অক্টোবর ১১, ২০২১ ২১:০৬ Asia/Dhaka

শ্রোতাবন্ধুরা, আপনাদের সবাইকে অনেক অনেক প্রীতি আর শুভেচ্ছা জানিয়ে শুরু করছি চিঠিপত্রের আসর প্রিয়জন। আজকের অনুষ্ঠানে আপনাদের স্বাগত জানাচ্ছি আমি নাসির মাহমুদ, আমি আকতার জাহান এবং আমি আশরাফুর রহমান।

আশরাফুর রহমান: আজও অনুষ্ঠানের শুরুতেই আমি একটি বাণী শোনাতে চাই। ইমাম আলী ইবনে মূসা রেজা (আ.) বলেছেন, শ্রেষ্ঠতম সম্মানিত স্বভাব হলো সৎকাজ করা, অসহায়কে সাহায্য করা এবং আশাবাদীর আশা পূরণ করা

আকতার জাহান: আমরা সবাই এই তিনটি স্বভাব অর্জন করার চেষ্টা করব- এ আশাবাদ ব্যক্ত করে নজর দিচ্ছি চিঠিপত্রের দিকে। আসরের প্রথম চিঠিটি একজন পুরোনো শ্রোতার। তবে এটা তার প্রথম চিঠি। বরগুনার এ শ্রোতাবন্ধুর নাম মোঃ মাহবুব আলমতিনি লিখেছেন, আমি তৃতীয় শ্রেণীতে পড়ার সময় শর্টওয়েভ নামক মহাসাগরে হারিয়ে যাই। একদিন রেডিওর নব ঘুরাতে ঘুরাতে রেডিও তেহরানকে আবিষ্কার করি এবং তখন থেকে আজ পর্যন্ত শুনে আসছি। রেডিও তেহরান আমাদের জীবনে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। বিশেষ করে এ বেতারের খবর আমার কাছে খুব ভালো লাগে। সত্যনিষ্ঠ খবর প্রচার করার জন্য রেডিও তেহেরানকে আমার অন্তরের অন্তরস্থল থেকে একগুচ্ছ লাল গোলাপের শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। আশা রাখছি রেডিও তেহরানের এ ধারা অবিরামভাবে চলতে থাকবে, পৃথিবী যতদিন থাকবে।

চিঠির শেষাংশে এ শ্রোতাবন্ধু জানিয়েছেন যে, রেডিও তেহরানের রংধনু আসর থেকে তিনি অনেক কিছু শিখতে পারছেন যা জীবনে চলার ক্ষেত্রে প্রয়োজন।

নাসির মাহমুদ: আমাদের পুরোনো শ্রোতা মাহবুব আলম ভাইকে ধন্যবাদ তার প্রথম চিঠিটির জন্য। আশা করি এখন থেকে নিয়মিত লিখবেন।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার জেলার মেখলিগঞ্জ থেকে মনীষা রায় লিখেছেন এবারের চিঠিটি। তিনি লিখেছেন, “কয়েক দিন ধরে একটু ব্যস্ত আছি তাই মেইল করতে পাচ্ছি না, তবে অনুষ্ঠান শুনছি নিয়মিত। পরিবারের সবাইকে সঙ্গে নিয়ে অনুষ্ঠান শুনি। রেডিও তেহরান বাংলা বিভাগের জ্ঞানবর্ধক অনুষ্ঠানগুলো আমি এবং আমার পরিবারের সকলের প্রিয়। তাই ইউটিউব অথবা ফেসবুকে নিয়মিত শোনা হয়। কোনো দিন মিস হয় না।”

আশরাফুর রহমান: ব্যস্ততা সত্ত্বেও অনুষ্ঠান শুনে যাচ্ছেন জেনে ভালো লাগল। চিঠি লিখার জন্য আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।

রেডিও তেহরানের ধারাবাহিক আলোচনা-অনুষ্ঠান ‘আদর্শ মানুষ গড়ার কৌশল’ সম্পর্কে প্রিয়জনের মেসেঞ্জার গ্রুপে একটি মন্তব্য করেছেন টাঙ্গাইলের সিনিয়র শ্রোতা আবু তাহের। তিনি লিখেছেন, “জীবন ও জীবিকায়নের সাথে সময়োপযোগী ও বাস্তবধর্মী একটি বিশেষ অনুষ্ঠান ‘আদর্শ মানুষ গড়ার কৌশল’। এ অনুষ্ঠানটি আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের জন্য একটি বিশেষ শিক্ষামূলক অনুষ্ঠান- যা ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য দিকনির্দেশক হিসেবে বিশেষ ভূমিকা পালন করবে। আসুন আমরা সবাই মিলে এ অনুষ্ঠানটি নিয়মিত শুনি এবং আমাদের বন্ধুদের শুনতেও উৎসাহিত করি।”

আকতার জাহান: ‘আদর্শ মানুষ গড়ার কৌশল’ অনুষ্ঠানটি আমাদের বহু শ্রোতার পছন্দের অনুষ্ঠান। এ অনুষ্ঠানটির আলোকে আমাদের নতুন প্রজন্ম গড়ে উঠলেই আমাদের পরিশ্রম স্বার্থক হবে। তো চমৎকার মতামতের জন্য আবু তাহের ভাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

নাসির মাহমুদ: ভারতের আসামের বরপেটা জেলার কান্দুলিয়া থেকে আব্দুস সালাম সিদ্দিক পাঠিয়েছেন এই মেইলটি। তিনি লিখেছেন, আমি রেডিও তেহরানের একজন পুরাতন ও নিয়মিত শ্রোতা। আজকে রেডিও তেহরানের অনুষ্ঠানসমূহের মধ্যে সাপ্তাহিক পরিবেশনাগুলো আমাকে কিভাবে উপকৃত ও লাভবান করেছে তাঁর একটি খতিয়ান এখানে তুলে ধরার প্রয়াসী হবো। এ বেতার থেকে প্রাত্যাহিক অনুষ্ঠানের পাশাপাশি প্রতি সপ্তাহে কুরআনের আলো, ইরান ভ্রমণ, ইরান-ইরাক যুদ্ধের ইতিহাস, আসমাউল হুসনা, চিঠিপত্রের আসর প্রিয়জন, দর্পন, আলাপন, স্বাস্থ্যকথা, রংধনু ও পাশ্চাত্যে জীবন ব্যবস্থা প্রচারিত হয়। রেডিও তেহরান এসব কালজয়ী চিরসবুজ অনুষ্ঠান প্রচারের মাধ্যমে অগণিত শ্রোতাকে মোহাচ্ছন্ন করে রেখেছে।”

এরপর আব্দুস সালাম সিদ্দিক ভাই কোন্‌ অনুষ্ঠান কী ধরনের কাজে লাগছে এক এক করে তা তুলে ধরেছেন।

আশরাফুর রহমান: আব্দুস সালাম সিদ্দিক ভাইয়ের পুরো চিঠিটি আমাদের ওয়েবসাইটে আপলোড করা হয়েছে, আগ্রহীরা পড়ে নিতে পারেন। আর আমাদের অনুষ্ঠানমালা সম্পর্কে গভীর পর্যবেক্ষণমূলক এই চিঠিটির জন্য আব্দুস সালাম সিদ্দিক ভাই আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

আকতার জাহান: বেশকিছু শ্রোতার চিঠির জবাব দেওয়া হলো। অনুষ্ঠানের এ পর্যায়ে আমরা কথা বলব বাংলাদেশের কিশোরগঞ্জের শ্রোতা গিয়াসউদ্দিনের সঙ্গে। প্রথমেই তার পরিচয় জানা যাক। 

আকতার জাহান: আসরের পরের মেইলটি এসেছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগণার জেলার মহেন্দ্রনগর অগ্রগামী ক্লাব থেকে। আর পাঠিয়েছেন ভাস্কর পাল। তিনি লিখেছেন, গত ১০ সেপ্টেম্বর 'দৃষ্টিপাত' অনুষ্ঠানে 'বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস' ও বাংলাদেশে আত্মহত্যার বর্তমান পরিস্থিতি’ নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যালোচনা পরিবেশন করা হয়। ঢাকা থেকে সংবাদদাতা আব্দুর রহমান খানের রিপোর্টে উঠে এল এই সংক্রান্ত অনেক জানা-অজানা তথ্য। প্রতিবেদনে জানা গেল যে, বাংলাদেশে 'বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস' তেমনভাবে পালন করা হয় না। কারণ বাংলাদেশে আত্মহত্যা অপরাধের মধ্যে পড়ে। এটিকে সামাজিক সমস্যা হিসেবে দেখা হয় না।  এমন প্রাসঙ্গিক একটি বিষয়ে আলোচনা প্রচার করার জন্য রেডিও তেহরানকে ধন্যবাদ জানাই।”

নাসির মাহমুদ:  দৃষ্টিপাত অনুষ্ঠানে প্রচারিত প্রতিবেদনটি গুরুত্ব দিয়ে শোনার জন্য ভাস্কর পাল আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।

আসরের এ পর্যায়ে রেডিও তেহরানের ৩৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে 'আইআরআইবি ফ্যান ক্লাব বাংলাদেশ' আয়োজিত প্রবন্ধ প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্য থেকে একজনের লেখার কিছু অংশ তুলে ধরব। আজকের লেখাটি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার শ্রোতা এসএম নাজিমউদ্দিনের। তিনি ওই প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছেন। তিনি লিখেছেন, “ইরানের ইসলামি বিপ্লবের রূপকার ইমাম খোমেনী (র.)-এর ব্যক্তিত্ব, নেতৃত্ব, জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও দূরদর্শিতা আমাকে মুগ্ধ-আকৃষ্ট করে; এরই ফলশ্রুতিতে রেডিও তেহরানের গুণমুগ্ধ শ্রোতায় পরিণত হই। "খবরের সঙ্গে চব্বিশ ঘণ্টা" -রেডিও তেহরানের এই ট্যাগ লাইনের সাথে সাযুজ্য রেখে প্রতিনিয়ত বস্তুনিষ্ঠ ও তাজা সংবাদের পাশাপাশি সারা বিশ্বে চলমান ঘটনাবলী নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ ও খবরের ভেতরের খবরকে আমাদের সামনে তুলে ধরে রেডিও তেহরান। বর্তমান একপেশে নীতি ও সংবাদ মাধ্যমগুলোর কোন একটা পক্ষ অবলম্বন করার বিপরীত ঝোঁকে অবস্থান গ্রহণ করে চলেছে এ বেতার।

আশরাফুর রহমান:  নাজিম ভাইয়ের বিশাল লেখাটির কিছু অংশ তুলে ধরা হলো। তার পুরো লেখাটিতে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম হিসেবে রেডিও তেহরানের বৈশিষ্ট্যগুলো ফুটে উঠেছে। চমৎকার তথ্যবহুল লেখাটির জন্য নাজিম ভাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ আর দ্বিতীয় পুরস্কার জেতায় অভিনন্দন।

বাংলাদেশের জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জ উপজেলার পূর্ব নলছিয়া থেকে হারুন অর রশীদ পাঠিয়েছেন পরের মেইলটি।

তিনি লিখেছেন, আমার অস্তিত্বের স্মৃতি চিহ্নে রেডিও তেহরান  ভালোবাসার বন্ধুপ্রতীম নাম। আমার স্মরণের জানালায় রেডিও তেহরান সদা সমুজ্জ্বল! হৃদয়ের আবেগ যেখানে কথা বলে পরম আকাঙ্ক্ষায়। রং তুলিতে যেখানে মনে অঙ্কিত হয় রংধনুর সাত রং! রেডিও থেকে ভেসে আসে কুরআনের আলো। রেডিও তেহরান থেকে ধ্বনিত হয় জীবনের জয়গান। রেডিও তেহরান থেকে ভেসে আসে মানবতার কথা। ইথার তরঙ্গে কান পেতে স্বান্তনা পাই ব্যথিত হৃদয়ে। মনে প্রবোধ পাই 'রংধনু আসর' আর 'প্রিয়জন' শুনে।"

আকতার জাহান: বরাবরের মতোই চমৎকার ভাষায় রেডিও তেহরানকে মূল্যায়ন করায় হারুন অর রশীদ ভাই আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।

আসরের পরের চিঠিটি এসেছে বাংলাদেশের কিশোরগঞ্জের গুরুদয়াল কলেজ থেকে। আর পাঠিয়েছেন ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোঃ শাহাদত হোসেন। তিসি লিখেছেন,  গত ৯ সেপ্টেম্বর প্রচারিত রংধনু আসর আমাদের মনে এমনই রঙ ছড়িয়ে দিয়েছে যে, সেই আবেশে আমরা অনেক্ষণ মহাকাশের রঙিন বাতাসে উড়ে বেড়িয়েছি। আসলে ওইদিনের রংধনু কেবল কোনো অনুষ্ঠান নয়- এটি জীবনকে গড়ার, জীবনকে ভাবার এক দিক নির্দেশনা। মহান আল্লাহর পবিত্র বাণী থেকে শুরু করে মহানবীর কথা, ইসলামের কথা, পৃথিবীর বিখ্যাত ব্যক্তিদের কথা, পরিশ্রমীদের কথা, সাধনার কথা এবং সবশেষে নাতে রাসুল ও অনুপ্রেরণামূলক গান অনুষ্ঠানটিকে শিক্ষা ও বিনোদনের এক গোলাঘরে পরিণত করেছে।”

নাসির মাহমুদ:  ৯ সেপ্টেম্বর প্রচারিত রংধনু আসর আপনার ভালো লেগেছে জেনে আমাদেরও ভালো লাগল। মতামতের জন্য শাহাদত ভাই আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ দিনাজপুর থেকে বিধান চন্দ্র সান্যাল পাঠিয়েছেন আসরের শেষ মেইলটি।

তিনি লিখেছেন, “বিশ্ব বেতারের আঙিনায় রেডিও তেহরান যেন সম্রাট। রেডিও তেহরান যা দিয়েছে তা শ্রোতারা কোনদিন ভুলবে না। বিশ্বসংবাদ থেকে দৃষ্টিপাত, দর্পন থেকে কথাবার্তা, রংধনু থেকে আদর্শ মানুষ গড়ার কৌশল, কোরআনের আলো থেকে আসমাউল হুসনা, ইরান ভ্রমণ থেকে ইরান-ইরাক যুদ্ধের ইতিহাস, প্রিয়জন থেকে আলাপন সবকিছুতেই রেডিও তেহরান তার নিজস্ব স্বাক্ষর এঁকে দিতে পেরেছে।”

রেডিও তেহরানের মত সত্যের পথে অবিচল, নিরপেক্ষ ও শ্রোতাপ্রিয় বেতারকেন্দ্র সম্ভবত বিশ্বে আর দ্বিতীয়টি হবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেছেন।

আশরাফুর রহমান: শ্রোতাবন্ধু বিধান চন্দ্র সান্যালকে ধন্যবাদ সুন্দর মতামতসমৃদ্ধ চিঠিটির জন্য।

অনুষ্ঠানের এ পর্যায়ে কয়েকজন শ্রোতার চিঠির প্রাপ্তিস্বীকার করছি, সময়ের অভাবে আজ যাদের চিঠি পড়া সম্ভব হচ্ছে না।

  • দিনাজপুর জেলার মৌলভীর ডাঙ্গা বিশ্ব বেতার শ্রোতা সংঘ থেকে খন্দকার এইচ আর হাবিব 
  • এটিএম আতাউর রহমান রঞ্জু রংপুরের পীরগাছা থেকে
  • পঞ্চগড় জেলার দেবীগঞ্জ উপজেলার মল্লিকাদহ থেকে হরিদাস রায়
  • শাওন হোসাইন লিখেছেন রাজবাড়ী জেলার খোশবাড়ী থেকে
  • কিশোরগঞ্জ থেকে শরিফা আকতার পান্না
  • এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব বর্ধমান জেলার চুপী থেকে হাফিজুর রহমান।

আকতার জাহান: চিঠি লেখার জন্য আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ।  তো বন্ধুরা, দেখতে দেখতে আমাদের আজকের আসরের সময় ফুরিয়ে এসেছে। বিদায় নেওয়ার আগে আমরা নাসির ভাইয়ের কাছে একটি আবৃত্তি শুনতে চাই।  

নাসির মাহমুদ: ঠিক আছে। আমার লেখা 'যুদ্ধজয়' শিরোনামের কবিতাটির আবৃত্তিই না হয় শোনা যাক।

আশরাফুর রহমান: নাসির ভাইয়ের চমৎকার উচ্চারণে কবিতাটি শুনলেন। তো শ্রোতাবন্ধুরা, আপনারা ভালো ও সুস্থ থাকুন এ কামনা করে বিদায় নিচ্ছি প্রিয়জনের আজকের আসর থেকে।

 

পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/১১

 

 

 

ট্যাগ