আগস্ট ০৫, ২০২১ ২২:৫৪ Asia/Dhaka

শ্রোতা/পাঠকবন্ধুরা! স্বাগত জানাচ্ছি রেডিও তেহরানের স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা বিষয়ক সাপ্তাহিক অনুষ্ঠান স্বাস্থ্যকথার আসরে আমি গাজী আবদুর রশীদ। আশা করছি আপনারা সবাই মহামারি করোনার মধ্যে সর্বোচ্চ স্বাস্থ্যবিধি মেনে ভালো থাকার শতভাগ চেষ্টা করছেন। তারপরও করোনায় বিপর্যস্ত করে দিচ্ছি গোটা বিশ্বকে। সব বয়সের মানুষকে সে তার থাবা বসাচ্ছে।

আজ আমরা করোনায় মা ও শিশুদের আক্রান্ত হওয়ার বিষয়ে কথা বলব। আর আমাদের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলবেন-শিশু সার্জারি বিশেষজ্ঞ বা পেডিয়াটিক সার্জন ড. এম এম রবিন। তিনি  শেখ হাসিনা মেডিক্যাল কলেজ জামালপুর এ সার্জারি বিভাগে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত আছেন।

ড. এম এম রবিন, রেডিও তেহরানে আপনাকে স্বাগত জানাচ্ছি।

ড. রবিন: আপনাকেও ধন্যবাদ রশীদ ভাই।

রেডিও তেহরান: ড. এম এম রবিন, করোনায় মূলত বড়রাই আক্রান্ত হচ্ছেন বেশি। তবে কম হলেও কিন্তু শিশুরাও আক্রান্ত হচ্ছেন। তো শিশুদের উপর করোনার কি ধরণের প্রভাব পড়ছে। আপনাদের কাছে কি করোনায় আক্রান্ত বাচ্চারা আসছে?-

ডা.এম এম রবিন: আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ আমাকে রেডিও তেহরানের স্বাস্থ্যকথার আসরে সুযোগ দেয়ার জন্য। দেখুন, করোনা মহামারিকালে বাচ্চাদের নিয়ে খুব বেশি সমস্যা নেই; তবে একেবারে চিন্তামুক্ত সেকথা বলা যাবে না। সারাবিশ্বের মতোই বাংলাদেশেও করোনা আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা খুবই কম। তবে মায়েরা করোনায় আক্রান্ত হলে তাঁদের বাচ্চা শিশুদের জন্য বেশ কঠিন একটা সময় পার করতে হয়। ঐ সব মা'কে নিয়ে আমাদের বেশ কষ্ট পোহাতে হয়।

করোনায় আক্রান্ত মা-তার শিশুকে বুকের দুধ খাওয়াতে পারবেন তবে সেটি খুব সতর্কতার সাথে। অবশ্যই মাকে মাস্ক পরে থাকতে হবে। হাতে গ্লাবস পরতে হবে। যাতে মায়ের সরাসরি ছোঁয়া বাচ্চার গায়ে না লাগে, নাকে মুখে না লাগে। অর্থাৎ খুবই সতর্কতার সাথে ব্রেস্ট ফিডিং করানো যাবে বলে আমরা পরামর্শ দিয়ে থাকি। তবে যেসব বাচ্চারা ব্রেস্ট ফিডিং করে না-সেসব বাচ্চার কষ্টটা আরও বেশি হয়ে থাকে। অর্থাৎ ২ থেকে ৫ বছর বয়সের বাচ্চাদের মায়েরা করোনায় আক্রান্ত হয়ে যাখন আমাদের কাছে চিকিৎসার জন্য আসছেন-সেইসব মায়ের বাচ্চারা তাদের মায়ের কাছে আসতে পারছে না। অথচ এইসব বাচ্চারা বেশিরভাগ সময় মায়ের কাছে থাকত। কিন্তু মা করোনায় আক্রান্ত- কোয়ারিন্টে আছে বন্দির মতো। বাধ্য হতে হচ্ছে ঐসব বাচ্চার মায়ের কাছ থেকে দূরে থাকতে। এসব বাচ্চারা ভীষণভাবে মায়ের অভাব অনুভব করে। ঐসব শিশুদের জন্য আলাদাভাবে পরিবারের সদস্যদের সাথে আলোচনা এবং পরামর্শ দিতে হয়।

আর আমাদের এখানে করোনায় আক্রান্ত বাচ্চারা আগেই বলেছি খুব কম এসেছে। তবে মাঝে মধ্যে  দু একটি করোনায় আক্রান্ত বাচ্চা এসেছে। তবে সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশে করোনায় আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা খুবই কম।

রেডিও তেহরান: ডা. রবিন, করোনায় আক্রান্ত মায়েরা আপনাদের কাছে আসছে এবং চিকিৎসা দিচ্ছেন। ঐ সব মায়ের বাচ্চাদের ক্ষেত্রেও আপনারা পরামর্শ দিচ্ছেন। তো মা করোনায় আক্রান্ত সেক্ষেত্রে কি তাদের বাচ্চাও করোনায় আক্রান্ত হতে পারে বা হচ্ছে? গর্ভবতী মায়ের পেটের বাচ্চাও কি করোনায় আক্রান্ত হতে পারে?

ডা. এম এম রবিন: গর্ভবতী মায়ের পেটের বাচ্চাও করোনায় আক্রান্ত হতে পারে। যদিও পেশাগতভাবে আমাদের কাছে এখনও সেরকম ঘটনা আসেনি। তবে স্টাডি বলে এমনটি হতে পারে। সেক্ষেত্রে আমরা যেটা করি-অর্থাৎ দেখা গেল ৮ মাসের সময়ে মা করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন তখন যতদ্রুত সম্ভব বাচ্চাকে ডেলিভারি করানো হয়। কারণ যত বেশি সময় যাবে ততবেশি করোনার ভাইরাস ঐ বাচ্চার শরীরে প্রবেশ করবে। একটা বাচ্চার যেটি সার্ভাইভাল সময়- ৮ মাস সে সময় হলে এবং মা করোনায় আক্রান্ত হলে দ্রুত বাচ্চাকে ডেলিভারি করানো হয়ে থাকে। যদি সেটি না করানো হয় তাহলে ঐ বাচ্চা পেটের মধ্যেই মারা যেতে পারে। যে কারণে আমরা ডেলিভারি করানোর পরামর্শ দিয়ে থাকি।

রেডিও তেহরান: করোনা পূর্ববর্তী সময়ে শিশুদের যেসব স্বাভাবিক রোগব্যাধী ছিল-করোনার সময়ে সেসব রোগব্যাধীর অবস্থা কেমন দেখছেন?

ডা. এম এম রবিন: দেখুন, করোনা পূর্ববর্তী এবং করোনার সময়ে শিশুদের স্বাভাবিক রোগ-ব্যাধীর অবস্থা নিয়ে এখনও তেমন কোনো স্টাডি আমাদের দেশে সেভাবে হয় নি। তবে আমার ব্যক্তিগত চিকিৎসায় পেশায় যেটি দেখতে পাচ্ছি সেটি হচ্ছে- আগেও যেভাবে অন্যান্য রোগে শিশুরা আক্রান্ত হতো এখন তারচেয়ে যে খুব বেশি ব্যতিক্রম হচ্ছে তা নয়। সেই আগের মতোই আছে শিশুদের স্বাভাবিক রোগ-ব্যাধী। অর্থাৎ করোনার প্রভাব শিশুদের উপর খুব বেশি নেই। যে কারণে বিশ্বের সবজায়গার মতো বাংলাদেশেও করোনার টিকা দেয়া হচ্ছে না শিশুদের।

রেডিও তেহরান: ডা. রবিন আপনি বললেন, করোনাকালে শিশুদের উপর অন্যান্য রোগের বাড়তি প্রভাব তেমন দেখছেন না। ইমিউনিটি বা মানব শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা-যা করোনাকে পরাজিত করতে পারে। এর অভাবে করোনার দৌরাত্ম বেড়ে যায়। তো শিশুদের ক্ষেত্রে ইমিউনিটির ঘাটতি সম্পর্কে আপনি যদি কিছু বলেন। কি ধরণের পরামর্শ দিচ্ছেন আপনারা?

ডা. এম এম রবিন: জ্বি ধন্যবাদ আপনাকে। শিশুদের ইমিউনিট বাড়ানোর জন্য প্রায়ই আমাদের সাথে যোগাযোগ করেন বাবা মায়েরা। করোনাকাল বিধায় অনেকে অনলাইনে আমাদের সাথে যোগাযোগ করছে। আমরা শিশুসহ বড়দের ইমিউনিটি বাড়ানোর জন্য নানাধরনের পরামর্শ দিচ্ছি। এসময় বাচ্চাদের জন্য জিঙ্ক খুব বেশি প্রয়োজন। এছাড়া প্রোটিন জাতীয় খাবার ইমিউনিট বৃদ্ধিতে খুবই জরুরি। ডিম বাচ্চাদের বাড়াতে সাহায্য করে। ভিটামিন ডি-ত্রি বাজারে ক্যাপসুল আকারে পাওয়া যায় সহজে বাচ্চারা এটি খেতে পারে। দুধের সাথে কিংবা একটু পানির সাথে মিশিয়ে খেতে পারে। এটি মাসে একটি করে খেতে পারে। ৬ মাসে ৬ টা ক্যাপসুল খেলে খুব ভালো হয়। তাহলে ডিম, ভিটামিন সি-জাতীয় খাবার, ভিটামিন ডি জাতীয় খাবার এবং প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার খাবার পরামর্শ দিচ্ছি। এসবে শরীরের ইমিউনিটি বাড়ায়। আর একেবারে যারা শিশু তারা শুধুমাত্র মায়ের বুকের দুধ খাবে।

ডা. এম এম রবিন, করোনাকালে শিশু ও মায়েদের চিকিৎসা নিয়ে রেডিও তেহরানকে সময় দেয়ার জন্য আপনাকে আবারও ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

আর শ্রোতা/পাঠকবন্ধুরা! এতক্ষণ জামালপুরের  শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজে পেডিয়াটিক সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. এম এম রবিনের গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা শুনছিলেন।

শ্রোতা/পাঠকবন্ধুরা! এখন শিশুরারও করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন বড়দের পাশাপাশি। ফলে করোনার হাত থেকে আপনাকে এবং আপনার শিশুকে রক্ষার জন্য- করোনার বিরুদ্ধে ঘোষিত স্বাস্থ্যবিধিগুলো মেনে চলুন। পাশাপাশি নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার খান, বিশুদ্ধপানি পান করুন এবং ব্যয়াম করুন।#

পার্সটুডে/গাজী আবদুর রশীদ/৫