। তিনি দীর্ঘদিন হরাইজন হেলথ নেটওয়ার্ক কানাডা’তে ফ্যামিলি ফিজিশিয়ান হিসেবে কাজ করছেন। তো চলুন আজকের আলোচনা শুনি।

রেডিও তেহরান:  ডা. শাহনাজ  আপনাকে রেডিও তেহরানের স্বাস্থ্যকথার আসরে স্বাগত জানাচ্ছি। আপনি বাংলাদেশের একজন চিকিৎসক- হলেও এখন সুদূর কানাডাতে ফ্যামিলি ফিজিশিয়ান হিসেবে কাজ করছেন। তো প্রথমে আপনি বাংলাদেশের মানুষের করোনায় -করণীয় কি সে সম্পর্কে যদি জন্য আলোচনা করেন?

করোনা ভ্যাকসিন এসেছে

ডা. শাহনাজ কাজী: ধন্যবাদ আপনাকে। আমরা কল্পনাও করতে পারি নি যে মহামারি করোনা ভাইরাস আমাদের বিশ্বকে বলা যায় একেবারে স্থবির করে দিয়েছে বা একরকম পঙ্গু করে দিয়েছে। মানে আমরা বন্দি হয়ে গেছি মহামারি করোনার কাছে। এমনও ভাবি মাঝেমাঝে আমরা মানুষরা ছোট্ট একা অণুজীবের কাঝে পরাজিতই হয়ে গেলাম। কিন্তু না আশার বাণী তো অবশ্যই আছে।

রেডিও তেহরান: ডা. শাহনাজ কাজী আপনি আশার বাণীর কথা বললেন, কি সেই আশার বাণী?

ডা. শাহনাজ কাজী: আমরা দেখতে পাচ্ছি করোনার ভ্যাকসিন এসেছে। পৃথিবীর সবাই না হলেও বেশিরভাগ মানুষ যখন আমরা এই ভ্যাকসিনের আওতায় চলে আসব তখন হয়ত বলা যাবে যে আমরা কিছুটা শঙ্কামুক্ত হয়েছি। তবে পুরোপুরি আমরা নিজেদেরকে আমরা শঙ্কামুক্ত বলতে পারব না কারণ এটা একেবারেই নতুন একটা ভাইরাস বা অনুজীব যারা দ্বারা আমরা আক্রান্ত হয়েছি এবং গোটা পৃথিবীর মানুষকে এই অণুজীব উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। এই ভাইরাসের স্বভাব, গতি-প্রকৃতি এখনও আমরা সম্পূর্ণভাবে জানি বলে দাবি করতে পারি না। তবে আমরা যদি ঠিকঠাক মতো স্বাস্থ্যবিধিগুলো মেনে চলি তাহলে আমরা বলতে পারি নিজেদেরকে নিরাপদ রাখতে পারব।

রেডিও তেহরান:  জ্বি, ডা. শাহজান কাজী নিরাপদ রাখতে গেলে আমাদের দায়িত্ব কী?

ডা. শাহনাজ কাজী: আমাদের দায়িত্ব প্রথমত নিজেদের নিরাপত্তা। এরপর বলব নিজেদের পাশাপাশি পরিবার এবং মানব সমাজের নিরাপত্তা। আর সেটি সম্ভব যদি আমরা ঠিকঠাকভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে পারি। আমরা যখন সবাই ভ্যাকসিন নিতে পারব তখন আমরা নিরাপদ হব বলে আশা করতে পারি।

মাস্ক অবশ্যই পরতে হবে

রেডিও তেহরান: ডা. শাহনাজ কাজী আপনি ভ্যাকসিনের কথা বললেন। সেটি মোটামুটি পৃথিবীর সবার নেয়া হলে কিছুটা আমরা নিরাপদ বলে মনে করব কিন্তু তার আগে স্বাস্থ্যবিধির কথা বললেন। সেই স্বাস্থ্যবিধিগুলো কি যদি স্পষ্ট করে বলেন?

ডা. শাহনাজ কাজী: স্বাস্থ্যবিধির মধ্যে প্রথমে যেটি বলব- আমাদের প্রত্যেককে মাস্ক পরতেই হবে, পরতেই হবে এবং পরতেই হবে। এর কোনো বিকল্প আমাদের চিন্তা করা উচিত না।

Image Caption

দ্বিতীয়- বিশ সেকেন্ড ধরে হাত ধোয়ার নির্দেশনাকে  খুব সুন্দরভাবে মেনে চলতে হবে। বাইরে গেলে যদি হাত ধোয়ার বিষয়টি পুরোপুরি না মানতে পারি সেক্ষেত্রে বিকল্প হিসেবে সেনিটাইজার দিয়ে হাত সেনিটাইজ করতে হবে। আর সামাজিক দূরত্বের যে কথাটা সবাই বলছে- আমি বলব শারীরিক দূরত্ব মেনে চলতে হবে। যদি আমরা কোনো একটা ঘরে, কোনো রেস্টুরেন্টে অথবা কোনো শ্রেণিকক্ষে যেখানে লোকসমাগম বেশি হয় সখানে অবশ্যই আমাদের শারীরিক দূরত্বটা মেনে চলতে হবে।

শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে

কানাডাতে ছয় ফিট বা ২ মিটার শারীরিক দূরত্বের কথা কথা বলা হয়। আমরা যদি বিশেষভাবে এই তিনটা বিষয় মেনে চলি তাহলে বলা যায় কিছুটা আমরা নিজেরা এবং আশপাশের সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারব।

রেডিও তেহরান: স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার উপর বিশেষভাবে গুরুতারোপ করেছেন আপনি। ডা, শাহনাজ কাজী, ধরুন কোনো একজন করোনায় আক্রান্ত হলেন। তার কি হাসপাতালে যাওয়ার প্রয়োজন আছে; নাকি বাসায় থাকবেন এবং চিকিৎিসা নেবেন, তিনি কি ধরনের চিকিৎসা নেবেন? দেখা যাচ্ছে হাসপাতালে সিটের অভাব। তো এক্ষেত্রে আক্রান্ত ঐ মানুষটি কি করবেন, কি চিকিৎসা নেবেন?

ডা. শাহনাজ কাজী: এটি খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা প্রশ্ন করলেন আপনি। কানাডাতের করোনার যে অভিজ্ঞতাকে তার আলোকে আমি বলছি। কেউ করোনায় আক্রান্ত হলেই তাঁকে হসপিটালাইজড হতে হবে এমন কোনো কথা না। হসপিটালে যাবেন ঐসব করোনা আক্রান্ত রোগীরা যাঁদের অবস্থার অবনতি হয়। তাছাড়া হসপিটালে যাওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। এরবাইরে বেশিরভাগ মানুষই মাইল্ড সিমটম বা কম সিমটমের মধ্যেই থাকেন এবং তারা বাসাতে থেকে চিকিৎসাতেই ভালো হয়ে যান।

করোনা ভাইরাস

করোনা হচ্ছে একটা ভাইরাস। আর ভাইরাসের প্রধান যে বিষয়টি হয় আমাদের জানা মতে সেটি হচ্ছে, এই ভাইরাসটির নিজস্ব ছো্ট্ট একটা জীবনধারন ক্ষমতা থাকে মানুষের শরীরের ভেতরে। তার আয়ু শেষ হয়ে গেলেই কিন্তু ভাইরাসটি শেষ হয়ে যায় বা মরে যায়।তবে এই ভাইরাসটি আমাদের শরীরের ভেতরে গিয়ে কিছু অর্গানকে আক্রান্ত করতে পারে। ইনফেকশন হতে পারে। দেখা যায় নিউমোনিয়া হয়। আমাদের ফুসফুসকে আক্রান্ত করে। যখন এ অবস্থা সৃষ্টি হয় তখন আমাদের চিকিৎসার প্রয়োজন হয়। কিন্তু এটি যদি আমাদেরকে মারাত্মকভাবে আক্রমণ করতে বা আঘাত না করে থাকে তাহলে কিন্তু আমাদের হসপিটালে যাওয়ার কোনো প্রয়োজন পড়ে না।

শ্রোতা/পাঠকবন্ধুরা! করোনাকে ভয় নয়,স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলে তাকে জয় করতে হয়। আমাদেরকে নিরাপদ করতে হবে। এতক্ষণ কানাডা প্রবাসী ফ্যামিলি ফিজিশিয়ান ডা.শাহনাজ কাজী সে বিষয়টি চমৎকারভাবে তুলে ধরেছেন। করোনা বিষয় নিয়ে আগামী আসরেও কথা হবে- এবং এই বিশিষ্ট চিকিৎসকের আলোচনা শুনব। তখনও আমাদের সাথে থাকতে ভুলবেন না। এ সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ,তৈরি ও উপস্থাপনা করেছেন গাজী আবদুর রশীদ। তো আজকের আসর থেকে বিদায় নেয়ার আগে আহবান জানাই-আসুন আমরা সবাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলে করোনাকে জয় করি। ব্যায়ামের অভ্যাস গড়ে তুলি, পরিমিত ও সুষম খাদ্য গ্রহণ করি।  #

পার্সটুডে/গাজী আবদুর রশীদ/২৭

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।

ট্যাগ