অক্টোবর ১৪, ২০২১ ১৭:৪১ Asia/Dhaka

সুপ্রিয় পাঠক/শ্রোতা! ১৪ অক্টোবর বৃহষ্পতিবারের কথাবার্তার আসরে স্বাগত জানাচ্ছি আমি বাবুল আখতার। আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। আসরের শুরুতে ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম তুলে ধরছি। এরপর গুরুত্বপূর্ণ দুটি খবরের বিশ্লেষণে যাবো। বিশ্লেষণ করবেন সহকর্মী সিরাজুল ইসলাম।

বাংলাদেশের শিরোনাম:

  • ‘উসকানি’ দিয়ে মন্দিরে হামলা-ভাঙচুর, আটক ৪৩-যুগান্তর
  • বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি তারা চায় না: তথ্যমন্ত্রী-কালের কণ্ঠ
  • দৃষ্টি ভিন্ন খাতে নিতে কুমিল্লার ঘটনা ঘটানো হয়েছে: ফখরুল-প্রথম আলো
  • চাঁদপুরে সংঘর্ষ, নিহত ৩,তদন্ত কমিটি গঠন-মানবজমিন
  • বঙ্গবন্ধু সেতুর দুই প্রান্তে ৩৫ কিলোমিটার যানজট -ইত্তেফাক

ভারতের শিরোনাম:

  • লখিমপুর খেরি নিয়ে মুখ খুলেও অমর্ত্যকে নিশানা -আনন্দবাজার পত্রিকা
  • প্রমোদ তরীতে ছিলেন না অরিয়ান, দাবি আইনজীবীর, যদিও জামিন অধরাই- আজকাল-আজকাল 
  • লখিমপুর কাণ্ডে জামিন পেলেন না স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর ছেলে আশিস মিশ্র–সংবাদ প্রতিদিন

শ্রোতাবন্ধুরা! শিরোনামের পর এবার দু'টি খবরের বিশ্লেষণে যাচ্ছি- 

কথাবার্তার বিশ্লেষণের বিষয়:

১. ছিঁচকে চোর থেকে ছাত্রদলে, মাদক কারবারি হয়ে শ্রমিক লীগে। রাজধানী ঢাকার তেজগাঁও থানার শ্রমিক লীগের এক নেতা সম্পর্কে এই শিরোনাম করেছে দৈনিক ইত্তেফাক। কী বলবেন আপনি?

২. পাকিস্তান সফর করলেন ইরানের চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান এবং এই সফরে তিনি পাক সেনাপ্রধানসহ শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। ইরানি সেনাপ্রধানের এই সফরের গুরুত্ব কী?

বিশ্লেষণের বাইরে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খবর:

চাঁদপুরে সংঘর্ষ, নিহত ৩,তদন্ত কমিটি গঠন-মানবজমিন

কুমিল্লায় পূজামন্ডপে কোরআন পাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ বাজারে পুলিশ ও বিক্ষুব্ধ জনতার মাঝে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত তিনজনের জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনা তদন্তে আজ বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসন পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাজীগঞ্জে ১৪৪ ধারা জারি রয়েছে। একই সঙ্গে ওই রাতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে দুই প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ ।

বুধবার রাতে চাঁদপুর জেলা হাজিগঞ্জ উপজেলার হাজীগঞ্জ বাজারে এ ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় গুলিতে ৩ জন নিহত হয়েছেন।

নিহতরা হলেন- বাবলু (২৮), আল আমিন (১৮) ও হৃদয় (১৪) নামে এক কিশোর। এছাড়া পুলিশ-জনতাসহ ৩৫-৪০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ফাঁকা গুলি ও টিয়ারশেল ছুড়েছে বলে জানা যায়। এদিকে, সহিংস পরিস্থিতিতে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত হাজীগঞ্জ পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে প্রশাসন। পরিস্থিতি শান্ত করতে হাজীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান গাজী মো. মাঈনুদ্দিন, পৌর মেয়র আসম মাহবুব উল আলম লিপনসহ নেতারা ও পুলিশ প্রশাসন প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। হাজীগঞ্জ থানার ওসি হারুনুর রশিদ বলেন, আমরা পরিস্থিতি সামাল দিতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। হামলাকারীদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মিলন মাহমুদ বলেন, মৃত্যুর কথা জেনেছি। তবে সংখ্যা নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। পরিস্থিতি বর্তমানে ভালো রয়েছে। হাজীগঞ্জ থানার ওসি হারুনুর রশিদ জানান, হাজীগঞ্জ বাজার পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

যুগান্তরের খবর‘উসকানি দিয়ে’ মন্দিরে হামলা এবং ভাঙচুরের ঘটনায় ৪৩ জনকে আটক করা হয়েছে। কুমিল্লা ও চট্টগ্রাম রেঞ্জের বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আনোয়ার হোসেন কুমিল্লার নানুয়া দিঘীর পাড় পূজা মণ্ডপ পরিদর্শনে আসেন। এ সময় সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানান।তিনি বলেন, উসকানি দেওয়ার জন্য ষড়যন্ত্রমূলকভাবে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে।

তিনি বলেন, কুমিল্লা ছাড়া আর যেখানে যেখানে হামলার ঘটনা ঘটেছে সব জায়গায় পুলিশ তৎপর রয়েছে। প্রতিটি ঘটনাতেই মামলার প্রস্তুতি চলছে। এখন পর্যন্ত মোট ৪৩ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। 

মণ্ডপ পরিদর্শনে গিয়ে জাতীয় সংসদের হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন বলেন, আমি দেশবাসীকে অনুরোধ করব আপনারা শান্ত থাকুন, কোনো উসকানিতে কান দেবেন না। এসব ঘটনা যারা ঘটিয়েছে তাদের অবশ্যই আইনের আওতায় আনা হবে। আপনারা আস্থা রাখুন। 

দুরভিসন্ধির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী-সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছ্নে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সারা দেশের প্রশাসনকে সাম্প্রদায়িক অপশক্তির উসকানিমূলক তৎপরতা ও ষড়যন্ত্রমূলক দুরভিসন্ধির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন। সবাই সতর্ক অবস্থানে থাকবে।

বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি তারা চায় না: তথ্যমন্ত্রী-কালের কণ্ঠ

কুমিল্লায় পবিত্র কোরআন শরীফ অবমাননার খবরের পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য আছে বলে মনে করেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হাছান মাহমুদ। তিনি বলেন, একটি মহল যারা এই দেশের বিরুদ্ধাচারণ করেছিল, তারা দেশের উন্নয়ন-অগ্রগতির বিরুদ্ধে সব সময় ষড়যন্ত্র করছে। বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি থাকুক তারা তা চায় না। সেজন্য নানা সময়, নানা ধরনের গুজব রটাচ্ছে।আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি একথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খিস্ট্রান সবার রক্তস্রোতের বিনিময়ে এই দেশ রচিত হয়েছে। একটি অসাম্প্রদায়িক দেশ রচনার জন্য বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। কিন্তু একটি মহল যারা এই দেশের বিরুদ্ধাচারণ করেছিল, তারা দেশের উন্নয়ন-অগ্রগতির বিরুদ্ধে সব সময় ষড়যন্ত্র করছে। বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি থাকুক তারা তা চায় না। সেজন্য নানা সময়, নানা ধরনের গুজব রটাচ্ছে।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ছোটখাট ঘটনা ঘটিয়ে সেটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের অপচেষ্টা করা হয়েছে। গত কয়েক বছরের এমন ঘটনা বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এর পেছনে হীন উদ্দেশ্য ছিল, সরকার যেগুলো কঠোর হাতে দমন করেছে।

তিনি বলেন, কুমিল্লায় দীঘির পাড়ে যে মন্দিরে কোরআন শরীফ পাওয়ার গুজব ছড়ানো হচ্ছে, সেখানে অত্যন্ত শান্ত একটি পরিবেশ, হিন্দু-মুসলিম সবাই মিলে যুগ যুগ ধরে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করছে। সেখানে রাতের বেলা মন্দির বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল, কোনো মানুষ ছিল না, লাইটও বন্ধ ছিল। সেই পরিস্থিতিতে কে বা কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে পুলিশ তদন্ত করছে।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমি নিশ্চিত, কারা ঘটিয়েছে সেটি খুব সহসাই বের হবে এবং তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হবে। উদ্দেশ্য পরিষ্কার, এটি যারা করেছে তারা আবার সেখানকার পুরোহিত যখন বললেন এটি সরিয়ে ফেলুন সেটি না করে তারা পুলিশে খবর দিয়েছে, সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা তৈরি করার চেষ্টা করেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে সারা দেশে সাম্প্রদায়িক উস্কানি দিয়েছে। এতেই প্রমাণ হয় যে একটি মহল যারা সব সময় এই দুস্কর্মে যুক্ত তারা এ ঘটনাটি ঘটিয়েছে। পুলিশসহ অনেকগুলো সংস্থা তদন্ত করছে, তদন্তে তা বেরিয়ে আসবে। ’

তথ্যমন্ত্রী বলেন, এটির পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য আছে। শেখ হাসিনাকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হয়ে একটি মহল সব সময় গুজব রটানোয় লিপ্ত আছে। তারা সবসময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে গুজব রটিয়ে দেশের সম্প্রীতি শান্তি বিনষ্টের অপকর্মে লিপ্ত আছে।

তিনি বলেন, পদ্মাসেতুর পিলার স্থাপনের কাজ শুরুর পর গুজব রটিয়ে দেওয়া হয় সেখানে নরবলি দিতে হবে। এজন্য সারা দেশে ছেলেধরার গুজব ছড়িয়ে দেওয়া হলো। অনেকগুলো নিরীহ মানুষ হত্যার শিকার হলো। এটি কারা করেছে? যারা বলেছিল পদ্মাসেতু এ সরকার করতে পারবে না, এ সরকারের আমলে কখনো পদ্মাসেতু হবে না। যারা পদ্মাসেতুর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছিল, বিশ্ব ব্যাংককে তার সঙ্গে যুক্ত করেছিল। পরে বিশ্ব ব্যাংক কানাডার আদালতে হেরে যাওয়ায় প্রমাণ হয়েছে সব অভিযোগ অসত্য, সেই একই মহল এ গুজবও ছড়িয়েছে। এটিকে কেন্দ্র করে যে উত্তেজনা ছড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছিল পুলিশ তা কঠোর হাতে দমন করেছে।

কুমিল্লায় পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আছে জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, আমি জনগণকে অনুরোধ জানাব কোনো গুজবে কান দেবেন না, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা ধরনের গুজব ছড়ানো হয়, বিভ্রান্ত হবেন না। যারা গুজব ছড়ানোর চিন্তা করছেন ও করেছেন সবাইকে চিহ্নিত করা হবে। ভবিষ্যতে কেউ যদি এনিয়ে গুজব ছড়ায় তাদেরকে চিহ্নিত করা হবে।

তিনি বলেন, ‘আমি হিন্দু সম্প্রদায়কে অনুরোধ জানাব, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে, আপনারা নির্বিঘ্নে, নির্ভয়ে পূজা উৎসব পালন করুন, সরকার, জনগণ আপনাদের পাশে আছে। দুস্কৃতিকারীদের নিবৃত করতে আমরা বন্ধপরিকর।’

কুমিল্লার ঘটনা স্বার্থান্বেষী মহলের গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী-কালের কণ্ঠ

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, কুমিল্লায় পবিত্র কোরআন শরিফ অবমাননার ঘটনা উদ্দেশ্যমূলক। তিনি বলেন, একটি স্বার্থান্বেষী মহল গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে ঘটনাটি ঘটিয়ে থাকতে পারে বলে মনে করেন তিনি। আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, ঘটনার পেছনে কারা জড়িত, তা তদন্তের মাধ্যমে বের করা হবে। এ ঘটনায় যারা জড়িত তাদের সবাইকে আমরা অবশ্যই খুঁজে বের করব। এ ছাড়া কুমিল্লায় হামলার ঘটনায় সন্দেহভাজন কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমরা কয়েকজনকে চিহ্নিত করেছি, আমাদের গোয়েন্দা সংস্থা তাদের শনাক্ত করে শিগগির গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হবে বলে মনে করছি।’

তিনি আরো বলেন, ‘ইতিমধ্যে আমাদের গোয়েন্দা সংস্থা, নিরাপত্তা বাহিনী, সেখানে যারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে, তাদের নিয়ন্ত্রণ করার জন্য ব্যবস্থা নিয়েছে। কুমিল্লার এ দুঃখজনক ঘটনায় যারা জড়িত, তাদের অবশ্যই খুঁজে বের করব।’

দৃষ্টি ভিন্ন খাতে নিতে কুমিল্লার ঘটনা ঘটানো হয়েছে: ফখরুল-প্রথম আলো

জনগণের দৃষ্টি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে কুমিল্লার ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘দেশে নানা সমস্যা রয়েছে। সেখান থেকে জনগণের দৃষ্টি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে কুমিল্লার ঘটনা ঘটিয়েছে। আমরা এ ঘটনায় জড়িতদের অবিলম্বে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।’ আজ বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে জাতীয়তাবাদ সমবায় দলের ১১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় মির্জা ফখরুল ইসলাম এই অভিযোগ করেন।

বিএনপির এই নেতা আরও অভিযোগ করেন, সরকার দেশের স্থিতিশীলতা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে তার সংস্থা দিয়ে কুমিল্লার ঘটনা ঘটিয়েছে।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘আমাদের সংকট কী? সংকট গণতন্ত্রের, সুষ্ঠু নির্বাচনের, ভোটাধিকারের, যা তারা হরণ করছে, একনায়কতন্ত্র কায়েম করে ক্ষমতা দখল করে আছে।’ জাতীয় প্রেসক্লাবে রাজনৈতিক সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করার সমালোচনা করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘ক্রমেই সরকার গণতান্ত্রিক স্পেস সংকুচিত করছে। পল্টন ময়দান, মানিক মিয়া এভিনিউ, মুক্তাঙ্গনসহ সভা-সমাবেশের জায়গা সংকুচিত করে ফেলছে সরকার। এখন প্রেসক্লাবও বন্ধ করে দিল।’

গ্যাসের আবাসিক গ্রাহক ৪৩ লাখ, মিটারে মাত্র সাড়ে ৩ লাখ-প্রথম আলো

রাজধানীর মিরপুরের বাসিন্দা রোকন উজ জামান। দুই চুলা জ্বালাতে গ্যাসের জন্য মাসপ্রতি তাঁর খরচ পাঁচ শ থেকে সাড়ে পাঁচ শ টাকা। তিনি বলেন, গ্যাসের মিটার বসানোর পর মাসে গড়ে চার শ টাকা করে সাশ্রয় হচ্ছে। আগে গ্যাস ব্যবহার না করলেও বিল দিতে হতো ৯৫০ টাকা। 

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের প্রিপেইড মিটার ব্যবহার করে দুই চুলা জ্বালানো অন্তত ১০ জন গ্রাহকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, সবার অভিজ্ঞতা প্রায় একই। অথচ যাঁদের মিটার নেই, তাঁরা চুলা না জ্বালালেও ৯৫০ টাকা দিচ্ছেন প্রতি মাসে। 

এ কারণেই যত দ্রুত সম্ভব গ্যাসের প্রিপেইড মিটার চালুর দাবি গ্রাহকদের। বর্তমানে সারা দেশে এ খাতে আবাসিক গ্রাহক আছেন প্রায় ৪৩ লাখ। এর মধ্যে গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রিপেইড মিটার পেয়েছেন মাত্র ৩ লাখ ৬২ হাজার ৫০ জন গ্রাহক।

বিতরণ কোম্পানির কর্মকর্তারা বলছেন, অর্থায়নের অভাবে মিটার চালুর প্রকল্প নেওয়া যায়নি। এখনো একাধিক প্রাক্‌-প্রকল্প প্রস্তাব অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগে (ইআরডি) আটকে আছে।

ধীরগতি নিয়ে ক্ষোভ

বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ করপোরেশনের (পেট্রোবাংলা) অধীনে দেশে গ্যাস বিতরণকারী কোম্পানি আছে ছয়টি। এই কোম্পানিগুলোর মিটার স্থাপনের কাজ করার কথা। এগুলো হলো তিতাস গ্যাস, কর্ণফুলী ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড, জালালাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন ও ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম লিমিটেড, বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড, পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড এবং সুন্দরবন গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড। এর মধ্যে তিতাস ঢাকার গ্রাহকদের গ্যাস সরবরাহ করে। এ ছাড়া কর্ণফুলী চট্টগ্রামে, জালালাবাদ সিলেটে, বাখরাবাদ কুমিল্লা অঞ্চলে, পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস সিরাজগঞ্জ অঞ্চলে এবং সুন্দরবন খুলনা অঞ্চলে গ্যাস সরবরাহ করে থাকে।

২০২৫ সালের মধ্যে আবাসিক গ্রাহকদের শতভাগ প্রিপেইড মিটারের আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে সরকার। ২০১১ সালের শুরুর পর গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ঢাকায় তিতাস ৩ লাখ ২ হাজার ৫০টি মিটার স্থাপন করেছে। আর চট্টগ্রামে কর্ণফুলী ৬০ হাজার গ্রাহককে মিটার দিয়েছে। বাকি চারটি কোম্পানি কোনো মিটার দিতে পারেনি। এই হিসাবে দেশে ১০ বছরে মিটারের আওতায় এসেছেন মাত্র ৮ শতাংশের কিছু বেশি গ্রাহক।

বিতরণ কোম্পানির কর্মকর্তারা বলছেন, অর্থায়নের অভাবে মিটার দেওয়া যায়নি। তিতাসের ১২ লাখ ৪৯ হাজার মিটার বসানোর দুটি প্রকল্প অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগে (ইআরডি) আটকে আছে। এ ছাড়া বাখরাবাদের দুটি প্রকল্প ও পশ্চিমাঞ্চলের একটি প্রকল্প অর্থায়নের অভাবে আটকে আছে। তবে কর্ণফুলী নিজস্ব অর্থায়নে ১ লাখ মিটার ও জালালাবাদ নিজস্ব অর্থায়নে ৫০ হাজার মিটার বসানোর কাজ শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন কোম্পানি দুটির কর্মকর্তারা।

বাংলাদেশের বাজার হারানোয় বিপন্ন এপার বাংলার চ্যানেল, পুজোর পরেই বৈঠক-মানবজমিন

বিজ্ঞাপন বিপণনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের বাজার হারানোয় সংকটে বাংলা টেলিভিশন চ্যানেলগুলি। স্টার বাংলা ও জি বাংলার মিঠাই, অপরাজিতা অপু, দাদাগিরিসহ রিয়েলিটি শোগুলি বাংলাদেশ সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী প্রদর্শন নিষিদ্ধ হয়ে গেছে। ফলে, বাংলাদেশের বিশাল বাজার হারাচ্ছে ভারতীয় চ্যানেলগুলি এবং বিজ্ঞাপনদাতারাও। অনেকেই বাংলাদেশের বাজার হারানোয় বিজ্ঞাপনের রেট কম করতে চাইছেন। এই অবস্থায় বিপাকে চ্যানেলগুলো। দুর্গাপুজোর পরই স্টেকহোল্ডারদের নিয়ে একটি বৈঠকের আয়োজন হতে চলেছে। বৃহত্তর এম এস ও সংস্থা সিটি কেবল এর কর্ণধার সুরেশ শেঠিয়া বুধবার মানবজমিনকে বলেন, পরিস্থিতির দিকে তারা নজর রাখছেন। যা হওয়ার তা পুজোর পরে হবে। চ্যানেল কর্তৃপক্ষদের একটি অংশ চাইছেন, বাংলার মুখ্যমন্ত্রী যদি বিষয়টি নিয়ে একবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে কথা বলেন। কিন্তু, প্রোটোকল অনুযায়ী তা কি সম্ভব। এই প্রশ্নও উঠেছে।

এবার ভারতের কয়েকটি খবরের বিস্তারিত:

লখিমপুর খেরি নিয়ে মুখ খুলেও অমর্ত্যকে নিশানা- এ শিরোনামের খবরে দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা লিখেছে,উত্তরপ্রদেশের লখিমপুর খেরির হিংসার ঘটনায় আট জনের মৃত্যুর পর ১০ দিন পার হয়ে গেছে। এখনও পর্যন্ত এ নিয়ে টু শব্দ শোনা যায়নি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের মুখ থেকে। কিন্তু আমেরিকা সফরে গিয়ে সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের মুখে পড়ে গেলেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন।জানালেন কৃষক হত্যার ঘটনা অবশ্যই নিন্দনীয়।কিন্তু একইসঙ্গে জুড়ে দিলেন বিরোধী শাসিত রাজ্যগুলোর অশান্তির ঘটনাকে। তিনি এসময় নোবেল জয়ি অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনকে ইঙ্গিত করে বলে পণ্ডিত মানুষের অনেক নিজেদের পছন্দের অপছন্দের মধ্যে বন্দি হয়ে থাকেন। আসল তথ্য তারা বিশ্লেষণ করেন না।

সংবাদ প্রতিদিনের খবর লখিমপুর কাণ্ডে জামিন পেলেন না স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর ছেলে আশিস মিশ্র।গতকাল জামিনের আবেদন খারিজ করে দেয় আদালত।সরকারি আইনজীবী এসপি যাদব-জামিনের জন্য আবদেন জানালে বিচারপতি চিন্তারাম তার সেই আরজি নাকচ করে দেয়। এদিকে লাখিমপুর খেরির ঘটনায় আরও এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঐ ঘটনায় এখন পর্যন্ত চারজন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। উল্লেখ্য লাখিমপুরের ঘটনায় রীতিমতো মুখ পুড়েছে দেশের শাসকদলের।

প্রমোদ তরীতে ছিলেন না আরিয়ান, দাবি আইনজীবীর, যদিও জামিন অধরাই- -আজকাল

২ অক্টোবর যে প্রমোদতরীতে এনসিবি তল্লাশি চালিয়েছিল , তাতে ছিলেনই না আরিয়ান। তার তাঁর বিরুদ্ধে মাদক পাচার, সেবনের অভিযোগ অবাস্তব। আদালতে একথা বলেন আরিয়ানের আইনজীবী। যদিও শুনানি শেষ হলো না তাই আজও মিলল না জামিন।আরিয়ানের হয়ে সওয়াল করেন অমিত দেশাই। তিনি বলেন,এনসিবি যখন তল্লাশি চালায় তখন আরিয়ান সেখানে ছিলেন না,তার কাছে কোনো মাদক পাওয়া যায়নি।তাই মাদক পাচারের অভিযোগ অবাস্তব। তবে এনসিবি বলেছে-আরিয়ান স্বীকারোক্তিতে বলেছে তিনি চরস নিতেন। এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে দেশাই বলেন,নিজেদের হেফাজতে রেখ চাপ দিয়ে এসব বয়ান দিতে বাধ্য করা হয়েছে।# 

পার্সটুডে/গাজী আবদুর রশীদ/১৪

ট্যাগ