অক্টোবর ২২, ২০২১ ১৩:০১ Asia/Dhaka

রংধনু আসরের কাছের ও দূরের শিশু-কিশোর বন্ধুরা, কেমন আছো তোমরা? আশা করি যে যেখানে আছো ভালো ও সুস্থ আছো। আজও উপস্থাপনায় রয়েছি আমি গাজী আবদুর রশিদ এবং আমি আকতার জাহান। আর প্রত্যেক আসরের মতো এ অনুষ্ঠানটিও গ্রন্থনা ও প্রযোজনা করেছেন আশরাফুর রহমান।

আকতার জাহান: বন্ধুরা, তোমরা নিশ্চয়ই জানো যে, আরবী রবিউল আউয়াল মাসের ১২ তারিখ মতান্তরে ১৭ তারিখে পৃথিবীতে এসেছিলেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব বিশ্বনবী হযরত মুহম্মদ (সা.)। তাঁর আগমনে ধন্য হয়েছিল পৃথিবী ও মানবসমাজ। কারণ, অন্ধকারের ঘনঘটা দূর করে গোটা পৃথিবীকে হেরার আলোয় উদ্ভাসিত করেছিলেন তিনি।

গাজী আব্দুর রশীদ: হযরত মুহাম্মদ (সা.) ছিলেন অনুপম চরিত্রের অধিকারী। তাঁর গোটা জীবনই মানবজাতির জন্য অনুকরণীয় আদর্শ। শিশুসহ সকল বয়সী মানুষের কাছেই রাসূল তিনি ছিলেন অত্যন্ত প্রিয়। তাঁর নিষ্কলুষ চরিত্রে সকল প্রকার গুণ ও মহত্ত্বের ছাপ পরিস্ফুটিত হয়েছে। তার স্বভাবজাত সদাচার, কোমলতা, মহানুভবতা, কর্তব্যনিষ্ঠা, ন্যায়পরায়ণতা ও সহিষ্ণুতা ছিল সত্যিই বিস্ময়কর।

আকতার জাহান: বন্ধুরা, বিশ্ব মানবতার মুক্তির দূত রাসুলে খোদার শুভ জন্মদিন তথা ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে তোমাদের জন্য একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছি। এতে গান, কবিতার পাশাপাশি নবীজির প্রতি ভালোবাসার অনুভূতি প্রকাশ করতে অংশ নিয়েছে ইরান ও বাংলাদেশের চারজন বন্ধু। তাহলে আর কথা না বাড়িয়ে অনুষ্ঠান শুরু করা যাক।

গাজী আব্দুর রশীদ: বন্ধুরা, তোমরা নিশ্চয়ই শুনেছো যে, বিশ্বনবী (সা.)’র জন্মের সময় বেশকিছু অলৌকিক ঘটনা সংঘটিত হয়েছিল।  তাঁর জন্মের দিন ভোর বেলায় বিশ্বের সবগুলো মূর্তি মাটির দিকে নত হয়ে পড়ে। সেদিনই ইরানি সম্রাটের প্রাসাদের খিলান আকৃতির তোরণ মাঝখান দিয়ে ভেঙ্গে যায় এবং ছাদের ১৪টি প্রাচীর ধসে পড়ে।

আকতার জাহান:  ইরানের সভে অঞ্চলে একটি হ্রদ ছিল। বহু বছর ধরে ওই হ্রদের পূজা করা হতো। মহানবীর জন্মকালে ওই হ্রদটি তলিয়ে শুকিয়ে যায়। কুফা ও সিরিয়ার মধ্যবর্তী সামাভে অঞ্চলটি বহু বছর ধরে প্রচণ্ড খরায় শুকিয়ে পানিশূন্য হয়ে পড়েছিল। নবীজীর জন্মের সময় সেখানে পানির প্রবাহ সৃষ্টি হয়।

গাজী আব্দুর রশীদ:  শুধু তাই নয়, রাসূল (সা.)-এর জন্মের রাতে বর্তমান ইরানের শিরাজ শহর সংলগ্ন ফার্স অঞ্চলের অগ্নি উপাসনালয়ের আগুন নিভে গিয়েছিল। অথচ ওই আগুন এক হাজার বছর পর্যন্ত প্রজ্বলিত ছিল। রাসুলের জন্মের রাতে হিজাজ বা বর্তমান সৌদি আরব থেকে একটি আলো দেখা যায় এবং তা সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। এইসব অলৌকিক ঘটনা কবি কাজী নজরুল ইসলামের কল্পনারাজ্যে যে চিত্ররূপে ধরা দিয়েছে, তা লক্ষ্য করা যাবে তাঁর একটি বিখ্যাত গানে।  

তোরা দেখে যা, আমিনা মায়ের কোলে

তোরা দেখে যা, আমিনা মায়ের কোলে

মধু পূর্ণিমারই সেথা চাঁদ দোলে

যেন ঊষার কোলে রাঙা রবি দোলে

তোরা দেখে যা, আমিনা মায়ের কোলে

তোরা দেখে যা, আমিনা মায়ের কোলে

আকতার জাহান: বাংলাদেশি শিশুশিল্পী রাইশার চমৎকার কণ্ঠে গানটি শুনলে। বন্ধুরা, আমরা আগেই বলেছি যে, আজকের অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন ইরান ও বাংলাদেশের একঝাঁক বন্ধু। প্রথমেই তাদের পরিচয় জানা যাক। 

গাজী আব্দুর রশীদ: অয়ন, তাসমিয়া, ইরফান ও অনাহিতা- তোমাদের সবাইকে আজকের এই বিশেষ অনুষ্ঠানে স্বাগত জানাচ্ছি। প্রথমেই অয়নের কাছে জানতে চাচ্ছি- তুমি কেন মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে ভালোবাসো?

আকতার জাহান: নবীজিকে ভালোবাসার বেশকিছু কারণ উল্লেখ করল শাদমান হোসেন অয়ন। একই বিষয়ে তাসমিয়ার কথাগুলো শোনা যাক-

গাজী আব্দুর রশীদ: তাসমিয়ার পর আমরা ইরফানুল হকের কাছ থেকে জানতে চাই- মুহাম্মদ (সা.)-কে সে কেন ভালোবাসে?

আকতার জাহান: বন্ধুরা, রাসূলেখোদাকে ভালোবাসার যৌক্তিকতা সম্পর্কে ইরফান, অয়ন ও তাসমিয়ার কাছ থেকে চমৎকার কিছু কথা শুনলে। আশা করি তোমাদের ভালো লেগেছে।

গাজী আব্দুর রশীদ: অনুষ্ঠানের এ পর্যায়ে আমরা বিশ্বনবীকে নিবেদিত কয়েকটি কবিতা ও একটি গান শুনব আসরে অংশগ্রহণকারী বন্ধুদের কাছ থেকে। প্রথমেই অয়নের কবিতা। 

আকতার জাহান: অয়নের পর আমরা যাচ্ছি তাসমিয়ার কাছে। সে শোনাবে- বিশ্বনবীর আগমন উপলক্ষে একটি কবিতা।  

গাজী আব্দুর রশীদ: বন্ধুরা, এবারে রয়েছে মহানবীকে নিয়ে ইরানি কবি শেখ সাদীর একটি ফার্সি কবিতা। আর আবৃত্তি করছে আসরের বন্ধু অনাহিতা।

আকতার জাহান: অনাহিতার চমৎকার বাচনভঙ্গিতে কবিতাটি শুনলে। বন্ধুরা, তোমাদের বোঝার সুবিধার্থে কবিতাটির বাংলা আমি পড়ে শোনাচ্ছি।

‘মহান স্বভাব চরিত্র মধুর

উম্মতের কাণ্ডারী নবী বিভুর,

রাসূলগণের নেতা, পথের দিশারী

খোদার বিশ্বস্ত জিবরাইলের মনযিল।

সৃষ্টলোকের সুপারিশকারী, পুনরুত্থান দিবসের সরদার

হেদায়াতের ইমাম, বিচার দিনের নেতা।

নভোমণ্ডল যার তুর পাহাড় আল্লাহর সাথে করতে আলাপ,

সকল আলো তাঁরই নূরের বিকিরিত আলোর ছটা।’

গাজী আব্দুর রশীদ: বন্ধুরা, বাংলা ও ফার্সি কবিতার পর এবারে তোমাদের জন্য রয়েছে একটি আরবী নাতে রাসূল। গেয়ে শোনাচ্ছে আসরের বন্ধু ইরফানুল হক।

আকতার জাহান: ইরফানের চমৎকার কণ্ঠে নাতে রাসূলটি শুনলে। তো বন্ধুরা, দেখতে দেখতে আমাদের আজকের সব আয়োজন এক এক করে ফুরিয়ে এলো। অনুষ্ঠানটিতে অংশ নেওয়ার জন্য ইরফান, অয়ন, তাসমিয়া ও অনাহিতাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।

গাজী আব্দুর রশীদ: আর বন্ধুরা, তোমরা সবাই বিশ্বনবীর আদর্শ অনুযায়ী নিজেদের জীবন গড়ার চেষ্টা করবে- এ আহ্বান জানিয়ে এবং সবাইকে আবারো পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবীর শুভেচ্ছা জানিয়ে গুটিয়ে নিচ্ছি রংধনুর আজকের আসর।#

পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/২২

 

 

ট্যাগ